«

»

ওয়ার্ডপ্রেস টিউটোরিয়াল পর্ব 2 [ডোমেইন এবং হোষ্টিং]

 

ওয়ার্ডপ্রেস টিউটোরিয়াল পর্ব 1

গত পর্বে আলোচনা করেছিলাম ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে। ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করতে হলে প্রথমে আমাদেরকে যে দুটি বিষয় জানতে হবে তা হল ডোমেইন এবং হোষ্টিং।

ডোমেইন নেম কি ?

আপনার অফিসে যদি কেউ আসতে চায়, তবে তাকে এর ঠিকানা জানতে হবে । ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে এই ঠিকানাটা হচ্ছে তার নাম যাকে বলা হয় ডোমেইন নেম । এই ডোমেইন নেমই আপনার ওয়েবসাইটকে অনন্যভাবে আইডেন্টিফাই করবে । বিশ্বের সবাই ওয়েবসাইটটিকে চিনবে এবং একসেস করবে এ নাম ব্যবহার করে ।এটি একটি নাম যা দ্বারা এক বা একাধিক কমপিউটার কে ইন্টারনেট এ চেনা যায়। ইন্টারনেটে কোন ওয়েবসাইট কে চিনবার জন্য বা দেখবার জন্য যে ঠিকানা ব্যবহার করা হয় তাকেও ডোমেইন নাম বলা হয়।

ডোমেইন নেম সিস্টেম (DNS) কি ?

কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সফটওর্য়ার কিন্তু কোনো ডোমেইন নেমকে সরাসরি বুঝে না । সে বুঝে নেটওর্য়াক অ্যাড্রেস বা আইপি অ্যড্রেস । তাই প্রত্যেক ডোমেইন নেমের সাথে একটা আইপি অ্যাড্রেস এসাইন করা হয় । ডোমেইন নেম ব্যবহার না করে এ আইপি অ্যড্রেস দিয়েও সরাসরি ওযেবসাইটটিতে যাওয়া যায় । আইপি অ্যাড্রেস মনে রাখা বেশ কঠিন, সাধারণত ১২ অংকের সংখ্যা হয় । তাই বাস্তবে সবাই ডোমেইন নেম ব্যবহার করে।

কিন্তু আপনার কম্পিউটারের আইপি অ্যাড্রেস জানা দরকার যে কোন ধরনের কমিউনিকেশনের জন্য । সর্বপ্রথম নেটওর্য়াক ARPANET -এর সময় host.txt নামে একটা ফাইলে সব কম্পিউটারের নাম আর তার আইপি অ্যাড্রেস লিখে রাখা হত । যখন নেটওয়ার্কে কোটি কোটি কম্পিউটার থাকে, তখন এভাবে আইপি অ্যাড্রেস লিখে রাখা সহজ কথা নয় । কারন প্রতিনিয়ত আইপি অ্যড্রেস সংযুক্ত হয় এবং পরিবর্তিত হয় । এ সমস্যার সমাধানে ধারাবাহিক, ডায়নামিক এবং ডিস্ট্রিবিউটেড ডাটাবেজ সম্বলিত একটা সিস্টেম দাঁড় করানো হয়েছে, যাকে বলা হয় ডোমেইন নেম সিস্টেম ।

ডোমেইন নেমকে কতগুলো লেভেলে ভাগ করা হয়ে থাকে । প্রায় ২৪০ টি টপ লেভেল ডোমেইন আছে, বাকি সবই থাকে এদের অধীনে একটা ট্রি স্ট্যাকচারে । ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে প্রায় ১৯ টি টপ লেভেল ডোমেইন আছে । এর মধ্যে সাধারণ সব ওয়েবসাইটের জন্য .com, ব্যবসায়িক ওয়েবসাইটের জন্য .biz, খবর ও অনান্য ইনফরমেশন সাইটের জন্য .info, নন প্রফিটেবল অর্গানাইজেশনের জন্য .org, অনলাইন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানেনর জন্য .net। আবার প্রায় প্রত্যেক দেশের রয়েছে নিজস্ব টপ লেভেল ডোমেইন, যেমনঃ ব্রিটেনের .uk, জাপানের .jp, যুক্তরাষ্টের .us বাংলাদেশের .bd ইত্যাদি । আরও একটি সুখবর হল সম্প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ডোমেইন এর জন্য আবেদন করেছেন। ফলে আমরা এখন বাংলাতে ডোমেইন লিখতে পারব। যেমন: www.বাংলাদেশ.com। এর আগে বাংলায় পরীক্ষা মূলক ডোমেইনও চালু করা হয়েছে। দেখুন: http://বাংলা.idn.icann.org/ পরিক্ষামূলক ওয়েব সাইট টি ফায়ারফক্স এবং ক্রোম থেকে স্বাভাবিক ভাবেই দেখা যাবে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার দিয়ে ব্রাউজ করতে ভাষার সেটিংস পরিবর্তন করে বাংলা অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

আমি কোন ধরনের ডোমেইন নিব?

আপনি যেকোন ধরনের ডোমেইন নিতে পারেন। আপনি আগে আপনার ডোমেইন নেম টা নির্বাচন করুন এরপর আপনার ডোমেইন নেম সার্চ চেক করে দেখুন ফাকা আছে কি না। যদি ফাকা থেকে আপনি এটা ইন্টারনেট থেকে ডোমেইন টা কিনতে পারবেন । অনলাইন এ ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করার করার একটা জনপ্রিয় সাইট হল www.godaddy.com , www.smallbusiness.yahoo.com , www.bluehost.com । এগুলো থেকে ডোমেইন নেম করতে আপনার আপনার খরজ হবে ৭-১০ ডলারের মত যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬০০-৭০০ টাকা । এবং প্রতি বছর এর রেনু ফি ৭-১০ ডলার অর্থাৎ আপনার প্রতি বছর ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৭০০ টাকা । খূব একটা বেশি না । আর আপনি অনলাইনে এই ডোমেইন নেম কিনতে আপনাকে পেপাল বা ভিসা কার্ড ,মার্স্টার কার্ড ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া এ ব্যবস্থা না থাকলে আপনি বাংলাদেশী কোম্পানি গুলো হতে আপনি বাংলাদেশী টাকায় ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন । www.technobd.com , www.host4bd.com , www.ancbd.com , www.hostbangla.com , www.w3hostbd.com ইত্যাদি । আর আপনি যদি ফ্রী ডোমেইন নেম ব্যবহার করে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট চালু করতে চান তাহলে তাহলে আপনি www.co.cc তে দেখতে পারেন । এটা এদের সেবা অনেক ভাল। তাছারা আপনি www.dot.tk , www.nic.cz.cc দেখতে পারেন এদের ও সেবা অনেক ভাল । তবে আমার কাছে www.co.cc টাই ভাল লেগেছে । এতখন তো বললাম ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন এর কথা, এবার আমি ডোমেইন নেম নেয়ার সময় যে দিক গুলোর কথা আপনার খেয়াল রাখতে হবে তা হল:

  • সবচেয়ে সহজ নামে ডোমেইন নেম নির্বাচন করুন যাতে আপনার ভিজিটররা সহজে আপনার ডোমেইন নেম টা মনে রাখতে পারে।
  • আপনার ডোমেইন নেম যাতে কোন বড় মানের ওয়েবসাইটের [www.google.com ,www.yahoo.com] সাথে মিলে না যায় । যেমন www.bdyahoo24.com , www.bdgoogle24.com ইত্যাদি। এতে আপনার ডোমেইন নেম সমস্যা হতে পারে এবং আপনার নামে বাতিল হতে পারে । তাই এ বিষয় টা মনে রাখবেন ।
  • ডোমেইন নেম বড় হলে এটা মনে রাখা কঠিন হতে পারে, তাই এই নামের মাঝে আপনি ডেশ [-] ব্যবহার করতে পারেন যেমন www.prothom-alo.com
  • ডোমেইন নেম বড় করা হতে বিরত থাকুন ।
  • আপনার কোম্পানীর নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আপনার ডোমেইন নাম ব্যবহার করুন।

হোস্টিং কি?

আপনার ওয়েবসাইটের জন্য আপনি যেই পি এইচ পি, এইচটিএমএল বা এ এস পি ফাইল লিখবেন সেগুলো অনলাইনে কোথাও রাখতে হবে যেখান থেকে আপনার দর্শণার্থীরা সহজেই সেগুলো দেখতে পারবেন। স্বাভাবিক ভাবেই, আপনি জানেন না ঠিক কখন তারা দেখতে চাইবে, সুতরাং ফাইল গুলো এমন একটা কমপিউটারে রাখতে হবে যেটি কিনা ২৪ ঘণ্টাই অনলাইনে থাকবে। শুধু তাই না, কমপিউটারটা এমন হতে হবে যাতে ইন্টারনেট সংযোগ যথেষ্ট উন্নত হবে। বাংলাদেশের ৪-৫ কিলোবাইট পার সেকেন্ড যদি হয়, তবেই সেরেছে!! এখন এমন একটা কমপিউটার না হয় যোগাড় করা গেলো, কিন্তু সে তো অনেক খরচের ব্যাপার! ২-৪ পাতার বায়োডাটা (কিংবা নন কমার্শিয়াল ফোরাম) দিতে এত খরচ কিভাবে বইবেন? সেখানেই আসে একদল মানুষের কথা যারা নিজেরা এইসব ব্যবস্থা করে দেয়। যেহেতু এরা আপনার ফাইল গুলোকে আদর -পরিচর্যা করছে সেহেতু এরা হলো হোস্ট। আর এরা যেই সেবা টা দিচ্ছে সেটাই হলো হোস্টিং সার্ভিস।

সার্ভার ?

হোস্টিং এর ব্যাপারে কথা বলতে গেলে শুরুতেই আসে সার্ভার শব্দটি। সার্ভার বলতে “সোজা কথায়” একটা সুপার কমপিউটার ( সাধারণ কমপিউটারেও সম্ভব কিন্তু ব্যয়বহুল) বুঝায়। এধরণের কমপিউটার সাধারণত বিশাল ডাটাসেন্টারে থাকে যেখানে বিশাল ডাটা স্টোরেজ থাকে (যেমন কয়েকশত টেরাবাইট বা এরকম)। এত বিশাল ব্যবস্থা থেকে আপনাকে একটা নির্দিষ্ট অংশ (বা ফোল্ডার ) দেয়া হয়। এভাবে অনেক ব্যবহারকারী একটা সার্ভারে ব্যবহার করলে সেটাকে শেয়ারড হোস্টিং সার্ভার বলা হয় (Shared Hosting Server)। এছাড়াও আছে ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার, ভার্চুয়াল ডেডিকেটেড সার্ভার এবং ডেডিকেটেড সার্ভার।

ওয়েব সার্ভারের অপারেটিং সিস্টেমঃ

এটা খুবই প্রয়োজনীয় একটি বিষয় । কারন, এর ওপর নির্ভর করে কোন ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সার্ভার ও কোন ধরনের ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করবেন । ওয়েব সার্ভারগুলোতে মূলত তিনটি অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার হয় : লিনাক্স, উইন্ডোজ আর ইউনিক্স । লিনাক্স নির্ভর অপারেটিং সিস্টেমে পিএইচপি, পার্ল, পাইথন এবং অন্যান্য ইউনিক্সভিত্তিক স্ক্রিপিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হয় । সাধারণত মাইএসকিউএল এবং পোষ্টপ্রিএসকিউএল ডাটাবেজ সার্ভার এক্ষেত্রে জনপ্রিয় । আর উইন্ডোজনির্ভর ডট নেট, এএসপি এবং মাইক্রোসফটের অন্যান্য টেকনোলজি ভালো সাপোর্ট করে । ইউনিক্সনির্ভর সার্ভারের ফিচারগুলো অনেকটাই নিনাক্স নির্ভর সার্ভারের মতোই । জেএসপি এবং ওরাকল-এর সাপোর্ট সব প্লাটফরমেই সম্ভব । সাধারণত দেখা যায় নিনাক্স বা ইউনিক্স নির্ভর সার্ভারে ওয়েব হোস্টিং খরচ উইন্ডোজ ভিত্তিক সার্ভারে হোস্টিংয়ের খরচ তুলনায় কিছুটা কম । কোন ধরনের প্লাটফরমে কাজ করবেন, তা আপনার প্রয়োজন ও ব্যবহার করা টেকনোলজির ওপর নির্ভর করবে ।

শেয়ারড নাকি ডেডিকেট সার্ভারঃ

মূলত দুই ধরনের হোস্টিং সার্ভিস আছে- শেয়ারড এবং ডেডিকেটেড । দাম ও পারফরমেন্সের বিশাল পার্থক্য জড়িত এখানে । শেয়ারড হোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে একই ওয়েব সার্ভারে একাধিক ওয়েবসাইটকে হোস্ট করা হয় । ফলে খরচ অনেক কম হয় । কিন্তু এর ফলে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি ও ব্যান্ডউইডথ সবার মধ্যে ভাগ হয়ে যায় । কারন, একটি সার্ভার সব ওয়েবসাইটের সব ভিজিটরকে হ্যান্ডেল করে । যদি আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর সংখ্যা এক হাজারের নিচে হয়, তাহলে এ ধরনের সার্ভিস বেছে নিতে পারেন । আর অন্য ধরনের সার্ভিস হলো ডেডিকেটেড হোস্টিং । এক্ষেত্রে একটি ওয়েব সার্ভারে শুধু একটি ওয়েবসাইই হোস্টিং করা হবে । ফলে স্টোরেজ, সিপিইই আর নেটওয়ার্কের পুরো ক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব হয় । এটি বেশ ব্যয়বহুল । প্রতিমাসে ন্যূনতম ৮০ থেকে ১০০ ডলার খরচ হয়ে থাকে ।

ম্যানেজড না আনম্যানেজডঃ

ডেডিকেটেড সার্ভার আবার দু’রকমের হয়ে থাকে: ম্যানেজড এবং আনম্যানেজড । ম্যানেজড সার্ভারের সব ঝামেলা হোস্টিং মোম্পানি নিজ দায়িত্বে সশাধান করে, আপনি শুধু অ্যাডমিন প্যানেলে গিয়ে বেসিক কনফিগারেশনটুকু করে দেবেন । যেমন ডোমেইন, মেইলবক্স সেটিংস ইত্যাদি । কিন্তু সার্ভার কনফিগার করা ও মেইনটেইর করার কাজগুলো হোস্টিং কোম্পানিই করে দেবে । আনম্যানেজড সার্ভারের ক্ষেত্রে সবকিছু আপনাকে ম্যানেজ করতে হবে । আপনি সার্ভার কনফিগার ও মেইটেইন করা, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইন্সটল করা, ডোমেইন কনফিগার করা, মেইলবক্স সেটিংস করা সবই করবেন । এমনকি সিস্টেম সফটওয়্যারকে নিয়মিত আপডেট করতে হবে, যেন তা হ্যাকারদের আক্রমনে না পড়ে । এ অপশনটুকু ইউনিক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ব্যবহারকারী লোকেদের জন্য । এটা তুলনামুলক অনেক কম খরচবহুল ।

আমি কোন হোষ্টিং নিব?

কোন হোস্টিং ভালো বা কোনটা খারাপ এমন প্রশ্নের কোন সোজা সাপ্টা জবাব নেই। আর কে কি ফ্রী দিল বা না দিল সেটার চেয়ে বড় বিষয় হলো মানটা কেমন? চরম সত্য কথাটা হলো এই যে, “এ জগতে কোন বাজারেই কেউ কাউকে ফাও কিছু দেয় না”। সুতরাং, কিভাবে বুঝবেন কোন হোস্টিং আপনার জন্য ভালো? কিছু মৌলিক বিষয় খেয়াল রাখুন:

  • অপারেটিং সিসটেম , র‍্যাম, প্রসেসর
  • ভৌগোলিক অবস্থান
  • ডাটা সেন্টারের পারফর্ম্যান্স
  • শেয়ারড হোসটিং স্ট্যাটাস
  • দাম
  • ডিস্ক স্পেস
  • ব্যান্ডউইডথ
  • সার্ভার টাইপ এবং কন্ট্রোল প্যানেল
  • ফাঁক ফোকর [যদি বাংলাদেশে হোস্টিং করান তাহলে হোস্টিং করানোর আগে কোন অভিজ্ঞ ডেভেলপারের সাথে পরামর্শ করে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।কারন পত্রিকায় যেমন নকল টিউশনির অফার থাকে তেমনি এই জগতেও অনেক নকল হোস্টিং কোম্পানি আছে।এদের কাছে গিয়ে যাই বলবেন প্রথমে হ্যা বলবে।কিছু টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর আসল কথাগুলো বলবে।]
  • ব্যবহারকারী মতামত

আপনি যদি সম্পূর্ণ নিজের আয়ত্বে ওয়েবসাইট নিতে চান তাহলে আপনার জন্য হল ডেডিকেটেড সার্ভার। আর যদি খরচের কথা চিন্তা করেন তাহলে নিবেন শেয়ারড হোস্টিং। আর যদি বলেন আমার কোন টাকা খরচ করব না 😉 তাহলে আপনাকে ফ্রি হোস্টিং প্রদান করে এমন প্রতিষ্টান খুজতে হবে। আর আমরা যেহেতু ওয়ার্ডপ্রেস সেটআপ করব তাই আমাদের দরকার হবে একটি লিনাক্স বা ইউনিক্স সার্ভার অথবা পিএইচপি এবং মাইএসকিউএল সাপোর্ট করে এই ধরনের হোষ্টিং সার্ভিস। আর কয়েকটি ফ্রি হোস্টিং সার্ভিস প্রদান করে এই রকম ঠিকানা হল: www.byethost.com , www.000webhost.com, www.hostfunbd.com, www.itechbangla.com, www.xtreemhost.com

এবার আসুন কিভাবে আপনি ডোমেইন এবং হোস্টিং সেটআপ করবেনঃ

প্রথমেই ডোমেইন ‍সেটআপ করব। ডোমেইন কি ফ্রি নিবেন নাকি কিনবেন সেটা আপনার উপর নির্ভর করছে। আমি এখানে কিভাবে ফ্রি ডোমেইন নিবেন সেটা আলোচনা করব। প্রথমে আপনি ফ্রি ডোমেইন প্রদান করে এই রকম একটা ওয়েবসাইট এ প্রবেশ করুন। ধরুন আপনি www.co.cc অথবা www.dot.tk ওয়েবসাইট থেকে ফ্রি ডোমেইন নিবেন। প্রথমে আমরা দেখব www.co.cc ওয়েবসাইট কিভাবে ডোমেইন রেজিষ্টেশন করব।

চিত্রের উপর ক্লিক করুন বড় করে দেখতে।

প্রথমে আপনার ডোমেইন নেম লিখুন তারপর check availability পরীক্ষা করুন যে এটা ফাঁকা আছে কিনা।

চিত্র বড় করে দেখতে চাইলে চিত্রের উপর ক্লিক করুন।

যদি আপনার ডোমেইনটি ফাঁকা থাকে তাহলে আপনি continue to registration এ ক্লিক করুন।

চিত্র বড় করে দেখতে চাইলে চিত্রের উপর ক্লিক করুন।

তারপর যদি আপনার আগে একাউন্ট করা থাকে অথবা রেজিষ্টেশন করা থাকে তাহলে সব ইনফরমেশন প্রদান করেন ক্যাপচা পূরন করে sign in এ ক্লিক করুন। নয়ত আপনি Create an account now এ ক্লিক করুন।

এখানে আপনি আপনার সকল ইনফরমেশন প্রদান করে রেজিষ্টেশন করে ফেলুন। তারপর আপনার ইমেইল থেকে কনর্ফামেশন করে ফেলুন।

চিত্র বড় করে দেখতে চাইলে চিত্রের উপর ক্লিক করুন।

এখন আপনি লগ অন করুন আপনার ইমেইল এবং পাসওর্য়াড দিয়ে। তারপর বামদিকে manage domain দেখতে পারবেন। সেটাতে ক্লিক করুন। উপরের ছবির মত আসবে। এখানে আপনি আপনার রেজিষ্টেশন করা ডোমেইনগুলো দেখতে পারবেন। বামদিকে 1 নাম্বার এ গিয়ে আপনার ডোমেইনটি সিলেক্ট করুন। তারপের 2 নং এ Name server এ ক্লিক করুন।

চিত্র বড় করে দেখতে চাইলে চিত্রের উপর ক্লিক করুন।

এখন আপনি আপনার হোষ্টিং প্রদত্ত ডিএনএস অথবা নেম সার্ভার ঠিকানা এখানে প্রদান করবেন। যদি নেইম সার্ভার 2টির অধিক হয় আপনি add more server এ ক্লিক করলে আরো নেইম সার্ভার বসানোর জন্য ঘর পাবেন। এখন এই ঘরঘুলোতে আপনার নেইম সার্ভার ঠিকানা প্রদান করে Set up এ ক্লিক করুন। ব্যাস হয়ে গেল আপনার ডোমেইন সেটআপ।

এখন দেখবে www.dot.tk থেকে কিভাবে ডোমেইন সেটআপ করব:

চিত্র বড় করে দেখতে চাইলে চিত্রের উপর ক্লিক করুন।

প্রথমে www.dot.tk গিয়ে আপনার ডোমেইন নামটি দিন তারপর next এ ক্লিক করুন।

চিত্রটি বড় করে দেখতে চাইলে চিত্রের উপর ক্লিক করুন।

এখন যদি আপনার ডোমেইন টি ফাঁকা থাকে থাকে তাহলে এখানে দেখাবে this domain is still available । এখন আমরা free domain এ ক্লিক করব। এবং আবারও next ক্লিক করব।

চিত্রটি বড় করে দেখতে চাইলে চিত্রের উপর ক্লিক করুন।

প্রথমেই your website URL এর জায়গায় আমরা যে নামে ডোমেইন রেজিষ্টেশন করব সেই নামটি দিব। যেমন : www.mnuworld.tk তারপর আমরা use DNS for this domain এ ক্লিক করব।

চিত্রটি বড় করে দেখতে চাইলে চিত্রের উপর ক্লিক করুন।

এখানে আমরা Use my own DNS Service এ ক্লিক করব।

চিত্রটি বড় করে দেখতে চাইলে চিত্রের উপর ক্লিক করুন।

1নং এ আপনি আপনার হোষ্টিং প্রদত্ত ডিএনএস বা নেইম সার্ভার লিখুন। 2নং এ আপনি আপনার ইমেইল ঠিকানা লিখুন। 3নং উপরের ক্যাপচা কোডটি লিখুন। তারপর Next এ ক্লিক করুন। এখন আপনার ইমেইল ঠিকানাটি যদি আগে রেজিষ্টার্ড না হয়ে থাকে তাহলে নতুন করে রেজিষ্টেশন করে নিন। এবং ইমেইল কনর্ফামেশনে করে নিন। তাহলে আপনার ডোমেইন নাম সেটআপ করা হয়ে গেল।

এখন আমাদের ডোমেইন সেটআপ করা শেষ । এখন আমরা হোষ্টিং সেটিং করব। প্রথমে আমাদের হোষ্টিং কন্টোল প্যানেল বা সি প্যানেল অথবা ভিসতা প্যানেল যেটা হোষ্টিং সার্ভিস প্রোভাইডাররা প্রদান করে সেখানে ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করব (প্রথমেই আপনাদেরকে সেখানে রেজিষ্টেশন করে নিতে হবে)।

চিত্রটি বড় করে দেখতে চাইলে চিত্রের উপর ক্লিক করুন।

এখন আমরা যখন লগিন করব তখন উপরের মত প্যানেল পাব। সেখান থেকে Addon domains খুজে বের করে তাতে ক্লিক করব।

চিত্রটি বড় করে দেখতে চাইলে চিত্রের উপর ক্লিক করুন।

এখানে নিচে আমার নিজের নেইম সার্ভার ঠিকানাটা মার্ক করা হল। কারন অনেকে এটা কি বুঝতে পারে না। এখন আপনি Domain Name এর জায়গায় আপনার রেজিষ্টেশনকৃত ডোমেইন নামটি দিন। তারপর Add domain এ ক্লিক করুন। তাহলে আপনার ডোমেইন সেটআপ হয়ে যাবে।

 

আজ এ পর্যন্তই আগামী পর্বে ওয়ার্ড প্রেস ডাউনলোড, সেটআপ সম্পর্কে আলোচনা করব।

অনেক তারাতাড়ি লিখা হয়েছে। যদি কোন ভুল থাকে ধরিয়ে দিবেন এবং মন্তব্য করে জানাবেন।ধন্যবাদ সবাইকে।

 

সূত্র: নিজের অলস মস্তিষ্ক, উইকিপিডিয়া, মোঃ শরিফুল ইসলামের ব্লগ, ফাহিম রেজার ব্লগ, কারিগর ভাইয়ের লেখা, অনেক ওয়েবসাইট।

 

পূর্বে আমার ওয়েবসাইট এ প্রকাশিত।

 

পরামর্শ একটি টিউটোরিয়াল এবং ওয়ার্ডপ্রেস বিভাগ খোলার জন্য।

 


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

ফায়ারফক্স ব্যাকআপ রাখবেন যে ভাবে
Rubel Orion এর সাথে শিখুন পিএইচপি(pHp)। (পর্বঃতিন)
ইন্টারনেট পাকেজ-সমূহ!
সহজ পদ্ধতিতে ওয়েবসাইট তৈরি করুন [পর্ব-০১]
অনলাইনে বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী
সামাজিক যোগাযোগের নতুন ঠিকানা "ফ্রেন্ডসার্কেল" (সম্পূর্ণ বাংলাদেশী সাইট)
রবি নিয়ে এসেছে দারুন ৩ টি অফার সম্বলিত একটি প্যাক। এর আওতায় আপনি পাচ্ছেন মাত্র ৭৯ টাকায় ১০ জিবি ই...

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

MNUWORLD

ভালবাসি সহজ সরলভাবে চলতে, বন্ধুদের সাথে আড্ডা অথবা বেড়াতে যেতে। ইন্টারনেটে আসক্ত একজন কাজ পাগল ছেলে!!!! আমাকে খুজে পাবেন Facebook নামক টাইম কিলিং মেশিনে। আর গুগল প্লাস+

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/web-internet/mnuworld/5063

16 comments

Skip to comment form

  1. সায়েম

    আমি আজকের প্রথম ছাত্র! 😀

    1. MNUWORLD

      আশা করি শিখাতে পারব। শিখতে থাকুন!!! ধন্যবাদ।

  2. হাসান

    ৩ পোস্ট কি একসাথে দিলেন? 🙂

    1. zahid hassan

      অনেক সুন্দর হয়েসে। ৩য় পোস্ট খুব তারা তারি লিখবেন আশাকরি।

    2. MNUWORLD

      নাহ!! এটা মাত্র 2য় পোষ্ট। আরো লিখার ইচ্ছা ছিল!! কিন্তু পোষ্ট অনেক বড় হওয়াতে কমিয়ে দিয়েছি। ধন্যবাদ

    3. MNUWORLD

      জাহিদ ভাই তারাতাড়ি লিখার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ।

  3. ঐ ছেলেটি
    jakir

    অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য বিস্তারিত সহকারে লিখছেন। ধন্যবাদ।

    1. MNUWORLD

      আপনাকেও ধন্যবাদ জাকির ভাই।

  4. bright space

    ওয়াও মেগা টুইট !! আমাকে ক্লান্ত করে দেয়ার জন্য আপনাকে মেগা ধন্যবাদ…।

    1. MNUWORLD

      আপনাকে সুপার পাওয়ার ধন্যবাদ। ক্লান্ত দূর করার জন্য 😉

  5. লিটু সরকার

    প্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

    1. MNUWORLD

      আপনাকেও ধন্যবাদ।

  6. বেকার খাঁন

    ধন্যবাদ।বেকার খাঁন এখন Continue to টেকটুইটস্

    1. MNUWORLD

      আপনাকে স্বাগতম টেকটুইটস্ এ।

  7. নাহিদ আনোয়ার
    dihan91

    বাংলায় ওয়েব সাইট সার্ভার ইত্যাদি সম্পর্কে এত ভাল লেখা থাকতে পারে, আমার কল্পনাতীত ছিল।
    লেখককে আমার স্যালুট।

    [অফ টপিকঃ জাকির ভাই, এই লেখাগুলো হোমপেইজে আলাদা বিভাগে থাকার যোগ্যতা রাখে। আপনি কি বলেন?]

    1. MNUWORLD

      আপনাকে ধন্যযোগ। এইরকম কল্পনাঅতীত লিখা পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। আর হ্যা দ্রুতই আপনাদের জন্য আরো সার্ভিস নিয়ে টেকটুইটস আসছে আমাদের সাথেই থাকুন।

মন্তব্য করুন