«

»

Nazrul

মাতৃভাষাপ্রেমীরা স্টিভ জবসের কাছে ঋণী

বাংলাদেশে ম্যাকিন্টোশ দিয়ে অ্যাপল ব্যবহার শুরু হয়

সারা দুনিয়ার অনেক বেশি টাকাওয়ালাদের একজন, যাঁর স্থান ৪২ নম্বরে; তেমন একজন বড় ব্যবসায়ী ৫ অক্টোবর মারা গেলেন। নীরবে-নিভৃতে তাঁর শেষকৃত্যও সম্পন্ন হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল কম্পিউটার ইনকরপোরেশনের সদ্য বিদায়ী প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা_যাঁর নাম স্টিভ পল জবস। তাঁর মৃত্যুতে একটি অসাধারণ শ্রদ্ধার বাণী উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেছেন, ‘স্টিভ ছিলেন মহৎ আমেরিকান আবিষ্কারকদের একজন। তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমী চিন্তা করার মতো সাহসী মানুষ। তিনি ভাবতেন, দুনিয়াটাকে তিনি বদলাতে পারেন। আর তাঁর ছিল সেই মেধা, যা দিয়ে তিনি বিশ্বটাকে বদলে দিয়েছেন।’
বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান থেকে প্রযুক্তিবিদ, এমনকি অতি সাধারণ মানুষ পরম শ্রদ্ধায় মাথা নত করে তাঁকে স্মরণ করছেন। শুধু একটি সামাজিক নেটওয়ার্কে প্রতি সেকেন্ডে ১০ হাজারের বেশি মন্তব্য করেছেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা। আমার মতে, পৃথিবীর ডিজিটাল রূপান্তরে এই মানুষটি ৩৫ বছর ধরে যতটা অবদান রেখেছেন, তার সঙ্গে তুলনীয় কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। আমি ঠিক জানি না, আদৌ কোনো দিন এই পৃথিবীতে আরেকজন স্টিভ জবসের জন্ম হবে কি না। সবচেয়ে বড় বিষয়, মানুষটি বিশ্বের সব মাতৃভাষাপ্রেমী মানুষের কাছে চিরদিন প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। আমার মতো সাধারণ মানুষের প্রযুক্তিচর্চায় তিনি ছিলেন ‘হিরো’।
আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো সময়টি আমি অ্যাপল কম্পিউটারের সঙ্গে কাটালেও এই মানুষটির সঙ্গে একবারও দেখা হয়নি। দুর্ভাগ্য আমার যে ১৯৮৭ সালের ২৮ এপ্রিল ম্যাকিন্টোশ কম্পিউটারের বোতাম স্পর্শ করার সময় আমি কেবল তাঁর কিংবদন্তির গল্প জানতাম। মুগ্ধ হতাম এই দেখে যে একজন আমেরিকান ইংরেজিভাষী কেমন করে সারা বিশ্বের মাতৃভাষাপ্রেমীদের জন্য অসাধারণ সহানুভূতি পোষণ করেন।
আমি যখন ম্যাকিন্টোশে হাত রাখি, তখন তিনি অ্যাপল ছেড়ে দিয়েছেন; প্রকৃতার্থে অ্যাপল থেকে তাঁকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। সেই থেকে ২৪ বছর ধরে কম্পিউটার দুনিয়ায় নানাভাবে যুক্ত থেকে এই একটি মানুষকে আমি প্রতিমুহূর্তে পর্যবেক্ষণ করেছি। অ্যাপল থেকে বের হয়ে ‘নেঙ্ট’ তৈরি করা, পিকজার থেকে টয় স্টোরি বানানো এবং আবার অ্যাপলে ফিরে আসার গল্প আমার প্রায় মুখস্থ। দুনিয়া আজ তাঁকে আইপ্যাড, আইপড, আইফোন, আইটিউন ইত্যাদির জন্য চেনে। আমি তাঁকে চিনি ম্যাকিন্টোশের জনক হিসেবে। আর সে জন্যই মুখস্থ তাঁর ম্যাকিন্টোশ তৈরির গল্পটি। আমি যখন আমার প্রোগ্রামারদের সঙ্গে কথা বলি, যখন তাঁদের দল বেঁধে কাঁধে করে সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে নিয়ে যাই, তখন স্টিভ জবসের কথা মনে পড়ে। তিনিই সম্ভবত প্রথম মানুষ, যিনি মনে করতেন প্রোগ্রামিং একটি সৃজনশীল কাজ এবং এই কাজের কোনো বাঁধাধরা সময় নেই। আমার সঙ্গে কাজ করা প্রোগ্রামারদের যে অফিসটাইম নেই, তার উৎস সেই ম্যাকিন্টোশ ডিজাইন টিম।
যাহোক_স্টিভ জবসের জীবন, তাঁর প্রযুক্তি এবং সেই প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে ৭০০ শব্দের কোনো নিবন্ধে আলোচনা করার চেষ্টা করা বৃথা। আমি সেই চেষ্টাও করব না। শুধু একটি বিষয়ে বিশেষত আমাদের মতো যাঁরা রোমান হরফে মাতৃভাষা লেখি না, তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।
যাঁরা বনেদি কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাস যাঁরা জানেন, তাঁরা অবশ্যই স্মরণ করতে পারবেন যে আমাদের চেনাজানা কম্পিউটার রোমান হরফের বাইরে অন্য হরফ চিনত না, এমনকি কম্পিউটারের পর্দায় একটির বেশি ফন্ট বা এর ভিন্ন ভিন্ন স্টাইল, যেমন_বোল্ড বা ইটালিক দেখা যেত না। অনেকেই হয়তো স্মরণও করতে পারবেন না যে কম্পিউটারে গ্রাফিকস, অডিও বা ভিডিও বলতে কিছু ছিল না। স্টিভ এগুলোকে কম্পিউটারের সহযাত্রী করেন। স্মরণ করুন, সেই ওয়ার্ড পারফেক্ট বা ওয়ার্ড স্টারের কথা, যাতে ব্যবহারকারী কী লিখত তা নিজে দেখতে পেত না। স্টিভ তাঁর ম্যাকিন্টোশ কম্পিউটারে প্রথম যে কেবল গ্রাফিকস, কুইকড্র ইঞ্জিন বা মাউস-পুল ডাউন মেন্যু-উইন্ডো, অ্যাপলটক ইত্যাদি প্রচলন করেন তা-ই নয়, তিনি ম্যাকিন্টোশ কম্পিউটারে প্রবর্তন করেন মাল্টিপল ফন্ট, মাল্টিপল ফন্ট সাইজ এবং খোদ অপারেটিং সিস্টেমটি ইংরেজির বাইরে অন্য ভাষায় অনুবাদ করার সুযোগ। আমাদের শ্রদ্ধেয় সাইফুদ্দাহার শহীদ ম্যাকিন্টোশ কম্পিউটারের সেই সুযোগটি কাজে লাগান এবং ম্যাক ওএসসহ ম্যাকরাইট সফটওয়্যারটির সম্পূর্ণ অনুবাদ করেন, যদিও তিনি এর নাম রাখেন ‘শহীদ লিপি’। সাধারণ মানুষ তখন বুঝতেই পারেনি যে এটি আলাদা কোনো বাংলা অপারেটিং সিস্টেম কি না, তথাপি কৃতিত্বটি হচ্ছে স্টিভ জবসের ম্যাকিন্টোশ কম্পিউটারের, যাতে প্রথম বিট ম্যাপ ও পোস্টস্ক্রিপ্ট ফন্ট ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয় এবং যার সূত্র ধরে বাংলাদেশসহ দুনিয়ার সব দেশে ডেস্কটপ পাবলিশিং বিপ্লব ঘটে।
যে মানুষটি কম্পিউটারের একটি ক্লাস করে বুঝেছিলাম যে এই বিদ্যা আমার নয়, সেই মানুষটি কম্পিউটারে বসিয়েছিলেন স্টিভ জবস। সেদিন যদি তিনি ম্যাক ওএস, মাউস এবং এর সঙ্গে যুক্ত শত শত প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে না দিতেন, তবে আর কোনো দেশে কী হতো জানি না, বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ কোনো দিন কম্পিউটারের বোতাম স্পর্শ করত না। আমি জানি না, সেদিন যদি আমি বিজয় তৈরি করতে না পারতাম, যদি সুনন্দা, আনন্দ, তন্বী সুনন্দা বা সুতন্বী ফন্টগুলো তৈরি না করতাম বা যদি বিজয় কিবোর্ড জন্ম না নিত, তবে বাংলা প্রকাশনার জগৎ আজ কোথায় থাকত? কিন্তু এই কৃতিত্ব এতটুকুও আমার নয়, স্টিভ জবসের। আমি স্টিভ জবসের কাছে বিশ্বের ৩৫ কোটি বাংলাভাষী মানুষের শ্রদ্ধা পেঁৗছাতে চাই যিনি আমাদের মায়ের ভাষা ডিজিটাল যুগে রক্ষা করেছেন। অনেকেই আজকাল ইউনিকোড নিয়ে কলার উঁচু করেন। আমি তাঁদের স্মরণ করিয়ে দেব, এই কনসোর্টিয়ামটিও অ্যাপলের তৈরি করা। আজ যাঁরা কম্পিউটারের পর্দায় হরফের আকৃতিকে মসৃণ করেন, তাঁরা স্মরণ রাখুন_ট্রুটাইপ ফন্ট টেকনোলজিও অ্যাপলের তৈরি।
স্টিভ জবস তাই কোনো দিন মারা যাবেন না, বেঁচে থাকবেন আমার মতো কোটি কোটি মাতৃভাষাপ্রেমীর হৃদয়ে।


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

ঢাকা এফ এম এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ভালোবাসার বাংলাদেশ শুনুন অনলাইনে
এডভান্স সার্চ বলেন আর হ্যাকিং বলেন বিষয় টি সবার জান দরকার। (বিশেষ করে নতুন হ্যাকারদের)
এসেছে Alcatel Onetouch Flash2 এর Tempered Glass
এক মিনিটে আয় করুন ০.০০৫ বিটকয়েন। সেটা দিয়েই ইনভেষ্ট করে টাকা ডাবল করুন। ( স্ক্রিনশট সহ)
প্রতি ঘন্টায় আয় করুন ১০০ থেকে ১২০০ সাতোসি।
প্রতি মাসে ৬০ ডলার আয় করুন, ফেইসবুক/ইউটিউব লাইক করে। ফ্রি, নো ইনভেষ্টমেন্ট।
১বিটকয়েন= ২৯৭৮ ইউএস ডলার(১২/০৬/২০১৭),ফ্রিতে বিটকয়েন আর্ন করুন, কোন প্রকার ইনভেষ্টমেন্ট ছাড়া।

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

Nazrul

Nazrul

Md. Nazrul Islam Bsc. DUET (Electrical) (Diploma Gutter BAFA) (Mashinist German TTC) Businessman

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/uncategorized/nazrul/13841

মন্তব্য করুন