«

»

Mahtab Hossain

আমি এবং হুমায়ুন আহমেদ

পৃথিবীর সবচেয়ে ধ্রুব সত্য কথাটি এখনও আমার কাছে ঘোর মিথ্যা বলে মনে হচ্ছে। তাঁর  মৃত্যু হয়েছে, এ কথাটি ভাবতেই যেন নিজেকে মিথ্যুক মনে হয়। ছোট বেলা থেকেই তাঁর সম্পর্কে একটু একটু জানতাম, তাঁর বই এর প্রশংসা সবার কাছে শুনতাম কিন্তু তখন তাকে নিয়ে  বা তাঁর বই সম্পর্কে জানার তেমন প্রয়োজন বোধ করি নি। কারন ছোটবেলা থেকেই বইকে খুব ভয় পেতাম। যেখানে বই বা পড়ার কথা আসে, সেখান থেকে নিজেকে ১০০ হাত দূরে গুটিয়ে রাখতে চেষ্টা করতাম, অবশ্য এখন গল্পের বই পরতে খুব পছন্দ করি, এজন্য স্যার এর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। কারন নতুন পাঠক সৃষ্টিতে স্যারের ভূমিকা অতুলনীয়। উড়ালপঙ্খি ছিল আমার জীবনের প্রথম কোন উপ্যনাস। অবিশ্বাস মনে হলেও ঘটনাটি সত্য, এর আগে আমি কোন দিন পাঠ্যবইয়ের বাহিরে গল্প বা উপন্যাস পড়িনি।

ঢাকায় যখন প্রথম আসি, তখন এক বিকেলে নিজেকে খুব একা মনে হল। ছাদে সময় কাটছে না দেখে বাসায় চলে আসি এবং বড় ভাইদের সকল পার্সোনাল জিনিশপত্র ঘাটাঘাটি করতে থাকি (অন্যের পার্সোনাল জিনিশপত্র ঘাটাঘাটি করতে আমি খুব মজা পাই) এবং এক সময় শেলফ এ অনেকগুলো এলোমেলো উপন্যাস দেখি। সেখান থেকে ঘাটাঘাটি করে উড়ালপঙ্খি বইটি হাতে নেই। হুমায়ুন আহমেদ এর নাম দেখে বইটি পড়ার প্রতি মন থেকে আগ্রহ জাগে। বইটি পড়তে পড়তে আমি নিজেকে এক নতুন জগতে আবিষ্কার করলাম। মাঝ পথে গিয়ে বইটি পড়া বন্ধ করতে গিয়েও হুমায়ুন এর লেখার ছন্দ আমাকে বইটি সম্পূর্ণ পড়া পর্যন্ত আটকে রাখল। ঐ দিন জীবনে প্রথম অনুভব করলাম, বই পড়া আসলে খুব মজার কাজ। এর পর থেকে হুমায়ুন আহমেদ এর একে একে সব বই এবং অন্যান্য রাইটার এর বই কালেক্ট করি এবং পরতে থাকি।

হুমায়ুন এর হিমু চরিত্রটি পড়ে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করলাম। এবং মনে মনে ভাবলাম how can it possible those type of awesome novel. হিমু চরিত্রটি পড়ে নিজের সাথে হিমুর কিঞ্চিৎ মিল খুঁজে পেলাম । হিমু চরিত্রটির সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকে নিজের মধ্যে হিমু হিমু ভাব অনুভব করি এবং মাঝে মাঝে নিজেকে হিমু ভাবতেও দ্বিধাবোধ করি না, যদিও কল্পনার হিমু আর বাস্তবতা দুইটা ভিন্ন দুটি জগত। তার পরেও মাঝে মাঝে গভীর রাতে কোথায় যেন হারিয়ে যাই এবং অনেক দূর হাঁটার পর অনুভব করি, পায়ে জুতো নেই।

হিমুর পাশা পাশি হুমায়ুন আহমেদ এর অন্যান্য চরিত্র গুলো আমাকে খুব সাড়া দেয়। হিমু মতো আদ্ভুত ও মজার চরিত্র, মিসিরআলির মতো যুক্তিবান মানুষ এবং শুব্র এর মতো ধ্রুব তারা আজ আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে; তাদের মুখে রুক্ষ আভা ফুঠে উঠেছে। চোখ দিয়ে পানি পড়তে দেখে তিন জন তিন জনের পানে চেয়ে থাকে। চারদিকে জোছনার আলোয় আলোকিত পৃথিবীতে নিজ স্রষ্টাকে খুজে না পেয়ে তিন পুত্র এক সাথে চেঁচিয়ে উঠে, হুমায়ুন তুমি কি আর আসবে না, তুমি কি আমাদেরকে তোমার পথ ধরে এগিয়ে নিয়ে যাবে না???


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

ছোট্ট একটি সফট্ওয়ার আপনার কম্পিউটারে Refresh এর কাজ করবে
চায়না মোবাইল এর গোপন কোড (দেখে রাখুন কাজে লাগতে পারে)
একদম নতুন পদ্ধতিতে টাকা ইনকাম করুন (খুবই সহজে)
ভিওআইপি’র সুরতহাল এমন কেন ?
Robi VIP Sim For Sale 01811-00-11-XX
কাজ করলে অনলাইনেও টাকা পাওয়া যায় । শুধু প্রয়োজন একাগ্রতা ও নিষ্ঠা । ( অভিজ্ঞতা শেয়ার )
নিয়ে নিন অসাধারণ একটি Android app যা খুজে বের করবে অপরিচিত কলারকে **Tera tune**

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

Mahtab Hossain

My Dream and Destination with Film Making & My Surrounding life with about it. https://www.facebook.com/arnob.ripon

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/uncategorized/arnob/29306

2 comments

  1. Manjurul Hoque
    Manjurul Hoque

    এই পোলাটা কি সব বলছে। কোন দিন তো দেখি নাই হলুদ কিছু পড়তে।

    1. Mehedi Hasan
      Mehedi Hasan

      আসলেই আমিও দেখি নাই। তারপর আবার বলে হুমায়ুন আহমেদ এর সব গুলা বই পড়ছে O:)

মন্তব্য করুন