«

»

মাষ্টার অফ এস ই ও সিরিজ (প্রথম-খণ্ড) সার্চ ইঞ্জিনের কাযর্প্রণালী

প্রথমে আমাদের যে কাজগুলো করতে হবেঃ
১ সার্চ ইঞ্জিন ব্যাবহারকারিদের চিহ্নিত করতে হবে।
২ জানতে হবে, কেন মানুষ সার্চ ইঞ্জিন ব্যাবহার করে।
৩ উচ্চ রেঙ্কিং এর কি-ওয়ার্ড নির্ণয় করতে হবে।
৪ সার্চ ইঞ্জিন সমূহের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করতে হবে।

ইন্টারনেট হচ্ছে (ভাল এবং মন্দ) তথ্যের ভাণ্ডার। একজন ব্যাবহারকারি প্রায় সবকিছুই মুহূর্তের মধ্যে সংগ্রহ করতে পারে ইন্টারনেট। আপনি যে এখন বইটি পড়ছেন, এটিও সম্ভবত ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করেছেন। আপনি যখন ইন্টারনেট থেকে কোন তথ্য খুজতে যান, অথবা কিছু কিনতে যান, সেটি অবশ্যই কোন না কোন ওয়েবসাইটে আছে। ধরুন, আপনি সেরকম একটি সাইটের মালিক। আপনি একটি পণ্য বিক্রয় করেন এই সাইটের মাধ্যমে। কেউই জানেনা যে, এই সাইটটি আছে। তাহলে, কে আপনার পণ্য/ সেবা সম্পর্কে জানবে। কে ই বা আপনার থেকে পণ্য বা সেবা গ্রহন করবে?

আপনার সাইটে ভিজিটর আনার সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উপায় হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন। সার্চ ইঞ্জিন হচ্ছে একটি ওয়েব এপ্লিকেশন সফটওয়্যার , যেটি ব্যাবহারকারির চাহিদা অনুযায়ী তথ্যসমুহ তাকে খুজে এনে দেয়। একটি বিষয়ে হাজার হাজার সাইট আছে। সার্চ ইঞ্জিন তাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উপস্থাপন করে। প্রথমেই ভাবুন, সার্চ ইঞ্জিন না থাকলে কি হতো? আপনি কিভাবে আপনার সাইটে গ্রাহককে নিয়ে আসতেন? উত্তরটি হচ্ছে। আপনি অন্য সাইটে আপনার একটি লিংক (বিজ্ঞাপন) স্থাপন করতেন। সেই লিংক এ ক্লিক করে ভিজিটর আপনার সাইটে আসতো। সার্চ ইঞ্জিন (Google, Yahoo! , Bing) শুধুমাত্র আপনার এবং আপনার গ্রাহকে মাঝখানের এই মধ্যস্ততাকারীকে মাঝখান থেকে বাদ দিয়ে সরাসরি গ্রাহককে আপনার কাছে নিয়ে আসছে।

এখানে আমরা দেখব, কিভাবে অনেক ইন্টারনেট ব্যাবহারকারির মাঝ থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত গ্রাহককে বেছে নিয়ে আসতে হবে। ব্যাবহারকারির প্রকারভেদ এবং বিভিন্ন ইঞ্জিন এর সাথে কাজ করার কৌশল।

 ব্যাবহারকারি চিহ্নিত করার পদ্ধতিঃ
আপনি কি জানেন, কে সার্চ ইঞ্জিন ব্যাবহার করে? হ্যাঁ, প্রায় সবাই সার্চ ইঞ্জিন (Google, Yahoo! , Bing) ব্যাবহার করে। অধিকাংশ সাইটের অধিকাংশ ভিজিটর আসে সার্চ ইঞ্জিন থেকে। কিছু কিছু নাম সবার কাছে এত বেশী জনপ্রিয় হয়ে গেছে যে, সেগুলোর জন্য আর কেউই সার্চ করে না। যেমন, Facebook । এরকম জনপ্রিয় সাইট ছাড়া অন্যোন্য সাইট এর নাম প্রায় কেউই মুখস্থ করে রাখে না। সার্চ ইঞ্জিন এ সার্চ করে খুজে বের করে। এমনকি পৃথিবীর বড় বড় ব্র্যান্ডগুলোও তাদের একটি বড় অংশ ভিজিটর পায় সার্চ ইঞ্জিন থেকে।

যদিও, সার্চ ইঞ্জিন ওয়েবসাইটে ভিজিটর নিয়ে আসে। তথাপি, আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, আপনার ওয়েবসাইটটি পৃথিবীর অসংখ্য ওয়েবসাইটের একটি মাত্র। ধরুন, আপনি মোবাইল বিক্রয় করেন। আপনার সাইটে Nokia N97 মডেল এর মোবাইলটি আছে। গুগোলে কেউ Nokia N97 লিখে সার্চ করলেই কি আপনার সাইট প্রথম পেইজে চলে আসবে? অবশ্যই না। কারন, আগেই বলেছিলাম সার্চ ইঞ্জিন সাইটগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উপস্থাপন করে। আপনি যদি খুব ভাগ্যবান হন, এবং সার্চ কুয়েরি (যা লিখে সার্চ করা হয়) যথেষ্ট পরিমান টার্গেটেড হয় (আপনার সাইটে যেভাবে লেখা আছে, ইউজার ঠিক সেভাবে লিখে সার্চ করে) তাহলে আপনার সাইট লক্ষ লক্ষ ফলাফলের প্রথম ১০০ টির মধ্যে দেখাবে। আপনি যদি আপনার কক্সবাজার ভ্রমনের ছবিগুলো ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন, যার জন্য ওই অবস্থান যথেষ্ট। কিন্তু, আপনি যদি একটি পণ্য / সেবা বিক্রয় করেন, সেটির প্রচার এর জন্য আপনাকে আরও উপরে উঠে আসতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সার্চ ইঞ্জিন ব্যাবহারকারী প্রথম পাতার ফলাফল পেয়ে যায়, এবং সেগুলোতে ক্লিক করে প্রবেশ করে। পরবর্তী পেইজগুলোতে খুব কম ইউজার যায়। তাই, আপনার সাইট যত পেছনে থাকবে, আপনার গ্রাহক পাওয়ার সম্ভাবনা তত কমে যাবে। সেজন্যই অধিকাংশ ওয়েবসাইট মালিক প্রথম পেইজটি দখল করতে চায়।

চিহ্নিত করুন, কত ভাগ মানুষ অনলাইনে ব্যায় করে-
বাংলাদেশে তুলনামূলক কম হলেও সারা বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ব্যাবহারকারির একটি বড় অংশ ইন্টারনেট এ ব্যয় (কেনাকাটা) করে। কারন, এটি সহজ। আপনার স্যান্ডউইচ খেতে ইচ্ছে করছে? কম্পিউটারটি ওপেন করে একটি রেস্টুরেন্ট এর সাইটে গিয়ে স্যান্ডউইচ এর অর্ডার দিলেন। আপনার ক্রেডিট কার্ড থেকে স্যান্ডউইচ এর মূল্য কেটে নিল, এবং আপনার বাসায় স্যান্ডউইচ চলে আসলো। এটি খুবই ঝামেলা মুক্ত। বাংলাদেশেও rokomari.com এর মত কিছু সাইট এখন অনলাইনে অর্ডার নিয়ে প্রোডাক্ট হোম ডেলিভারি দিচ্ছে। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, আমেরিকানরা দিনে গড়ে ৪৭ মিনিট কেনাকাটার অনলাইনে ব্যয় করে। তার মধ্যে ৪০ মিনিট ব্যয় করে পণ্য পছন্দ করতে, এবং বাকি ৭ মিনিট অর্ডার দিতে। তাহলে বুঝতেই পারছেন যে, তারা অনেক ওয়েবসাইট ও অনেক পণ্য দেখে বাছাই করে। এই অনেক ওয়েবসাইট খুজে বের করে সার্চ ইঞ্জিন ব্যাবহার করে।

আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটে গ্রাহক পেতে হবে। যারা রিয়েল এস্টেট এর ব্যাবসা করে, তাদের জন্য ৩ টি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, অবস্থান দ্বিতীয়ত, অবস্থান এবং তৃতীয়ত, অবস্থান। হ্যাঁ, আপনি যা ভাবছেন, আমি সেটাই বোঝাতে চেয়েছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তার প্রকল্পটি কোথায় অবস্থিত। সেটি মূল নগর থেকে কতটুকু কাছে। যোগাযোগ ব্যাবস্থা কতটুকু উন্নত ইত্যাদি। ঠিক এই ব্যাপারটি ওয়েব এর ক্ষেত্রেও সত্যি। একইভাবে আপনার ওয়েবসাইটকে অনলাইনে একটি মুল্যবান সম্পত্তিতে পরিনত করতে হলে তাকে Search Engine Results Page (SERP) বা সার্চ এর ফলাফলে উচ্চ পেইজে নিয়ে আসতে হবে। এই বিষয়টিকে ওয়েবসাইট রেঙ্কিং (Ranking) বলা হয়। আপনার সাইটকে উচ্চ রেঙ্ক এ নিয়ে আসার জন্য সামান্য কিছু উপায় আছে। যেমন, আপনার সাইটটি সমসাময়িক সকল সাইট থেকে শ্রেষ্ঠ হতে হবে। সেটি যদি হয়, তাহলে আপনাকে আর কষ্ট করে বইটি নিচের দিকে পড়তে হবে না। আপনার সাইট এমনিতেই সার্চ ইঞ্জিন প্রথমে দেখাবে। আর যদি সেটি না হলে, তাহলে আপনার সাইটকে সার্চ ইঞ্জিন এর চোখে ভাল করে তুলতে হবে।

** আপনি চাইলে গুগোলকে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ প্রদান করে আপনার সাইটকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সার্চ পেইজের প্রথমে দেখাতে পারেন। এই পদ্ধতিকে Pay Per Click (PPC) বলা হয়। আমরা স্থায়ীভাবে একটি সাইটকে প্রথম পেইজে নিয়ে আসতে চাচ্ছি। তাই এই বিষয়টি আপাতত এড়িয়ে গেলাম **

ইন্টারনেট ব্যাবহারকারিদের চার্ট-
যেহেতু, ব্যাবহারকারিদের নিয়েই আপনার এস.ই.ও এর কাজ এর সাফল্য নির্ভর করবে, সুতরাং আপনার ব্যাবহারকারিদের সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা থাকতে হবে। আপনাকে জানতে হবে, কে আপনার পণ্য / সেবা খুজছে। তাহলেই আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, কোথায় বিজ্ঞাপন প্রচার করলে ভাল ফলাফল আসবে। আপনি সাধারন বিপণন করলে কি করবেন? আপনি বই বিক্রয় করার একটি বিজ্ঞাপন (পোষ্টার) লাগাবেন। কোথায় লাগালে আপনার কাঙ্ক্ষিত পণ্য (বই) এর জন্য গ্রাহক পাওয়া যাবে? অবশ্যই স্কুল/কলেজের সামনে লাগালে বই এর গ্রাহক পাবেন। আবার, আপনি গাড়ি বিক্রয় করেন। গাড়ীর পোষ্টার যদি স্কুল/কলেজের সামনে লাগান, তাহলে কাজ হবে না। কারন, খুব কম ছাত্র-ছাত্রীই গাড়ি কিনতে আগ্রহী হবে।সুতরাং, সেটি আপনাকে লাগাতে হবে কোন বড় অফিস-আদালত ইত্যাদির সামনে। অর্থাৎ, যাদের গাড়ি কিনার চাহিদা (ইচ্ছা+অর্থ) আছে।
একই বিষয়টি ওয়েবসাইটের প্রচারনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আপনাকে গ্রাহকের বয়স, আয়, মনোভাব ইত্যাদি জেনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অর্থাৎ, কোন বয়সের, কি পরিমান আয়ের, পুরুষ / মহিলাকে আপনি কোন পণ্যটির বিজ্ঞাপন দেখাবেন। এখানে উল্লেখ্য যে, ইয়াহু(Yahoo!) সার্চ ইঞ্জিন এর ৪৯.২৪% ব্যাবহারকারি পুরুষ এবং গুগোল (Google) সার্চ ইঞ্জিন এর ৫৩.৪২% ব্যাবহারকারিই পুরুষ। তাহলে, সহজভাবেই বোঝা যাচ্ছে যে, আপনি কোন পুরুষ এর পণ্য (শার্ট, প্যান্ট, বেল্ট ইত্যাদি) বিপণন (Marketing) করলে তা গুগোলে প্রচার করা উচিত। একইভাবে কোন নারীর পণ্য (শাড়ি, গহনা, কসমেটিকস ইত্যাদি) বিক্রয় করলে তা ইয়াহুতে প্রচার করলে ভাল ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশী।

আমি এখানে আপনাদের সাথে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি চার্ট শেয়ার করছি। এটি দেখে আপনারা বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনের ব্যাবহারকারী সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা পাবেন।


এখানে লিঙ্গভেদে, বয়সভেদে ও আয়ভেদে সার্চ ইঞ্জিন ব্যাবহার এর পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে। ধরুন, আপনি ব্লাড সুগার (ডায়াবেটিস) পরিমাপ এর মেশিন বিক্রয় করবেন। তাহলে আপনাকে দেখতে হবে ৫৫+ বয়সের ব্যাবহারকারীরা তুলনামূলকভাবে MSN সার্চ ইঞ্জিন বেশী ব্যাবহার করে। তাই, MSN এ বিজ্ঞাপন করলে ভাল ফলাফল পাবেন।

[দৃষ্টি আকরশনঃ আমার এই চার্টটি ২০০৪ এর। এটি আমি শুধুমাত্র উদাহরন দেয়ার জন্য ব্যাবহার করেছি। আপনারা গুগোলে সার্চ করে বর্তমান সময়ের চার্ট বের করে গ্রাহক নিয়ে গবেষণা করবেন। তথ্যঃএই চার্টটি তৈরি করা হয়েছে, কি নিয়ে কতবার সার্চ করা হয়েছে, তার উপর ভিত্তি করে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ শাড়ি নিয়ে সার্চ করলে ধরে নেয়া যায় যে, তিনি একজন মহিলা এবং তার বয়স ১৮-৩৪ এর মধ্যে। এছাড়াও গুগোল সার্চ করার সময় যাদের জিমেইল অ্যাকাউন্ট লগ ইন করা থাকে, গুগোল তাদের তথ্যসমূহ সংরক্ষন করে]

এস.ই.ও এর কার করার সময় আমরা অবশ্যই কি-ওয়ার্ড এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেব। উপরের পদ্ধতিতে আমরা আমাদের পন্যের ধরন অনুযায়ী ব্যাবহারকারি নির্ধারণ করবো। নির্ধারিত (Targeted) ব্যাবহারকারির পছন্দের সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে পড়ে থাকলেই হবে না। তার পছন্দের কি-ওয়ার্ড সমুহ যেন আমার সাইটে অন-পেইজে (টাইটেল ট্যাগ, মেটা ট্যাগ, কি ওয়ার্ড) থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ধরুন, আপনি Samsung Galaxy S4 মোবাইলটি মার্কেটিং করবেন। যেহেতু অ্যান্ডয়েড মোবাইল (বাংলাদেশে) যুবক ছেলে-মেয়েরাই বেশী ব্যাবহার করে, তাই আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন ১৮-৩৪ বয়সের ব্যাবহারকারির বেশী ব্যাবহিত ইয়াহু সার্চ ইঞ্জিন এ মার্কেটিং করবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে ১৮-৩৪ বয়সের ব্যাবহারকারিরা কি নিয়ে বেশী সার্চ করে সেটি বের করতে হবে। কিছুটা এনালাইসিস করলে আপনি একটি ভাল ফলাফল পাবেন। আমরা জানি যে ১৮-৩৪ বয়সের অ্যান্ডয়েড ব্যাবহারকারীদের একটি প্রিয় বিষয় হচ্ছে গেইম। একটু অবসর সময় পেলে যেমন প্রিয় একটি গেইম নিয়ে মেতে উঠে, তেমনি ইন্টারনেট এ ও নতুন নতুন গেইম নিয়ে সার্চ করে। তাই, আপনি যদি পেইজ টাইটেল এভাবে দেন যে, Samsung Galaxy S4 –Game, Music, Facebook and many more… তাহলে লেখাটি আপনার মূল বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হোল, পাশাপাশি আপনাকে কিওয়ার্ড সাপোর্টও দিল। এভাবেই টার্গেটেড ভিজিটর এর জন্য টার্গেটেড কিওয়ার্ড নির্ণয় করতে পারবেন।

 কেন মানুষ সার্চ ইঞ্জিন ব্যাবহার করে?
আমরা এতক্ষন বের করেছি কারা সার্চ ইঞ্জিন ব্যাবহার করে। এবং জানতে পেরেছি যে অধিকাংশ (প্রায় সব) ইন্টারনেট ব্যাবহারকারিই সার্চ ইঞ্জিন ব্যাবহার করে। এখন আমরা বের করবো কেন তারা সার্চ ইঞ্জিন ব্যাবহার করে? তারা আসলে সার্চ ইঞ্জিনে কি খোঁজে? সে কি তার পুরনো গাড়িটিকে মেরামত করার পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করতে চাচ্ছে? নাকি পুরনো গাড়িটি বিক্রয় করে একটি নতুন গাড়ি কিনতে চাচ্ছে। অথবা, অকারনেই ইন্টারনেট এ চ্যাট করে অনলাইনে গেইম খেলে সময় নষ্ট করছে? এই প্রশ্নগুলো যেকোনো একটির উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে সার্চ ইঞ্জিন তাকে অসংখ্য সাইট দেখাবে, যেখান থেকে সে গাড়ি মেরামত নিয়ে গবেষণা / ক্রয় / বিক্রয় করতে পারবে বা গেইম খেলতে পারবে।

গবেষণাঃ
সার্চ ইঞ্জিন ব্যাবহারকারীদের একটি বড় অংশ এটি ব্যাবহার করে গবেষণার কাজে। এমনকি আমি নিজেও এই বইটি লেখার জন্য সার্চ ইঞ্জিনে (Google) এস.ই.ও নিয়ে গবেষণা করেছি। গবেষকরা মুলত সার্চ ইঞ্জিনে যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজে অথবা কোন একটি অজানা বিষয়ে পৃথিবীর জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে নুন্যতম তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করে, যা কি না তাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। তারা একটি বিষয়ে একটি সাইট থেকেই পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করতে চায়। ধরি, একজন বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র তার ব্যাবহারিক খাতা তৈরি করার জন্য ব্যাংকিং বিষয়ে তথ্য খুজছে। আপনি একটি ব্যাংক এর ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন। তার একটি পেইজে আপনি ব্যাংকিং এর ইতিহাস, ব্যাংকিং কি, কেন ব্যাংকিং করা হয় ইত্যাদি তথ্য রেখেছেন। ওই ছাত্র সার্চ করে আপনার সাইট পেল , এবং সেখানেই ব্যাংকিং সম্পর্কে একটি পুরনাঙ্গ ধারনা পেল। যদিও, আপনি এই ছাত্রের গবেষণার কাজে সাহায্য করার জন্য সাইট খোলেন নি। খুলেছেন ব্যাংক এর প্রচার এর জন্য। কিন্তু, সে যখন আপনার সাইট থেকে পরিপূর্ণ সহযোগিতা পাবে, তখন সে একবার হলেও আপনার সাইট এর নাম (তথা ব্যাংক এর নাম) খেয়াল করবে এবং ভবিষ্যতে যদি কোন কারনে (চাকরি / লেনদেন) সে আপনার ব্যাংক এর সাথে সম্পৃক্ত হয়, তাহলে সে আপনার প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক) কে ইতিবাচক চোখে দেখবে। গ্রাহক সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা মার্কেটিং এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। এছাড়াও, সার্চ ইঞ্জিন ক্রয়-বিক্রয় / বাণিজ্যিক সাইট থেকেও তথ্যবহুল সাইটকে গুরুত্ব (Priority) বেশী দেয়। উদাহরন সরূপ আমরা দেখতে পাই যে, অধিকাংশ সার্চ (বিশেষ করে ১ অক্ষর কুয়েরিতে)এ প্রথম রেজাল্ট থাকে Wikipedia ।কারন, Wikipedia হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তথ্যকোষ। এখানে আমি উইকিপিডিয়া সম্পর্কে কয়েকটি কথা বলবো। উইকিপিডিয়া হচ্ছে একটি ওপেনসোর্স প্রোজেক্ট। এখানে অসংখ্য তথ্য রয়েছে। লক্ষ লক্ষ সাইটে উইকিপিডিয়া এর ব্যাকলিংক আছে। ওপেনসোর্স অর্থাৎ, যে কেউ এখানে লিখতে পারে এবং তথ্য পরিবর্তন করতে পারে। তাই, উইকিপিডিয়া কখনওই তার প্রদত্ত তথ্যের সত্যটা নিশ্চিত করে না। যেহেতু, উইকিপিডিয়া অধিকাংশ সময় প্রথমে আসে।তাই, আমরা এখান থেকে একটি শিক্ষা নিতে পারি। সেটি হোল, সার্চ ইঞ্জিন তথ্যের সত্যটা নিয়ে মাথা ঘামায় না। তবে , আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, তথ্য ভুল হলে সমস্যা নেই, কিন্তু কপি পেস্ট করা হলে সমস্যা আছে।

গবেষণা ব্যাপারটির সুযোগ-সুবিধা পেতে হলে আপনার সাইটকে তথ্যবহুল করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় তথ্য নয়, আপনি যে বিষয় নিয়ে সাইট করেছেন, সেই বিষয় নিয়ে তথ্য। আপনার পন্যের গুনগত মান। পূর্ববর্তী ব্যাবহারকারিদের মন্তব্য ইত্যাদি সংযুক্ত করে গবেষক এর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। গবেষক দের একটি বড় অংশই How to লিখে সার্চ করে। যেমন একজন উদ্ভিদ বিজ্ঞানী মাশরুম নিয়ে গবেষণা করছে। আর আপনি চালাচ্ছেন একটি রেস্টুরেন্ট এর সাইট। সেখানে মাশরুম এর স্যুপ আছে। ওই স্যুপ এর পেইজে আপনি মাশরুম কি? কিভাবে উৎপাদন করা হয়, ইত্যাদি দিয়ে রাখতে পারেন। এখন ওই উদ্ভিদ বিজ্ঞানী যখন how to grow mushrooms? লিখে সার্চ করে আপনার সাইটে এসে পড়েছে, তখনও সে আপনার সাইটটি ক্লোজ করে দিয়ে অন্য সাইট খুজতে চলে যাবে না। তথ্যগুলো পড়বে এবং নতুন কিছু থাকলে নোট করবে। আপনার সাইটে একজন ভিজিটর কতক্ষন থাকছে (নাকি ঢুকেই আবার চলে যাচ্ছে) তার উপর আপনার রেঙ্কিং নির্ভর করে। যদিও, আপাতদৃষ্টিতে আপনি গবেষককে সহায়তা করে কোন উপকার পেলেন না (যেহেতু সে আপনার পণ্য কেনেনি) । কিন্তু, পরোক্ষভাবে সে সার্চ ইঞ্জিন এর কাছে আপনার সাইটকে গরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

কেনাকাটাঃ
যদিও, মোট ইন্টারনেট ব্যাবহারকারির খুব ছোট একটি অংশ কেনাকাটার জন্য ইন্টারনেট ব্যাবহার করে, কিন্তু সেই সংখ্যাটি ও খুব কম নয়। রিসার্চ কুয়েরি এর পর আমরা দেখব একজন গ্রাহক (ক্রেতা) পণ্য খোঁজার সময় কিভাবে সার্চ করে। ভার্চুয়াল প্রোডাক্ট (ছবি,গান,ভিডিও,সফটওয়্যার ইত্যাদি) অধিকাংশ গ্রাহকই ফ্রী খোঁজে। আবার যেসব ভার্চুয়াল পণ্য ফ্রী পাওয়া যায়না (যেমনঃ ডোমেইন / প্রিমিয়াম হোসটিং) ইত্যাদি কম দামের মধ্যে খোঁজে। উদাহরনসরূপঃ Low price domain লিখে অনেক ইউজার সার্চ করে। ধরুন আপনি ৯০০ টাকায় ডোমেইন বিক্রয় করেন। Low price domain কি ওয়ার্ড এর উপর এস ই ও করার কারনে Low price domain লিখে সার্চ করায় আপনার সাইট প্রথম পেইজে আসলো। আরেকজন ৮০০ টাকায় ডোমেইন বিক্রয় করে, কিন্তু এস ই ও না করার কারনে (অথবা, করলেও এই গুরুত্বপূর্ণ কিওয়ার্ড এর প্রতি গুরুত্ব না দেয়ার কারনে) তার সাইট প্রথম ১০০ ফলাফলের মধ্যে আসলো না। সেক্ষেত্রে, ইউজার আপনার কাছে ডোমেইনের মূল্য (৯০০ টাকা) কেই সবচেয়ে কম হিসেবে ধরে নেবে এবং আপনার কাছ থেকেই কিনবে। এভাবে আপনি ব্যাবসায়িক সাফল্য পেতে পারেন।

যদিও একজন ব্যাবহারকারী অর্ডিনারি সার্চ ইঞ্জিন (গুগোল, ইয়াহু, বিং ইত্যাদি) দিয়ে তার পছন্দের পণ্য খুজে বের করতে পারে, তথাপি কিছু ওয়েবসাইট আছে, যেগুলো শুধুমাত্র কেনা-কাটার জন্যই সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করে। যেমন, Amazon, eBay, Shopping.com ইত্যাদি। এগুলোকে Shopping Only Search Engine বলা হয়ে থাকে। Shopping Only Search Engine আবার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমনঃ mainstream engines। এই ওয়েবসাইটের নিজস্ব পণ্য থাকে। সেই পন্যের সমাহার থেকে গ্রাহক তার পছন্দমতো পন্য খুজে নিতে পারে। যেমনঃ Google Product Search (একে Froogle বলা হয়) এবং Yahoo! Shopping । এখানে আপনি কোন একটি পণ্য সার্চ করলে তাদের লিস্ট থেকে আপনার প্রয়োজনীয় পণ্যটি খুজে পাবেন। আপনি যদি Amazon.com থেকে আন্তর্জাতিক মানের একটি বই কিনতে চান, তাহলে আপনাকে সরাসরি Amazon.com এ ঢুকে সার্চ করতে হবে। আমাজন ডট কম আপনার পন্যের অর্ডার, মূল্য পরিশোদ, ডেলিভারি, স্টক ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে সব কিছুই করে।

বিনোদনঃ
গবেষণা করা বা কেনাকাটা করাই সার্চ ইঞ্জিন ব্যাবহারের একমাত্র কারন নয়। অবসর বিকালটা ভালভাবে কাটানোর জন্য ইন্টারনেট একটি গ্রহণযোগ্য বিষয়। পৃথিবীর সকল ইন্টারনেট ব্যাবহারকারির সিংহভাগই ইন্টারনেট ব্যাবহার করে বিনোদন এর জন্য। এরা গান, মুভি, ট্রেইলর, গেইম ইত্যাদি ডাউনলোড করে অথবা সোশ্যাল মিডিয়া সাইট (ফেসবুক, টুইটার, মিগ৩৩ ইত্যাদি) ব্যাবহার করে। কারিগরিভাবে চিন্তা করলে এগুলোও এক ধরনের গবেষণা। কিন্তু, এই গবেষণাগুলো শুধুমাত্র বিনোদন এর জন্যই ব্যাবহার করা হয়। একজন বয়স্ক ব্যাক্তিও একটি শিশুসুলভ গেইম ডাউনলোড করতে পারে, তার শিশুকালের সৃতি রোমন্থন করার জন্য। অথবা তার সময়কার পুরনো কোন একটি সিনেমার অংশবিশেষ, গান অথবা কোন শিল্পি / জনপ্রিয় ব্যাক্তিত্তের স্থিরচিত্র, জীবনকাহিনী ইত্যাদি খুজতে পারে এক মুহূর্তের জন্য হলেও অতীতে ফিরে যাওয়ার জন্য। সার্চ ইঞ্জিন তার এই ইচ্ছা পুরন করে থাকে।
আপনি যদি একটি ভিডিও গান শুনতে চান, তাহলে উইকিপিডিয়াতে সার্চ করে যতটা সফল হবে, তার থেকে অনেক বেশী সম্ভাবনা ইউটিউব (Youtube) সার্চ এ সফল হওয়ার। ইউটিউব হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিনে উচ্চ অবস্থানে থাকা সাইটের আরেকটি উদাহরন। এটি গুগোল কোম্পানির একটি সার্ভিস। এখানে অসংখ্য ভিডিও আছে। যে কেউ এখানে ভিডিও আপলোড করতে পারে। যার একটি ক্যামেরা আছে এবং একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট আছে, সেই ইউটিউব এ যেকোনো ভিডিও আপলোড করতে পারে, এমনকি তার ফুল বাগানে পানি দেয়ার ভিডিও ও। এখানেও উচ্চমানের কিওয়ার্ড সম্পন্ন ভিডিওগুলো আগে প্রদর্শন করা হয়। এবং একটি ভিডিও প্লে করলে, তার (কিওয়ার্ড এর) সাথে সম্পর্কিত আরও বেশ কিছু ভিডিও পাশে এসে পড়ে। যে ভিডিওটি ইউজার ওপেন করেছে, সেটি তার প্রয়োজনীয় না হলে, ওই ভিডিওগুলো থেকে সে একটি বেছে নিতে পারে। বর্তমানে অনেক বড় বড় কোম্পানিই তাদের পন্যের ডেমো ভিডিও ইউটিউব এ আপলোড করছে এবং ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করছে। ইউটিউব চ্যানাল হচ্ছে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে আপলোড করা সবগুলো ভিডিও যেখানে একসাথে প্রদর্শন করে। এর সুবিধা হচ্ছে একজন গ্রাহক আপনার একটি পণ্য দেখতে এসে পাশাপাশি আরও ২-৪ টি পণ্য দেখে কয়েকটি পছন্দ করতে পারে এবং কিনেও ফেলতে পারে। এটি বর্তমানে পন্যের ডিমান্ড তৈরিতে একটি গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার হয়ে আসছে।

 উচ্চ রেংকিং কিওয়ার্ড গ্রহনঃ
যারা রিয়েল এস্টেট এর ব্যাবসা করে, তাদের জন্য ৩ টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদি অবস্থান , অবস্থান এবং অবস্থান হয়ে, তাহলে এস.ই.ও এর জন্য ৩ টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কিওয়ার্ড, কিওয়ার্ড এবং কিওয়ার্ড। একজন ব্যাবহারকারিকে সঠিক ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়ার জন্য সার্চ ইঞ্জিন কিওয়ার্ড এর উপর নির্ভর করে রেংকিং করে থাকে। আপনার সাইটের কিওয়ার্ডগুলোকে ব্যাবহারকারিদের চাহিদা (Users Query) অনুযায়ী করতে হবে। হাই রেংকিং কিওয়ার্ড, অর্থাৎ যে কিওয়ার্ডগুলো নিয়ে বেশী সংখ্যক ইউজার সার্চ করে, সেগুলো নিয়ে কাজ করলে আপনার পরিশ্রম বেশী হবে, কিন্তু আপনি সে অনুযায়ী বেশী সংখ্যক ভিজিটর পাবেন। আপনার কিওয়ার্ডকে সহজ, সাবলিল করলে সার্চ ইঞ্জিন আপনার সাইটকে সহজে পরিমাপ করতে পারবে। আমার পরবর্তী খণ্ডে কিওয়ার্ড নিয়ে গবেষণা করার পদ্ধতি আরও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা আছে।

এখানে আপনাকে ইউজারদের সম্পর্কে ধারনা দেয়া হয়েছে। আপনার প্রতিযোগী সাইট (যে আপনার মত একই পণ্য / সেবা বিপণন করে) থেকে ইউজার এর কাছে আপনার সাইটকে আকর্ষণীয় করার জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট প্রকার এর ইউজার এর মনস্তত্ত্ব (Psychology) নিয়ে গবেষণা করতে হবে। নিজেকে একজন ইউজার / গ্রাহক চিন্তা করে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আপনি এই পণ্য / সেবা কিভাবে পেলে সন্তুষ্ট হবেন। তাহলেই শুধুমাত্র আপনি এস.ই.ও তে সফল হতে পারবেন। এস.ই.ও এক ধরনের অনলাইন মার্কেটিং। আপনি গ্রাহকের (Customer) কাছে আপনার পণ্য/সেবা বিপণন (Marketing) করছেন। আর মার্কেটিং এর প্রধান ২ টি থিউরি হচ্ছঃ
Rule 1. Customer is always right.
Rule 2. If wrong, read the rule 1 again.
এখানে বোঝানো হয়েছে যে, আপনাকে অবশ্যই গ্রাহক এর চাহিদামত সেবা দিতে হবে। গ্রাহকের সন্তুষ্টির উপর আপনার ব্যাবসায়িক সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করছে। আপনার সেবায় সন্তুষ্ট একজন গ্রাহক বিনামুল্যে আপনার বিজ্ঞাপন করবে।

একটি এস.ই.ও ফ্রেন্ডলি সাইট তৈরি করবেন যেভাবেঃ
এস.ই.ও ফ্রেন্ডলি সাইট বলতে এখানে অধিক উচ্চ রেংকিং কিওয়ার্ড পূর্ণ সাইট বোঝানো হয়েছে। এটি হচ্ছে আপনার সাইট এর Meta Data এবং Title Tag কে কিওয়ার্ড দিয়ে সাজানো। [চতুর্থ খণ্ডে কিওয়ার্ড নিয়ে আরও বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে] আপনার সাইট হতে হবে কিওয়ার্ড এ পরিপূর্ণ (অতিরিক্ত নয়) কিওয়ার্ড এর ব্যাবহার মূল বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। কোন বিষয় ছাড়া এমনিতেই সাইট কিওয়ার্ড দিয়ে ভরিয়ে ফেললে সেটি সার্চ ইঞ্জিন এর চোখে পড়বে এবং আপনার সাইট এর রেংকিং কমে যাবে। সাইট এ খুব বেশী ইমেজ ও ফ্লাশ এর ব্যাবহার করা যাবে না। অনেকেই ক্লায়েন্টকে খুশি জন্য সাইট ডিজাইন করলে অনেক উচ্চমানের স্থিরচিত্র (Still Image) এনিমেশন, ফ্ল্যাশ ইত্যাদি ব্যাবহার করে সাইট ভারী করে ফেলে। এক্ষেত্রে আপনার মনে রাখতে হবে যে, এস.ই.ও এর ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টকে (যার জন্য সাইট ডিজাইন করেছেন) খুশি করার থেকেও বেশী প্রয়োজন ওই সাইট এর ব্যাবহারকারিকে খুশি করা। অনেকে পেইজের নাম, মেন্যু, বাটন ইত্যাদি তে লেখা (Text) ব্যাবহার না করে, ডিজাইন করা ছবি (Image) করে। এর কারনে আপনার সাইটের নান্দনিকতা বৃদ্ধি করলেও রেংকিং কমিয়ে দেয়। কারন, সার্চ ইঞ্জিন একটি বুদ্ধিহীন প্রোগ্রাম। সে ইমেজ এর ভেতরের লেখা পড়তে পারেনা। তাই, সেখানে কি আছে সে জানে না এবং ইনডেক্স ও করে না। যে ক্ষেত্রে আপনার ইমেজ ব্যাবহার না করলেই নয়, সেক্ষেত্রে আপনি ইমেজ এর ট্যাগ এ Alt অ্যাট্রিবিউট ব্যাবহার করবেন। সে ক্ষেত্রে আপনার ইমেজ যদি কোন কারনে লোড না হয়, তবুও জায়গাটি খালি পড়ে থাকবে না। সেখানে ইমেজটির পরিবর্তে আপনার Alt অ্যাট্রিবিউট এ যে ভ্যালু দিয়েছেন সেটির লিংক (Clickable Link) দেখাবে। তার থেকে বড়, কথা হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন ওই ইমেজটিকে চিনতে পারবে এই ট্যাগ এর মাধ্যমে।

ধরে নিলাম যে আপনি এই ইমেজটি ব্যাবহার করেছেন।সার্চ ইঞ্জিন জানে না যে, এখানে কি লেখা আছে। সে ক্ষেত্রে আপনি ট্যাগ img এ Alt অ্যাট্রিবিউট ব্যাবহার করতে পারেন।

”Buy

এভাবে ব্যাবহার করলে সার্চ ইঞ্জিন বুঝতে পারবে যে, এই ছবিটি Buy Now এর। এবং সে Buy কিওয়ার্ডটিকে আপনার সাইটের জন্য আরেকবার ইনডেক্স করবে এবং গুরুত্ব দেবে।

ভাল মানের অপটিমাইজেশন করার জন্য যে বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দিতে হবে সেগুলো হোলঃ
 Title tag
 Meta description tag
 Meta keywords tag
 Heading tag(s)
 Textual content
 Alt attributes on all images
 Strong/bold tags
 Fully-qualified links
 Site map
 Text navigation
 JavaScript/CSS externalized
 Robots text (.txt) file
 Web analytics
 Keyword research (কারিগরি প্রক্রিয়া-দ্বিতীয় খণ্ডে)
 Link development
 Image names
 Privacy statement
 Contact information
 Dedicated IP address

পরিষ্কারভাবে বিষয়বস্তু সাইটে তুলে ধরাঃ
উচ্চ কিওয়ার্ড রেংকিং পাওয়ার জন্য আপনার সাইটের মূল বিষয়বস্তু পরিস্কার হতে হবে। আপনি যদি খেলনা বিক্রয় করেন, তাহলে আপনার সাইটে শুধু প্রতিটি খেলনার নাম, ছবি এবং মূল্য দিয়েই থেমে যাবেন না। প্রতিটি খেলনার বিস্তারিত বর্ণনা, এটিতে কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে ইত্যাদি বর্ণনা করুন। এটি শুধু আপনার গ্রাহককেই তার পছন্দমত পণ্য বেছে নিতে সাহায্য করবে না, পাশাপাশি সার্চ ইঞ্জিনের কাছেও (একই বিষয়ের কতোগুলো কি ওয়ার্ড আপনার সাইটে আছে তার উপর ভিত্তি করে) আপনার সাইটকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে। সার্চ ইঞ্জিন এর একটি বৈশিষ্ট্য হোল, সে আপনার সাইটের ক্যাটাগরি বাছাই করার জন্য আপনার কন্টেন্ট সমুহের নাম (যেগুলোতে হেডিং ট্যাগ H1,H2,H3… অথবা বোল্ড ট্যাগ B ব্যাবহার করা হয়েছে) কে প্রাধান্য দেয়।

আপনার সাইট এ আপনি কন্টেন্টসমুহের ক্যাটাগরি করলে , এবং লেভেল ইউজ করলে ভাল ফলাফল পাবেন। যেমন, আপনি একটি রেস্টুরেন্ট এর সাইটে, Lunch ক্যাটাগরিতে (Lunch লেভেল সংযুক্ত করে) ভাত, মাছ মাংস ইত্যাদি এবং Dinner ক্যাটাগরিতে (Dinner লেভেল সংযুক্ত করে) রুটি, সবজি, কফি ইত্যাদি রাখতে পারেন। তাহলে সার্চ ইঞ্জিন বুঝতে পারবে যে আপনার এখানে Lunch এর এবং Dinner এর অনেক আইটেম আছে। তখন সে কোন ইউজার Lunch বা Dinner করার ভাল লোকেশন জানার জন্য সার্চ করলে আপনার সাইটটি প্রদর্শন করার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

মূল থিম এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করাঃ
আপনার একটি সাইটে যখন প্রতিদিন প্রচুর ভিসিটর আসে, তখন আপনি সাইটে ডিজাইনে কোন পরিবর্তন আনলে, তা আগের অবস্থার মত করেই পরিবর্তন আনতে হবে। আপনার সাইটে এসে যেন ইউজার এর মনে না হয় যে, সে অন্য কোন সাইটে এসে পড়েছে। তাহলে এটি তার উপন নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ঘনঘন ডিজাইন টেম্পলেট / লেআউট পরিবর্তন করলে আপনি অনেক ভিসিটর হারাবেন। সামঞ্জস্যতা বজায় রাখার জন্য আপনাকে একই পেইজে সম্পর্কযুক্ত কন্টেন্টগুলো রাখতে হবে। ধরুন, যে পেইজে আপনি মোটর সাইকেল রেখেছেন, সেই পেইজে হেলমেট রাখতে পারেন। তেল-মবিল এর বিজ্ঞাপন ও রাখতে পারেন। কিন্তু, সেই পেইজে যদি মোবাইল এর বিজ্ঞাপন রাখেন, তাহলে সেটি হবে অপ্রাসঙ্গিক।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাঃ
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মার্কেটপ্লেস (অনলাইনে) এ কেউ সল্পমেয়াদী ব্যাবসা পরিচালনা করার ইচ্ছা নিয়ে আসে না। আপনার ওয়েবসাইটকে আপনি কতদিন সচল রাখতে চান? নিঃসন্দেহে আপনি আপনার সাইটকে অফুরুন্তকাল যাবৎ স্থায়ী করতে চান। মার্কেটপ্লেস এ আপনি একা নয়, তাই আপনার সাইটকে আপনি যত দেরীতে এস.ই.ও করবেন, ততই আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে পেছনে পড়ে যাবেন। আপনার সাইটকে সতন্ত্র রাখতে আপনি যে প্রযুক্তি ব্যাবহার করছেন, প্রতিনিয়তই সেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে। তাই, আপনাকেও নতুন নতুন প্রযুক্তির সাথে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর প্রথম দিকে ওয়েবসাইটে ফ্রেম ব্যাবহার করা হতো। কিন্তু বর্তমান সময় এই পদ্ধতি কে প্রাচীন (Backdated) মনে হয়। কয়েক বছর আগেও ফ্লাশ এ তৈরি করা স্প্ল্যাশ স্ক্রিন চরম জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু, বর্তমানে মুলত সাইটকে ধীরগতি করার কারনে এটি আর ব্যাবহার করা হয় না। এস.ই.ও এর জন্যও এই ব্যাপারটি সমস্যাপূর্ণ। তাই, বর্তমানে এনিমেশন করার জন্য CSS, jQuery ইত্যাদি ল্যাংগুয়েজ এবং অ্যানিমেটেড ইমেজ ব্যাবহার করা হয়। যার ফলে, সাইটের গতি ভাল থাকে।

 সার্চ ইঞ্জিন এর সাথে সম্পর্ক তৈরি করাঃ
যদিও ইন্টারনেট এ অনেক সার্চ ইঞ্জিন আছে, কিন্তু আপনি জেনে খুশি হবেন যে, আপনি শুধুমাত্র কয়েকটি সার্চ ইঞ্জিন এর কাজের প্রক্রিয়া এর উপর নির্ভর করে পরিকল্পনা করলে, বাকি সবগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এস.ই.ও হয়ে যাবে। কারনে, এদের অভ্যন্তরীণ এলগরিদম কিছু নীতিমালা মেনে চলে। প্রত্যেকটি সার্চ ইঞ্জিনের নিজস্ব সেবা নিয়ে একটি করে সতন্ত্র কোম্পানি আছে। যখন কোন একজন ব্যাবহারকারি Google, Yahoo!, Microsoft Live Search, Ask.com বা অন্য কোন একটি প্রথম সারির সার্চ ইঞ্জিনে একটি বিষয় নিয়ে সার্চ করে, তখন ওই ইঞ্জিন নিজের ফলাফলের সাথে অন্যোন্য সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফলের তুলনা করে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলটিই ব্যাবহারকারিকে প্রদর্শন করে।এরা একটি কমিউনিটি পরিচালনা করে। যখন কোন নতুন তথ্য একটি সার্চ ইঞ্জিন ক্রাউলার (Crawler) এর ইনডেক্স এ আসে, তখন সে এই নতুন তথ্য অন্যোন্য সার্চ ইঞ্জিন এর সাথে শেয়ার করে।

নিচে চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে যে কিভাবে সার্চ ইঞ্জিনসমূহের মধ্যে তথ্য আদান প্রদান হয়। মুলত Google, Yahoo! এবং Microsoft Live এই তিনটি প্রধান সার্চ ইঞ্জিন, যারা অন্যোন্য সার্চ ইঞ্জিনসমুহকে ফলাফল প্রদান করে। এখানে কালো তীর (Arrow) দিয়ে পেইড রেজাল্ট (যেটির কথা আমরা প্রথমে বলেছিলাম, পে পার ক্লিক বা PPC বিজ্ঞাপন) বোঝানো হয়েছে এবং ধূসর তীর দিয়ে অরগানিক বা সাধারণ ফলাফল সরবরাহ করা বোঝানো হয়েছে। এই চিত্র থেকে পরিস্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে যে, যখন একজন ইউজার Netscape এ সার্চ করে, তার ফলাফল যদিও Netscape এর নিজস্ব ইনডেক্স থেকে দেখায়, কিন্তু তথ্যগুলোর মূল সরবরাহকারী হচ্ছে গুগোল। তাই, আপনি যদি আপনার সাইটকে গুগোল এবং ইয়াহুতে ভাল রেংকিং এ নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে প্রায় সব সার্চ ইঞ্জিনেই আপনার সাইট ভাল রেংকিং এ আসবে।
[তথ্যঃ এই চার্টটি ২০০০ সালে প্রকাশিত]

সার্চ এর ফলাফল দেখা – অরগানিক এবং পেইডঃ
সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করলে মুলত ২ ধরনের ফলাফল দেখায়। Organic Result এবং Paid Result। আমরা আগে এটি নিয়ে কিছুটা আলোচনা করেছিলাম।
# Organic Result বা সাধারণ ফলাফলঃ এটি হচ্ছে যে পদ্ধতিতে উচ্চ পেজ রেংক সম্পন্ন সাইটগুলোকে সার্চ কুয়েরি অনুযায়ী প্রদর্শন করে। মুলত আমরা এই পদ্ধতি নিয়েই কাজ করছি। এই পদ্ধতিতে কিওয়ার্ড এর ভিত্তিতে সাইটকে প্রথম পেইজে প্রকাশ করা হয়।এটিকে প্রাইমারি রেজাল্টও বলা হয়।
# Paid Result বা ক্রয়কৃত ফলাফলঃ এটি হচ্ছে PPC বা পে পার ক্লিক পদ্ধতি। নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড এর ভিত্তিতে গুগোলকে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ প্রদান এর মাধ্যমে কোন সাইট কে প্রথম পেইজে দেখানে যায়। এই পদ্ধতিতে প্রদানকৃত বিজ্ঞাপনগুলোকে Sponsored Ad বলা হয়।

** এটি অনেকটাই আপডেট চার্ট **
সার্চ এর ফলাফল পেইজে আপনি খুব সহজেই Organic Result এবং Paid Result কে আলাদাভাবে সনাক্ত করতে পারবেন। কারন, সার্চ ইঞ্জিনই তাদের আলাদা ভাবে দেখায়। পেইড রেজাল্ট কে সাধারনত প্রাইমারি রেজাল্ট এর উপরে অথবা ডান পাশে থাকে। পেইড রেজাল্ট এ কোন বর্ডার অথবা ব্যাকগ্রাউনড সেডিং বা কোন সনাক্তরন লেখা দিয়ে থাকে। সাধারণ ব্যাবহারকারিরা অনেকসময় Organic Result এবং Paid Result এর পার্থক্য বুঝতে পারে না। এই পার্থক্যটি জানলে, ভালভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় যে, কোন রেজাল্ট এ ক্লিক করা উচিত। আবার অন্যভাবে চিন্তা করলে, পেইড রেজাল্ট যেহেতু বিজ্ঞাপন। কেউ একজন টাকা খরচ করে এটি আপনাকে দেখাচ্ছে, তাহলে নিশ্চয় এর ভেতরে কিছু আছে। পেইড রেজাল্ট গুলো বিশেষ করে প্রথম ২ শ্রেণীর সার্চার (গবেষক ও ক্রেতা) এর জন্য অধিক কাজের।

সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে সকল তথ্য পেল?
আপনি কি জানেন? কিভাবে সার্চ ইঞ্জিন এতসব তথ্য পেল? কি করে সে মুহূর্তের মধ্যে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য আপনার সামনে এনে হাজির করে? এখন আমি প্রযুক্তির মোড়ক উম্মচন করবো।
প্রথম ধাপ হচ্ছে , তথ্য সংগ্রহ করা। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় পক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াকে ক্রাউলিং বা স্পাইডারিং (Crawling/Spidering) বলা হয়। এটি একটি প্রোগ্রাম (ক্রাউলার) সম্পাদন করে। এই ক্রাউলার ইন্টারনেট এ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ঘুরে বেড়ায় এবং তথ্য সংগ্রহ করে গুগোল এর সার্ভার এ জমা রাখে। প্রত্যেকটি মেজর সার্চ ইঞ্জিন এর নিজস্ব ক্রাউলার রয়েছে। গুগোল এর ক্রাউলারকে বলা হয় Google BOT । এটি অনেকটা রোবট এর মত কাজ করে। আপনার ওয়েবসাইটের কোন একটি তথ্য পরিবর্তন হলে সাথে সাথে সার্চ ইঞ্জিন এর ইনডেক্স এ সেই তথ্য পরিবর্তন হবে না। সেটি ১ দিনেও হতে পারে, আবার কয়েক সপ্তাহ পরেও হতে পারে। সময়ের ব্যাবধানটি নির্ভর করবে পরিবর্তন এর কত সময় পর ক্রাউলার আপনার সাইট এ এসে ঘুরে গেছে এবং নতুন তথ্য ইনডেক্স করেছে, তার উপর।
দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে, এই কাচামাল (Raw Data) হিসেবে সংগৃহীত তথ্যসমুহকে ব্যাবহারযোগ্য করে তোলা। ইনডেক্স করার সময়ই তথ্যসমুহকে ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সাজানো হয়। যে তথ্যগুলো একাধিক বার আছে, সেগুলো থেকে একটি রেখে বাকিগুলো মুছে ফেলা হয়। তারপর এটি সুন্দর ভাবে সার্ভারে সাজিয়ে রাখা হয়। সম্পূর্ণ ব্যাপারটি অনেকটা ফাইল ক্যাবিনেট এ কাগজপত্র সাজিয়ে রাখার মত।
ব্যাবহারকারির প্রতিটি কুয়েরি এর জন্য সার্চ ইঞ্জিন একটি এলগরিদম ব্যাবহার করে। এটি মুলত একটি গানিতিক প্রক্রিয়া, যেটি অনেকগুলো শর্তের ভিত্তিতে ফলাফল প্রদান করে। কোন ফলাফলটি আগে দেখাবে সেটা সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কয়েকটি সুত্র ব্যাবহার করে। সূত্রগুলো ক্ষেত্রবিশেষে সিঙ্গেল লেয়ার এবং মাল্টি লেয়ার সম্পন্ন হয়ে থাকে।
একটি প্রেস কনফারেন্স এ গুগোল এর রিপ্রেজেন্টেটিভ বলেছেন যে, তাদের সার্চ ইঞ্জিন প্রদত্ত কুয়েরি অনুযায়ী ফলাফল প্রদান করার জন্য ২০০ এর ও বেশী ভেরিয়েবল এনালাইজ করে। আপনি হয়তো ভাবছেন তাদের ভেরিয়েবল কি? গুগোল এটি কখনোই এটি সরাসরি প্রকাশ করেনি, সেজন্যই এটি (SEO System) সারা বিশ্বব্যাপী একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। কিন্তু আমরা গবেষণার মাধ্যমেই এটির ফলাফল পেয়েছি। সেই গবেষণাই আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। তাই আপনি এমনভাবে সাইট তৈরি করতে পারবেন, যেটি সব সার্চ ইঞ্জিন এর দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, তারা কোন এলগরিদম ব্যাবহার করছে সেটা কোন ব্যাপারই না। এর জন্য চাই দক্ষতা এবং শৈল্পিক মানসিকতা। এটিই হচ্ছে এস.ই.ও এর মূল বিষয়, যা আমি এই বইতে বর্ণনা করতে চাচ্ছি।

[ আমি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এস ই ও টিউটোরিয়াল (মাষ্টার অফ এস.ই.ও সিরিজ) তৈরি করছি। এটিতে সম্পূর্ণ দক্ষ লেভেল এর এস.ই.ও শেখানো হবে। এর প্রথম খণ্ড (সার্চ ইঞ্জিনের কাযর্প্রণালী) এর প্রথম অধ্যায় আজ প্রকাশ করা হোল। ধন্যবাদ]

পূর্বে প্রকাশিত আমার ব্লগের এই পোস্টে
এটি PDF আকারে ডাউনলোড করে নিন, এখানে।


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

মুঠোফোনে অভ্র ফোনেটিক পদ্ধতিতে বাংলা লিখুন
এবার আপনিই হন জাদুকর 3D স্টুডিও ম্যাক্স দিয়ে (টিউটোরিয়াল) (১ম পর্ব)
প্রফেশনাল PSD Web Template - Part 6 ( কালার ফুল টেমপ্লেট অসমাপ্ত অংশ)
সিডি ডিভিডি রোম ছাড়াই খুব সহজে মেমরী বা পেনড্রাইভ দিয়ে XP দিন
সুখবর – নতুন যারা অনলাইনে ইনকাম করতে আগ্রহী তাদের জন্য Part-3
১ বছরের অরিজিনাল ইন্টারনেট সিকিউরিটি + এন্টিভাইরাস লাইসেন্স - অতি অবশ্যই ফ্রিতে!
ওয়েব ডিভেলপমেন্ট বেসিক টিউটোরিয়াল পার্ট -৪

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

kazinishat

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/tutorials/kazinishat/53901

মন্তব্য করুন