«

»

সাইবার উন্মাদ

আপনি ফেসবুকে কতটা আসক্ত? পরীক্ষা করে দেখুন!

আশা করি সবাই ভালো আছেন 🙂
আজ আমি ফেসবুকের আসক্তি পরীক্ষা করার একটি উপায় আপনাদের জানাচ্ছি। এই পরীক্ষাটি Dr. Brent Conrad (Clinical Psychologist for TechAddiction) এর প্রদত্ত এবং এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকর পরীক্ষা। দয়া করে আস্তে আস্তে সময় করে পুরোটুক পড়ুন।

আপনি কি ফেসবুকে আসক্ত? প্রতিদিন অনেক সময় কাটান ফেসবুকে কিন্তু আপনি বুঝতে পারছেন না আপনি ফেসবুকে আসক্ত কিনা।

ফেসবুকের এ আসক্তিকে বলা হয় Facebook Addiction Disorder। মাদকাসক্তির মতই ফেসবুক আসক্তি খুব ভয়ংকর। ফেসবুকে অতিরিক্ত পরিমানে আসক্তি সামাজিক জীবন, পারিবারিক জীবনে শান্তি নষ্ট করে। এছাড়াও ঘুমের ও দেহের ক্ষতি করে থাকে।

একটি প্রশ্ন করা হয়েছিলো ‘আপনি প্রতিদিন ফেসবুকের পেছনে কত সময় ব্যয় করেন?’ প্রশ্নের উত্তরে দেখা গেলো অনেকেই বলছে তারা সারাদিনই ফেসবুকে থাকেন। হয় কম্পিউটার বা মোবাইল দিয়ে তারা অনলাইনে থাকেন। অনেকেই ব্যবসায়িক কাজে ফেসবুক ব্যবহার করে। তাদের জন্য এটা নেশা নয়। এটা পেশা।

কিন্তু কিভাবে বুঝবেন আপনি Facebook Addiction Disorder এর আক্রান্ত কিনা? নিচে একটি টেস্ট দেওয়া হলো। নিচের মনকে প্রশ্নগুলো করুন উত্তর পেয়ে যাবেন।

টেস্টের কতটি উত্তর আপনার জন্য সত্য তা হাতে গুনে রাখুন। পরে কাজে লাগবে।

তাহলে শুরু করা যাক। আস্তে আস্তে পড়ুন ও নিজের মনকে প্রশ্ন করে উত্তর বের করুন। কয়টি উত্তর মোট সত্য হলো তা গুনে রাখুন।

= Facebook Addiction Test =

১. আমি ফেসবুকে প্রতিদিন যতটুকু টাইম ব্যয় করেছি ভাবি আসলে তার থেকে বেশি সময় ব্যয় করি। (সত্য/মিথ্যা)

২. আমি সকালে দেরী করে ঘুম থেকে উঠি রাতে অনেক্কখন ফেসবুকে ছিলাম বলে। (সত্য/মিথ্যা)

৩. আমার বন্ধুরা বলে যে আমি নাকি সারাদিন ফেসবুকে থাকি। (সত্য/মিথ্যা)

৪. আমি প্রতিদন ফেসবুকে ২ঘন্টা শুধুই বন্ধুদের সাথে আড্ডা/ফুর্তির জন্য ব্যয় করি। (সত্য/মিথ্যা)

৫. আমি মাঝে মাঝে স্কুল,কলেজ বা রাস্তায় চলার পথে ফেসবুক ব্যবহার করি। (সত্য/মিথ্যা)

৬. একদিন ফেসবুকে লগিন করতে না পারলে আমার খুব কষ্ট লাগে। (সত্য/মিথ্যা)

৭. আমি ফেসবুকে সবার ফ্রেন্ড Request accept করি বা request পাঠাই সবাইকেই। (সত্য/মিথ্যা)

৮. ফেসবুকের প্রায় বেশিরভাগ বন্ধুই আমার রিয়েল লাইফে অজানা। (সত্য/মিথ্যা)

৯. ফেসবুকের জন্যই আমার কাজে ক্ষতি হচ্ছে। (সত্য/মিথ্যা)

১০. ফেসবুকের কারনে আমার relationship ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। (সত্য/মিথ্যা)

১১. আমি কয়েক ঘন্টা ফেসবুকে গেইম খেলি (সত্য/মিথ্যা)

১২. ফেসবুকে কোন পোস্ট করলে তাতে কোন লাইক/কমেন্ট না পাওয়া পর্যন্ত আমার বেশ অসস্তি লাগে। (সত্য/মিথ্যা)

১৩. আমি ফোনে কথা বলার চাইতে চ্যাট করতে ভালোবাসি (সত্য/মিথ্যা)

১৪. আমি ফেসবুকে ব্যয় করা সময় কমাতে চেয়েছি কিন্তু পারিনি (সত্য/মিথ্যা)

১৫. আমি ইন্টারনেটের অন্য কোন সাইট থেকে ফেসবুকে বেশিক্ষন থাকি (সত্য/মিথ্যা)

১৭. ফেসবুক ইউজ করার পর থেকে আমি খেলাধুলা,আড্ডা,টিভি দেখা বা অন্যান্য বিনোদন্মুলক কাজ কমিয়ে দিয়েছি। (সত্য/মিথ্যা)

১৮. ফেসবুকে অনেক বন্ধু থাকার পরেও আমি একাকী অনুভব করি। (সত্য/মিথ্যা)

১৯. আমি কারো সাথে কোথাও বেড়াতে গেলেও ফেসবুকে লগিন করে থাকি। (সত্য/মিথ্যা)

২০. সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমি ফেসবুক চেক করি। (সত্য/মিথ্যা)

২১. রাতে শোবার আগে ফেসবুক চেক করা আমার শেষ কাজ। (সত্য/মিথ্যা)

২২. আমি যখন বিরক্ত বা রাগী হয়ে পরি তখব ফেসবুক ব্যবহার করি। (সত্য/মিথ্যা)

২৩. ফেসবুকের কারনে আমি মাঝে মাঝে কাজে/স্কুলে যেতে দেরী করি। (সত্য/মিথ্যা)

২৪. কেউ আমার friend request accept না করলে আমার অসস্তি লাগে। (সত্য/মিথ্যা)

২৫. আমি মোবাইলে facebook notification sms চালু করেছি যাতে সবসময় আপডেট থাকতে পারি (সত্য/মিথ্যা)

২৬. যদি কারো আমার থেকে বেশি ফ্রেন্ড আছে দেখি ফেসবুকে তবে আমার বেশ খারাপ লাগে। (সত্য/মিথ্যা)

২৭. আমার মনে হয় আমি এক সপ্তাহের জন্য ফেসবুক ছাড়া থাকতে পারবো না। (সত্য/মিথ্যা)

২৮. কেউ আমাকে রিয়েল লাইফে কি বলল আর ফেসবুকে কি বলেছিলো তা মাঝে মাঝেই তালগোল পাকিয়ে যায়। (সত্য/মিথ্যা)

২৯. মাঝে মাঝে কিছুই করার থাকেনা তখন আমি ফেসবুক ব্যবহার করি। (সত্য/মিথ্যা)

৩০. ১৬নম্বর পয়েন্টটা যে মিস হয়েছে তা আমি খেয়াল করিনাই। আমি খুব তারাতারি লেখা পড়ি দেখেই এটা হয়েছে। (সত্য/মিথ্যা)

~ ফলাফল ~
উপরে আপনি কতটি উত্তর সত্য বলেছেন?

০-৫টি সত্যঃ আপনি ফেসবুকের হালকা ইউজার। ফেসবুক ব্যবহার করা আর না করা আপনার কাছে সমান ব্যাপার।

৬-১০টি সত্যঃ ফেসবুক আপনার প্রতিদিনের পার্ট। আপনি সঠীক ভাবেই তা বুবহার করছেন।

১১-২০টি সত্যঃ আপনার ফেসবুক ব্যবহার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আপনি নেশার পর্যায়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। নিজেই আস্তে আস্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করুন।

২১-২৯টি সত্যঃ আপনি সাংঘাতিকভাবে ফেসবুকের প্রতি আসক্ত। আপনি Facebook Addiction Disorder এর একজন রোগী। এর কারনে আপনার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা উচিত আপনার।

ফেসবুক আসক্তি থেকে রেহাই পাবার উপায় দিবো পরের কোন এক পোস্টে। ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকবেন 🙂

পোস্টটি পূর্বে আমার ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত।


মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

সাইবার উন্মাদ

সাইবার উন্মাদ

আমি সাইবার উন্মাদ। ভালোবাসি প্রযুক্তিকে। সবার মাঝে প্রযুক্তির আলো ছড়িয়ে দিতে চাই।

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/tips-tricks/raadu/43785

মন্তব্য করুন