«

»

হটস্পট প্রযুক্তি ও ক্রিকেট।

সবাকে সালাম জানাই।

মাহেলা’কে তার সেঞ্জুরির জন্য কংগ্রাচুলেশন ও শচীনে’র জন্য শুভ কামনা জানিয়ে আজকের টুইটে স্বাগতম। খেলায় যেই জিতুক না কেন বিশ্বকাপ এশিয়াতে থাকছে তাতেই আমি খুশি। আজ আমরা কথা বলবো ক্রিকেটিয় একটি প্রযুক্তি নিয়ে। হ্যাঁ আজকের বিষয় ইতি মধ্যে শিরোনামে দেখেছেন যেটা কিনা, ‘হটস্পট’ প্রযুক্তি নিয়ে।

 

হট স্পট কি?

হট স্পট হচ্ছে ইনফ্রারেড(Infrared) ইমেজিং প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া এখন পর্যন্ত ক্রিকেট ছাড়া অন্য কোথাও খুব একটা দেখা যায় নি। সাধারণত ক্রিকেট খেলায় ব্যাটসম্যানের গায়ে অর্থাৎ প্যাডে, গ্লাভসে কিংবা ব্যাটে বল’র টাচ বা এডজ বের করতে এই সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।

 

কিভাবে হট স্পট কাজ করে?

মাঠে’র দুই আম্পায়ার যখন কোনও আউট’র জন্য থার্ড আম্পায়ার’র কাছে যান তখন তিনি হট স্পট দিয়ে এডজ কিংবা স্পর্শ পরীক্ষা করে দেখেন। ইনফ্রারেড(Infrared) ইমেজিং এর কারনে ব্যাটসম্যানের চারপাশ এবং ব্যাটসম্যানকে কালো দেখায়। অনেকটা ম্যানুয়াল ক্যামেরার নেগেটিভ এর মত। সেক্ষেত্রে স্পর্শ এর জায়গাটা তুলনামূলকভাবে সাদা দেখায়।

এ প্রক্রিয়ার জন্য দুটি ক্যামেরার প্রয়োজন হয়। দুটি ক্যামেরাকে থাকতে হবে সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে। এবং এই ক্যামেরাগুলুকে থাকতে হবে মাঠ থেকে কিছুটা উপরে পুরা খেলাটাকে ভিডিও করা অবস্থায়। বল অন্য কোনও কিছু’র অংশের সাথে সংঘর্ষ করলে সেই জায়গাটা সাদা করে দেওয়াই হটস্পট এর কাজ।

হটস্পট এর অতীত কথাঃ

ফ্রান্সের সাইন্টিস্ট নিকোলাস বাইওন(Nicholas Bion) সর্বপ্রথম হট স্পট সিস্টেমে’র আবিষ্কারক। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় সর্বপ্রথম (অস্ট্রেলিয়া

বনাম ইংল্যান্ড)খেলার সময় এই হটস্পট সিস্টেম প্রথম চালু করা হয়।  আরো স্পেসিফিকভাবে বলতে গেলে দি গাব্বা’তে ২৩ নভেম্বের ২০০৬ হটস্পট তার পথ চলা শুরু করে। স্কাই স্পোর্টস ও স্নিকোমিটার নামক অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানী এই হট স্পট সিস্টেমে’র উদ্দোগতা। তবে ঐ অ্যাশেজ কিন্তু নাইন নেটওয়ার্ক কোম্পানি এই প্রযুক্তি নিয়ে আসে।

 

কেন এই বিশ্বকাপে হট স্পট নেই?

আমরা এই ২০১১ বিশ্বকাপে হক-আই সিস্টেম দেখলেও হট স্পট দেখতে পাইনি। সাধারণত আস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং সাউথ আফ্রিকা’র ম্যাচে আমরা হটস্পট সিস্টেম দেখতে পাই। এর মূল কারন হল অর্থ ব্যয়।

প্রতি দিন দুই ক্যামেরা’র জন্য ৬০০০ (*ছয় হাজার) ডলার এবং চার ক্যামেরা’র জন্য ১০০০০ (দশ হাজার) ডলার ব্যয় করতে হয়। এই বিপুল অর্থ ব্যায়ের কারনে এই ২০১১ বিশ্বকাপে হটস্পট সিস্টেম রাখা হয় নি। যদিও বিশ্বকাপে আই সি সি প্রতিটি ম্যাচের জন্য সাড়ে সাত লাখ ডলার করে বাজেট করেছে!! (এক ডলার বর্তমানে বাংলাদেশী টাকায় ৮৩ টাকা*)

 

শেষ কথাঃ

আসলে যতই প্রযুক্তি আসুক না কেন ক্রিকেট হচ্ছে বন্ধুত্ব ও সততা’র খেলা। সততা’র খেলা কেন বললাম? কারন আজ এই টুইট শেষ করবো একজন সৎ খেলোয়ারে’র কথা বলে। তিনি হচ্ছেন এডাম গিলক্রিস্ট। আপনাদের অনেকে’র হয়ত মনে আছে, একবার শ্রীলাঙ্কা’র সাথে একটা খেলায় এডাম গিলক্রিস্ট একজন স্পিনারের বলে এডজ করেছিলেন। সেটা কিপারের হাতে গেলে আম্পায়ার নট আউট ঘোষনা দেন। তখন রিভিউ সিস্টেমও ছিলোনা। কিন্তু এই কিংবদন্তী খেলোয়ার নিজে থেকে প্যাভিলিওন এর দিকে হাটা শুরু করলেন!

যদি সবার মাঝে সেই সততা থাকতো, তবে পুরো খেলাটা অন্য রকম হতে পারতো।

যাই হোক আমরা টেকটুইটস পরিবার ও সকল টেকি’রা সবসময় প্রযুক্তিরই জয়গান গাই, তা যে ক্ষেত্রেই আসুক না কেন।

 

সবাই ভালো থাকবেন। নিজের যত্ন নিবেন।


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

টেকটুইটস এর ছোট একটা আপডেট
ই-নকল: শিক্ষার্থীরা নকল করছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে!
মোবাইল ফোনের আবিষ্কারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।
সব কিছুই কি বিজ্ঞান দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়?
ভয়েস সার্চ করা যাবে গুগলে
চলুন দেখে আসি ফাইল আনজিপ এবং জিপ করার জন্য অসাধারণ কয়েকটি টি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপলিকেশন!
প্রযুক্তি বিষয়ক যে কোন প্রশ্নের উত্তর জানুন এখন এক জায়গায় । আর কি লাগে ?

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

Rubel Orion

ফেসবুকে আমিঃ https://www.facebook.com/mosharrof.rubel

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/science-tech/rubel/2629

3 comments

  1. ঐ ছেলেটি
    jakir

    প্রযুক্তিটি ভালো, তবে সামান্য ক্ষেত্রে একটু সমস্যা করে।

  2. bright space

    জানলাম এবং বুঝলাম
    নিজেকে আম্পায়ার বলব কিনা ভাবছি !

  3. Rubel Orion

    কেন আম্পায়ার বলতে চান কেন?? 😉

মন্তব্য করুন