«

»

বাংলাদেশে ই-কমার্স

২০০৮ সাল থেকে আন্তর্জাতিক কিছু সাইট থেকে বিভিন্ন জিনিস কিনি আমি। ভাল বই, ভাল ইলেকট্রিনকস্‌, ভাল একটা জুতা বা অন্য কিছু। হয়ত কাউকে অনুরোধ করে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট করতে হত। তার উপর আরেক ঝামেলা কাকে দিয়ে আনানো যায় বা কবে এসে হাতে পৌঁছবে। মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত লাগত। দেশকে গাল-মন্দ কিছু দিতে বাকি রাখিনি যে কেন এখনও paypal চালু হচ্ছেনা দেশে। উন্নত দেশ গুলতে সবাই কত আরামে জিনিস কিনে। যাই হোক এভাবেই চালাচ্ছিলাম কয়েক বছর। কিন্তু ঝামেলা সেই রয়েই গেল।
আমরা বাংলাদেশের মানুষরা ই-কমার্স এর বেপারে জানি খুব বেশি না। তবে e-bay আর amazon.com এর নাম কম বেশি শহরের মানুষ রা জানি। বাংলাদেশ এ ই-কমার্স এর প্রচলন শুরু হয় বছর পাঁচেক। প্রথমে ব্যাংক গুলো শুরু করে, ধীরে ধীরে clickBD, cellbazar এই সাইট গুলো গড়ে ওঠে। সময়ের স্রোতে আজকে দেশ অনেকটাই এগিয়ে গেছে। আসলে দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা যদি কিছু না শুরু করি তাহলে দেশকে গালি দেয়া আর নিজেকে গালি দেয়ায় কোন পার্থক্য নেই। ইনফর্মেশন-টেকনোলজি তে বাংলাদেশ অনেকখানি এগিয়ে গেছে।
বাংলাদেশের একটা সাইট এ আমি কিছু জিনিস বিক্রি করি গতবছর। ভালই মনে হল, তবে কিনতে গিয়ে দেখলাম এখানে কিনতে গেলে কোন বেক্তির কাছ থেকে কিনতে হয়, তাও নতুন নয় প্রায় সময়ই। শেষমেশ দেখলাম কিছু নতুন কিনতে গেলে সেই ঢাকা শহরের যানজট ভেঙ্গে শপিং সেন্টার গুলতেই দৌড়াতে হচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কাজের ফাঁকে সময় বের করে কোথাও পছন্দের কিছু কিনতে যাওয়ার সময় হয়ে ওঠেনা।
আসলে প্রচলিত ধ্যান ধারণা থেকে বের হয়ে বর্তমান সময়ের বিশ্বের সাথে চলতে গেলে নিজেদের অনেকটা update করা জরুরি। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য আসলে আমাদের মাঝে ই-কমার্স এর বেপারে কিছু কথা বলা। যারা আমরা অনেক ব্যস্ত, কাজের ফাঁকে একটু সময় পেলে ইন্টারনেট এ বিচরন করি তাদের আর কিছু উপায় সমন্ধে জানানো যাতে দিন শেষে কাছের কাউকে কিছু কিনে দেয়ার জন্য কোথাও যাওয়ার সময় না পেয়ে আফসোস করতে না হয়। কাছের মানুষটির মুখে হাসি আমরা কে না দেখতে চাই বলুন!
এ বিষয়ে আমার কিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে ভাগ করে নিব। চেষ্টা করব প্রতিদিন আপনাদের কিছু না কিছু জানানোর।

বাংলাদেশে প্রযুক্তির জোয়ার শুরু হয়েছে প্রায় এক যুগ আগেই। প্রথমে বাংলাদেশে যখন কম্পিউটার ব্যবহার সাধারণ মানুষের মাঝে শুরু হল তখন মানুষ দেখতাম খুব তটস্থ থাকতো। কখন কি নষ্ট হয়ে যায়, কখন কি করতে হবে, সফটওয়্যার কি, হার্ডওয়্যার কি ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এখন দেখুন, খুব কম মানুষ ই পাবেন যে কম্পিউটার সম্বন্ধে কিছুই জানেনা। প্রতিটি মানুষের কাছে যোগাযোগের মাধ্যম গুলো পৌঁছে গেছে অনেকটাই। সবাই আমরা এখন মোবাইল ব্যবহার করছি, ইন্টারনেট ব্যবহার করছি। আজকাল পৃথিবীর দূরদূরান্ত থেকে খুব সহজেই টাকাও পাঠানো যাচ্ছে দেশে। মানুষ এখন অনেকটা অভ্যস্ত তথ্য-প্রযুক্তির বিষয় গুলোতে। আসলে আমরা বাংলাদেশীরা সবকিছুই খুব সহজে শিখতে পারি, আমাদের আগ্রহও অনেক। বিশ্বের উন্নত দেশ যেমন আমেরিকাতেও এখনও পড়াশোনা জানা বহু মানুষ apple এর iphone পুরোপুরি ভাবে ব্যবহার করতে জানেনা। সেখানে আমাদের দেশে নতুন একটি প্রযুক্তি খুব সহজে এবং অল্প সময়ে মানুষ ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।

আমার এত কথা বলার কারণ হল, আমি আমাদের দেশের বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির অবস্থা খানিকটা তুলে ধরতে চেয়েছি। উন্নত দেশ ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে বেশ কয়েক বছর ধরেই ই-কমারস ধারণাটি প্রচলিত। হোম ডেলিভারি, অনলাইন শপিং এগুলো তারা বেশ আগ্রহের সাথেই গ্রহণ করেছে। না করেই বা উপায় কি, যেভাবে দিনে দিনে জনজীবন দ্রুত ও পরিবর্তনশীল হয়ে উঠছে তাতে অল্প সময়ে বহু কাজ যদি হয়ে যায় তাতে ক্ষতির চেয়ে লাভই বেশি। সেই রেশ ধরেই বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে এই প্রযুক্তি সংস্কৃতি।

এই সংস্কৃতির ধারাতেই বাংলাদেশে ২০১১ থেকে এখনই.কম তাদের কার্যক্রম শুরু করে। আগেই বলেছি আমরা বাংলাদেশীরা খুব সহজেই অভ্যস্ত হয়ে যাই। আমাদের দেশে এই ধারা অব্যাহত থাকলে খুব অল্প দিনেই আমরা আমাদের জীবন সহজ করে তুলতে পারবো।


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

আসুন দেখে নেই টেকটুইটস ব্লগে রেজিস্ট্রেশন ও টুইট করার পদ্ধতি
ওয়েব সাইটে এড করুন favicon আইকন
শনি গ্রহের চাঁদ টাইটানের রহস্য !
ডোমেইন ব্লাক লিস্ট কি? বোঝবার ও প্রতিকারের উপায় সহ বিস্তারিত আলোচনা!!
অনলাইনেই ভোটার হওয়া যাবে
টেলিযোগাযোগ খাত থেকে রাজস্ব আয় বাড়াতে VOIP সিম বন্ধের তাগিদ .
চালু হল ডেস্কটপ থেকে হোয়াটস অ্যাপ মেসেজিং!

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

earefin

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/science-tech/earefin/21714

মন্তব্য করুন