«

»

কম্পিউটারের অগ্রগতির পিছনে যাদের অবদানঃ ডিজিটাল জোন

আসসালামুআলাইকুম, টেকটুইটসের সকলকে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা। আশা করি সবাই অত্যান্ত দুঃখের সাথে ভাল আছেন :D। আজ আপনাদের জন্য এনেছি আপনাদের কম্পিউটারের অগ্রগতির পিছনে যারা কাজ করেছেন তাদের হাল্কা কিছু কথা নিয়ে।

undefined

আমরা সবাই কম্পিউটারের ব্যবহার করি। একজন অপরজন থেকে খুব বেশি কাজ জানি। কিন্তু আমরা অনেকই জানি না এই আধুনিক কম্পিউটারের অগ্রগতির পিছনে কারা রয়েছেন। কারা এরা? আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি বা খোঁজার চেষ্টা করেছি? চলুন এবার একটু সময় নিয়ে তাদের খোঁজার চেষ্টা করি! আশা করি অনেককেই খুঁজে পাবো ও আশ্চর্য বা বিশ্ময়বোধ করব। কেন? খুঁজেই দেখুন। না পেলে আমার টুইটটি পড়ার চেষ্টা করুন।

কম্পিউটারের জনক:

কম্পিউটার তো ব্যবহার করছেন! কিন্ত ভেবে দেখেছেন কি এই কম্পিউটার কে তৈরি করেছেন!! কম্পিউটারের জনক বলা হয় চালর্স ব্যাবেজকে। ১৮২২ সালে তিনি লগারিদমসহ গাণিতিক হিসাব নিকাশ অধিক সহজ করার লক্ষ্যে একটি যন্ত্র তৈরি করার পরিকল্পনা হাতে নেন। যন্ত্রটির নাম ছিল “ডিফারেন্স ইঞ্জিন (Difference Engine). কিন্তু প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এটি তার পক্ষে তৈরি করা সম্ভব হয় নি। তারপর দীর্ঘ প্রায় ১যুগ পর ১৮৩৩ সালে তিনি নতুন একটি যন্ত্র আবিষ্কারের চিন্তা করেন। যার নাম ছিল “অ্যানালাইটিক্যাল ইঞ্জিন (Analytical Engine). তার এই যন্ত্রে আধুনিক কম্পিউটারের মতো সিস্টেম, স্মৃতি, গাণিতিক অংশ, নিয়ন্ত্রিত অংশ ও ইনপুট-আউটপুটের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু তখন প্রযুক্তি উন্নত না থাকায় তিনি এটির কাজ শেষ করে যেতে পারেন নি। তবে তারই সিস্টেম ডিজাইনের উপর তৈরি করা হয়। এই জন্যই চালর্স ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়।

undefined

আধুনিক ল্যাপটপের জনক:

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় কম্পিউটার হচ্ছে ল্যাপটপ (Laptop) কম্পিউটার। একে নোটবুক বা পাওয়ার বুকও বলা হয়। ল্যাপটপের প্রথম ডিজাইন করা হয় ১৯৭৯ সালে, ডিজাইন করেন ইংল্যান্ডের ‘বিল মেগারিজ’ এই নকশা তিনি তৈরি করেন আমেরিকান বিজ্ঞানী এলান কে এর তৈরি ল্যাপটপের নকশা Dynabook (1968) এর নকশা অনুসারে। ‘বিল মেগারিজ’ এর নকশার উপর ভিত্তি করে প্রথম ল্যাপটপ তৈরি করা হয় ১৯৮০ সালে। বিশ্বের এই প্রথম ল্যাপটপের নাম ছিল ‘অসবর্ণ-১’ আর বানিজ্যিকভাবে এর প্রচলন শুরু হয় ১৯৮২ সাল থেকে। প্রথম অবস্থায় ল্যাপটপের দাম ছিল ৮০০০ ডলারের মতো। ঐ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করা হতো নভোচারীদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য। ‘বিল মেগারিজ’ ছিলেন ডিজাইন প্রতিষ্ঠান আইডিও (IDEO)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং স্মিথসোনিয়ান কুপার-হিউউইট ন্যাশনাল ডিজাইন মিউজিয়ামের পরিচালক।

মাউসের জনক:


কম্পিউটারের যে যন্ত্রাংশগুলো আছে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ হল মাউস। মাউসকে আমরা সবাই খুব ভাল ভাবে চিনি। মাউস দেখতে ইঁদুরের মতো। কম্পিউটারে দ্রুত কাজ করার জন্য মাউসের ব্যবহার অপরিহার্য। এই মাউসের জনক বলা হয় মার্কিন বিজ্ঞানী ‘ডগলাস এঙ্গেলবার্ট’ কে। তিনি প্রথম মাউস তৈরি করেন কাঠ দিয়ে তৈরি দু’চাকার মাউস, যা তিনি তৈরি করেন ১৯৬৯ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে। তবে ঐ সময় একে মাউস নামে অভিহিত করা হয় নি। এর উপর আরো গবেষণা করেন। তার এটিকে আরো সুন্দর করে তৈরি করেন। যা দেখতে ইঁদুরের মতো হওয়ায় এর নাম দেন ‘মাউস’। তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো তিনি বর্তমান মাউসের আকৃতি গঠনে কোন রূপ পরিশ্রমই করেন নি।

সার্চ ইঞ্জিনের জনক:

ইন্টারনেট এসে আমাদের হাতে এনে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। যার দরুণ এই অগ্রগতি তা হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন। সার্চ ইঞ্জিনে আপনার যা প্রয়োজন তা লিখে সার্চ দিলেই, উক্ত জায়গায় আপনাকে নিয়ে যাচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন। ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিনের গুরুত্ব কি রকম, তা আমরা সবাই জানি। মূলতঃ সার্চ ইঞ্জিন হল একটি ওয়েব সাইট। যার মূল কাজ হল তথ্য খোঁজা। এই সার্চ ইঞ্জিনের জনক হলেন ‘এলান এমটাজ’। তার জন্ম ২৭ নভেম্বর, ১৯৬৪ সালে। প্রথম সার্চ ইঞ্জিন আবিষ্কার হয় ১৯৮৬ সালে। এটি আবষ্কার করে ‘হিউলেট প্যাকার্ড (HP). প্রথম টেক্সট ভিত্তিক সার্চ ওয়েব সাইট হল WebCrawler.

গুগলের কারিগর ‘সার্গেই ব্রেন’ ও ল্যারি পেইজ:


বর্তমান বিশ্বের এক নাম্বার সার্চ ইঞ্জিন ও ওয়েব সাইট হল গুগল। আর এই গুগলের কথা কে বা না জানে। রাশিয়ার মস্কোর এক ইহুদি পরিবারে তার জন্ম। সার্গেই স্টার্নফোর্ডে পড়ছিলেন তখনই তার ইন্টানেটের প্রতি জোক বেড়ে যায়। সার্গেই ও ল্যারি পেইজ মিলে একটি পেপার লিখলেন যান নাম দিলেন “দি এনাটমি অব এ লার্জ স্কেল হাইপার টেক্সচুয়াল ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন” সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে ল্যারি পেইজের সাথে তার কোম্পানীর নাম দিলেন “গুগল” মাত্র এক দশকে গুগল হল সার্চ ইঞ্জিনের প্রতিশব্দ। গুগলের প্রধান কার্যালয় হল আমেরিকার মাউন্ট ভিউতে। গুগলের মূল মন্ত্র হল “তথ্য সন্নিবেশিত করে তাকে সহজলভ্য করে দেয়া” গুগলের নিজস্ব মূলমন্ত্র হল “Don’t be evil”. ১০১০০ সংখ্যাটিকে বলা হয় গুগোল, আর এখান থেকেই গুগল নামটি এল।

ফ্রি সফটওয়্যার ফিউন্ডেশনের জনক:

রিচার্ড স্টলম্যান। যার সম্পূর্ণ নাম রিচার্ড ম্যাথিউ স্টলম্যান। MIT এর AI এর প্রাক্তান এই হ্যাকারই গনুহ (GNI) প্রজেক্টের প্রধান পরিচালক। কপিলেফট ধারণাটি তার কাছেই প্রখম আসে। ১৯৭১ সালে তিনি MIT এর প্রখ্যাত হ্যাকার ছিলেন। যার কাজ ছিল সংরক্ষিত সফটওয়্যার প্রোগ্রামের তথ্য চুরি করা। ১৯৮৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন গনুহ ও ফ্রি সফটওয়্যার ফাউনডেশন। ফ্রি সফটওয়্যার হিসেবে তিনি প্রথম ওপেন সোর্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করেন। আপনারা সবাই চিনেন এটি। এর নাম হল ‘লিনাক্স’।

কম্পিউটারে প্রথম বাংলা ভাষা:

আমারদের মাতৃভাষা হল বাংলা। ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার অবস্থান ভাল হলেও কম্পিউটারে বাংলা ভাষা এখনও সম্পূর্ণভাবে সচরাচর হয় নি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কম্পিউটারে বাংলা ভাষার প্রচল হচ্ছে। কখন থেকে কম্পিউটারে বাংলা ভাষা ব্যবহার হচ্ছে তা ঠিকভাবে বলা খুবই মুশকিল। তবে সুইডেনের এক বাংলাদেশি নাগরিক প্রথম একটি বাংলা পত্রিকা প্রকাশ করেন ১৯৭৭ সালে। ঐ একই সময়ে বুয়েটে বাংলা ব্যবহার নিয়ে একটি প্রকল্প চালু হয়। তারা প্রায় ৬ বছরের চেষ্টায় বাংলা বর্ণমালা ভিত্তিক একটি হার্ডওয়্যার ডিভাইস তৈরি করতে সমর্থিত হয়। কম্পিউটারের পর্দায় বাংলার উপস্থিতি এই প্রথম। তবে সমস্যা হল বাংলা বর্ণমালাগুলো ছিল অস্পষ্ট। তার উপর যুক্তাক্ষরের জটিলতায় এ প্রকল্প খুব বেশি সফল হতে পারেনি। তবে কম্পিউটারে বাংলা ব্যবহারে এটি ছিল এক উল্লেভযোগ্য পদক্ষেপ।
ম্যাক সিস্টেমে বাংলা

অ্যাপলের ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম এবং গ্রাফিক্স ইউজার ইন্টারফেস (জিইউআই) এর ব্যবহার কম্পিউটারে বাংলার ব্যবহারকে সহজ করে দেয় অনেকখানি। সাইফুদ্দোজা শহিদ ১৯৮৩ সালে ম্যাক সিস্টেমের জন্য ফন্ট এবং কীবোর্ড ডিজাইনের কাজ শুরু করেন। ১৯৮৪ সালে অ্যাপলের রিসোর্স এডিটরের সহায়তায় বিটম্যাপ নির্ভর ফন্টে তিনি তৈরী করেন ‘শহীদলিপি’ যাকে কম্পিউটারের প্রথম বাংলা ফন্ট বলা যায়।

প্রথম লেজার ফন্ট:

ম্যাকিন্টোসের জন্য প্রথম বাংলা লেজার ফন্টটি হলো কোলকাতার রাহুল কমার্স কোম্পানির তৈরি ‘বঙ্কিম’  কলকাতায় তৈরি হলেও এ ফন্টটি তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশেরই গৌতম সেন। প্রথম এই লেজার ফন্টটিও ছাপার উপযোগী ছিল না। মানের দিক থেকে প্রথম মানসম্মত বাংলা ফন্ট বলা যায় মইনুল লিপিকে যা উন্মুক্ত হয় ১৯৮৬-৮৭ সালে। এটি দিয়ে আনন্দপত্র নামের একটি প্রকাশনাও বের হয়। এর পরেই আসে জব্বারলিপি (১৯৮৭) তবে এ সময়ে বাংলার জন্য পৃথক কোনো কী বোর্ড বা ইনপুট সফটওয়্যার ছিল না। যার ফলে টাইপিং ছিল অত্যন্ত ধীর গতির।

প্রথম বাংলা কী-বোর্ড

কম্পিউটারের জন্য বাংলা ফন্ট তৈরি হবার পর সকলের চাহিদা ছিল বাংলায় কী-বোর্ড এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য ইনপুট সফটওয়্যার। ১৯৮৮ সালে মোস্তফা জব্বারের হাতেই তৈরি হয় প্রথম বাংলা ইনপুট সফটওয়্যার। একই সময়ে তিনি দ্রুত টাইপের জন্য কী-বোর্ড লে-আউটও তৈরি করেন। বিজয় নামেই তিনি এই কী-বোর্ড এবং ইনপুট সফটওয়্যার উন্মোচন করেন ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ম্যাক-এর অ্যাসেম্বলি ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে তৈরি করা বিজয় শুরুতেই বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে ফেলে। এর মাধ্যমে যুক্তাক্ষরগুলো লেখার সুবিধাও ছিল। পাশাপাশি কী-বোর্ডের ইন্টারফেস টাইপিংয়েও গতি নিয়ে আসে। এসময়েই একে একে তৈরি হয় সুনন্দা, তানভি, রিংকী, সুতোনি প্রভৃতি ফন্ট। দৈনিক আজাদ এবং দৈনিক সংবাদ এ সময়ে সুনন্দা ফন্টেই প্রকাশিত হতো। তবে এ সময় পর্যন্তও কম্পিউটারে বাংলা ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিল ম্যাকিন্টোস সিস্টেমের মধ্যেই।

আইবিএম-এ বাংলা

অ্যাপলের ম্যাক সিস্টেমগুলোর জন্য বাংলা চালু হয়ে গেলেও আইবিএম-এর পার্সোনাল কম্পিউটারগুলোর জন্য বাংলা ব্যবহার শুরু হয় আরো পরে। ১৯৯৯২ সালে তৈরি হয় প্রথম বাংলা ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার ‘বর্ণ’। রেজা-ই-আল-আমিন (অংক) এবং শহিদুল ইসলাম (সোহেল) এর হাতে তৈরি হয় বর্ণ। মুনির, বিজয় এবং ইজি কী-বোর্ড- এই তিন ধরনের কী-বোর্ডেই ব্যবহূত হতো বর্ণ। ১৯৯৩ সালে বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে আইবিএম-এর জন্য কী-বোর্ড উন্মুক্ত করে। বর্ণ সফলভাবে যাত্রা শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই ‘পন্ডিত’ নামের একটি বানান পরীক্ষার সফটওয়্যারও এর সাথে যুক্ত হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে পন্ডিতে ছিল প্রায় ৬০,০০০ বাংলা শব্দ।

উইন্ডোজের জন্য বাংলা

নব্বইয়ের দশকে এসে অ্যাপলের ম্যাক ও আইবিএম-এর পিএস (পার্সোনাল সিস্টেম) এর পাশাপাশি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করতে থাকে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম। উইন্ডোজের ব্যবহার বাড়তে থাকায় প্রয়োজন ছিল উইন্ডোজের জন্যও বাংলা ফন্ট ও টাইপিং সিস্টেমের। উইন্ডোজের জন্য প্রথম বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার অনির্বাণ ৩.০  পরে প্রশিকা এবং লেখনী উইন্ডোজের জন্য ফন্ট ও টাইপিং সফটওয়্যার তৈরি করে। এর পরপরই বাজারে আসে আরো দুইটি প্রোগ্রাম আশা ও প্রবর্তনা। পরে বিজয় ও সফলভাবে চালু হয় উইন্ডোজের জন্য।

উন্মুক্ত সফটওয়্যার বাংলা

লেখনী, বিজয় বা প্রবর্তনা সফলভাবে বাংলা কম্পিউটিং-এ ব্যবহূত হলেও এগুলোর কোনটাই ওপেন সোর্স সফটওয়্যার নয়। ইউনিকোড নির্ভর বিভিন্ন ভাষায় সফটওয়্যার তৈরি হওয়ার ধারাবাহিকতায় বাংলা ভাষায় প্রথম ইউনিকোড সফটওয়্যার তৈরি করে ওমিক্রন ল্যাব। তাদের তৈরি এই সফটওয়্যারের নাম ‘অভ্র’ ধ্বনি নির্ভর এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাংলা শব্দের জন্য ইংরেজি বর্ণেই টাইপ করা যায়। যে কোনো শব্দ ইংরেজি অক্ষরে উচ্চারণটি লিখলেই কম্পিউটারে তা বাংলা শব্দটি পাওয়া যায় সহজেই। যেমন, কী-বোর্ড Amar লিখলেই পর্দায় লেখা উঠবে ‘আমার’। ২০০৩ সালে প্রথম বের হওয়ার পর থেকেই এখনও পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আপডেট হয়ে যাচ্ছে অভ্র। ইতোমধ্যেই ওপেন সোর্স এ সফটওয়্যারটি অর্জন করেছে প্রভূত জনপ্রিয়তা। এর মাধ্যমে কম্পিউটারে বাংলা ভাষায় লেখালেখি এখন বেশ সহজ কাজেই পরিণত হয়েছে।

অপারেটিং সিস্টেমে বাংলা

যে কোনো ধরনের অপারেটিং সিস্টেমে বাংলা লেখালেখির কাজ ভালোমতো চললেও অপারেটিং সিস্টেমের ভাষা হিসেবে বাংলার ব্যবহারটি ছিল অনেকটা কল্পনার বিষয়। বিশেষ করে উইন্ডোজ বা ম্যাক-এর মতো অপারেটিং সিস্টেমগুলো বিভিন্ন ধরনের এনক্রিপশন ব্যবস্থায় আবদ্ধ। এদের সোর্স কোড পরিবর্তনযোগ্য নয়। এ জায়গাতে ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠা লিনাক্স দেখায় পথ। লিনাক্স একটি উন্মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম যাকে ব্যবহারকারী তার ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করে ব্যবহার করার স্বাধীনতা পেয়ে থাকেন। এই লিনাক্সকে নির্ভর করেই ২০০৪ সালে প্রথম বাংলা অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উন্মোচিত হয় ‘অংকুর’  ইন্টারনেটে এটি বিনামূল্যে পাওয়া গেলেও সিডি আকারে বাজারে আসে ২০০৫ সালে। এরই ধারাবাহিকতায় লিনাক্সের ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণ (যেমন, ফেডোরা, রেডহ্যাট, ডেবিয়ান, উবুন্টু ইত্যাদি) এখন বাংলা সমর্থন করে থাকে। বাংলায় বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও অ্যাপিস্নকেশন
অপারেটিং সিস্টেম আর টাইপিং টুলের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামগুলোও ধীরে ধীরে চালু হয়েছে বাংলা ভাষাতে। এক্ষেত্রে অবশ্য উলেস্নখযোগ্য ভূমিকা রাখছে অংকুর আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। অলাভজনক এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগেই বাজারে এসেছে জিনোম ডেস্কটপ নির্ভর লিনাক্স এর সর্বশেষ বাংলা সংস্করণ ‘শিশির’  এছাড়া তারা অন্যান্য অ্যাপিস্নকেশন এবং প্রোগ্রামে জন্যও বাংলা ভাষায় ইন্টারফেস তৈরি করছে। ওপেন সোর্সভিত্তিক জনপ্রিয় সফটওয়্যারগুলোই মূলত তাদের লক্ষ্য। এর মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার মজিলার ফায়ারফক্স, ই-মেইল ব্যবস্থাপনা অ্যাপিস্নকেশন মজিলার থান্ডারবার্ড, জনপ্রিয় ওয়ার্ড প্রসেসিং অ্যাপিস্নকেশন ওপেন অফিস অর্গ, ইন্সট্যান্ট মেসেঞ্জার সার্ভিস পিডগিন, মাল্টিমিডিয়া পেস্নয়ার ভিএলসি মিডিয়া পেস্নয়ার ইত্যাদি। এছাড়াও বাংলা বানান যাচাইয়ের জন্য রয়েছে বাংলা ওয়ার্ড লিস্ট, হ্যানম্পেল, মজিলা সি-মাস্কি, জিএনইউ এসপেল ইত্যাদি। এসকল ওপেন সোর্স সফটওয়্যার এখন পাওয়া যাচ্ছে উইন্ডোজ, লিনাক্স এবং ম্যাক-এর বিভিন্ন সংস্করণের জন্য। এছাড়া উইন্ডোজ এক্সপি’র বিভিন্ন অ্যাপিস্নকেশনের বাংলা ইন্টারফেসও এখন সহজলভ্য। বাংলা ভাষার উপর এই লেখার জন্য আমি তারিকুর রহমান সজীব এর কাছে কৃতজ্ঞ।

পৃষ্টা আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে তাই সংক্ষেপে লিখলাম।

সবাইকে অসংখ্য শুভেচ্ছা। সবাই ভাল থাকবেন, ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ….


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

সবচেয়ে সহজ পদ্ধতিতে জিমেইলের পাসওয়ার্ড হ্যাকিং করুন
ব্যবহার করুন সেরা একটি টরেন্ট সফটওয়ার - µTorrent
ওয়ার্ডপ্রেস টিউটোরিয়াল [পর্ব- 4] [ড্যাশবোর্ড পরিচিতি, ব্লগকে বাংলায় রুপান্তর]
Ip Address Hide করুন খুব সহজেই (Hide.IP.Easy.v5.1.6.6 দিয়ে)
শখ থেকে এক সময় পেশা হতে পারে...........
স্বল্প খরচে প্রত্যাশিত ওয়েব সাইট
গুগলের আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাপ Google Allo - সারাদিনে যে কোন প্রয়োজনে অ্যাপ এর সাথে চ্যাট কর...

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

ডিজিটাল জোন

“যে পারে সে নিজে নিজে করে, আর যে পারে না সে শিখায়” “অভিজ্ঞতা তাই শিখায়, যা আমাদের শিখা উচিত”

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/science-tech/digitalzone/2709

9 comments

Skip to comment form

  1. Rubel Orion

    অনেক কিছু জানলাম। কিন্তু,
    ‘ আশা করি সবাই অত্যান্ত দুঃখের সাথে ভাল আছেন’ এই কথার মানে বুঝলাম না। 😛

    1. ডিজিটাল জোন

      একটু মজা করলাম :D, ধন্যবাদ……….

  2. ডিজিটাল জোন

    একটু মজা করলাম:D, ধন্যবাদ……….

    1. ডিজিটাল জোন

      What’s?

  3. সায়েম

    কঠিন লিখছেন… 8)

    1. ডিজিটাল জোন

      ধন্যবাদ, চেষ্টা চলছে এই আর কি 🙂

  4. Rejaul islam Reja

    ধন্যবাদ……….

  5. kedar2222

    প্রিয় বন্ধু, আপনার এই পোষ্ট থেকে নতুন নতুন মজাদার ইনফরমেশান পেলাম…… আমি খুবই আনন্দিত…….. এই পোষ্ট শেয়ার করার জন্ন আপনাকে ধন্নবাদ…

মন্তব্য করুন