«

»

আমরা এবং আমাদের দেশীয় প্রযুক্তি…

 

বৃষ্টি শেষে প্রকৃতির নির্মল সজীবতার স্নিগ্ধ শুভেচ্ছা আপনাদের জন্য। আশা করি ভালোই আছেন সবাই, এই টেক্টুইটস পরিবারের প্রযুক্তিময় খেলায়।সবার শতভাগ সুস্থতা কামনা করে আজকের টুইট প্রসঙ্গে আসি…

সভ্যতার ক্রম্‌বিকাশের সাথে সাথে আমরা আমাদের এই সমাজ আমাদের এই দেশ তথা আমরা গোটা জাতি-ই পাল্টাচ্ছি, নতুনের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।আমাদের অতিত আর আমাদের বর্তমান এক নয়, কিন্তু এই পরিবর্তন কোন দিকে বয়ে যাচ্ছে, তাও ভেবে দেখার বিষয়। আমরা সবাই চাই সভ্যতার পথে, শান্তির পথে এগিয়ে যেতে,এগিয়ে যেতে চাই প্রযুক্তির পথে। এই মানষিকতার পরিক্রমায় আমরা আজ অনেকটাই এগিয়ে, কিন্তু সত্যি কথা কি, আমাদের আঁকড়ে ধরে থাকার শক্তিটুকু সত্যি অনেক কম,কিংবা বলা যায় বাস্তবায়নের দিক বিচার করলে আমদের আচরন বাচ্চাদের চেয়ে বেশি কিছু নয়।দুঃখিত এভাবে বলার জন্য।

আমরা কোন একটা সমস্যা সমাধানের জন্য একটা পরিকল্পনা হাতে নিই, বাস্তবায়নের সূর্য যখন উঠবে উঠবে তখনি আমাদের আকাশকে আমরা ঢেকে রাখি অনার্য তিথির কলঙ্কিত নিকষ আঁধারে। তবুও বলবো আমরা এগিয়েছি অনেক ধাপ।

টেক্টুইটস পরিবারে আমার বন্ধুরা, আজ আমি আপনাদের সাথে লাগসই প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করবো, ভেবে দেখেছি সত্যি-ই এটি আমাদের জন্য একেবারে আলোক বর্তিকা না হলেও, একটা কুপি হবে, অন্ধকারে তাইবা কম কিসে?

লাগসই প্রযুক্তি হচ্ছে- জীবনধর্মী সেই জ্ঞান যা দিয়ে সহজে জীবনের মানোন্নয়ন সম্ভব। বর্তমানে সৌর বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস প্লান্ট, উন্নত চুলা, নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা যেমন- PSF( POND SAND FILTER), PWSS (PIPED WATER SUPPLY SYSTEM), DW (DUG WELL), RWHS (RAIN WATER HARVESTING SYSTEM), EF (EMERGENCY FILTER), সনো ফিল্টার, তিন কলস পদ্ধতিতে পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার, এল,সি, চার্ট, ড্রাম সীডার, হ্যাচিং মেশিন, স্পিরুলিনা, সৌর ড্রায়ার, মাশরুম চাষ, মুক্তা চাষ, ভাসমান সবজিবাগান, পুকুরের বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে মাছ চাষ, হাঁস চাষ, কোয়েল চাষ, মাচান দিয়ে সবজি উৎপাদন, ধানেেত মাছ চাষ, পলিথিন পদ্ধতিতে মাছ চাষ ইত্যাদি কর্মকাণ্ড।

এই পদ্ধতিসমূহ অনুসরন করে আমরা কিন্তু অনেক উচুতে নিয়ে যেতে  পারি আমাদের জীবনযাত্রার মানকে। আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এইসব পুরোনো জিনিষ নিয়ে কেন আমি আলোছনা করছি? আমাদের চারপাশে চোখ বুলিয়ে দেখুন তো এই প্রযুক্তিগুলোর কোন চিনহ খুঁজে পান কিনা? হয়ত বলবেন এসবের এখন প্রয়োজন কি? উন্নত দেশগুলোর মত আমরা আজ অবধি ততটা উন্নত নয়, ভোর হলে জীবিকার প্রয়োজনে যেখানে আমাদের এখনো লাঙ্গল কাঁধে বের হতে হয় সেখানে যন্ত্র প্রযুক্তির কথা না ভাবাই শ্রেয়। বরং এই লাঙ্গল তথা এই গবাধি পশু সংশ্লিষ্ট বিষয়াদিকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে উন্নয়নমূলক কিছু করা যায় তাই ভাবা উচিত।

একটি গরুর খামার থেকে কেবল মাত্র ২০/২৫টি গাভী পালনের মাধ্যমে যে পরিমাণ গোবর পাওয়া যায় তাথেকে যদি একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা যায়তবে তা থেকে অনায়াশে /৫টি পরিবারের জ্বালানির জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ পাওয়া সম্ভব পরিবেশ বান্ধব এই বায়োগ্যাস থেকে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে আলোর ব্যবস্থা করাও সম্ভব কিন্তু কি আশ্চার্যগ্যাসপ্লান্ট থেকে ঠিক সমপরিমাণ গোবর সারই আবার কৃষি খামারে ব্যবহারের জন্যও ফিরে পাওয়া যাচ্ছেএমন একদিন ছিল যখন গোবরকে বর্জ্য হিসাবে নষ্ট করা হত অথচ উদ্ভাবনী কৌশল নিয়ে যারা চিন্তাভাবনা করছেনতারা বলছেন– “প্রকৃতি থেকে কিছুই যাবে না ফেলা” – সবই মানুষের কল্যাণে আসবে, তবে ব্যবহারের কৌশলটা জানাই জরুরী

আমরা কৃষি প্রধান দেশের নাগরিক,সুতরাং আমাদের এই ধারাকে কিভাবে আরো সুগম করা যায়, তা ভাবতে হবে যাতে মাথা উঁচু করে বলতে পারি এটি আমাদের দেশীয় প্রযুক্তি। আমরা মাছে ভাতে বাঙালি, কিন্তু আজ এই উপাধি অতল গহবরে । তবুও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। জনসংখ্যার বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের ভূমি সল্পতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সাথে সাথে আরো অনেক সীমাবদ্ধাতা আমাদের ছেঁকে ধরছে। আমাদের নদীনালা, খালবিলে যখন পানি শূণ্যতা দেখা দিতে শুরু করলতখন প্রযুক্তি বিজ্ঞানীরা অভয় নিয়ে এগিয়ে এলেন এখন মাছের উৎপাদন ত্রে হিসেবে সাধারণ পুকুরডোবা কিংবা হ্যাচারী স্থাপিত হয়েছে শুধুমাত্র ইলিশ বাদে এখন প্রায় সকল প্রজাতির মাছই কৌশল প্রয়োগ করে ছোট ছোট মৎস্যাধারেডিম ফুটানো থেকে শুরু করে তাদের লালনপালনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে ফলেস্বাস্থ্য কর আমিষপাওয়া যাচ্ছে বারো মাসস্বাভাবিক নিয়মে দিনে দিনে এসকল ব্যবস্থার আরও উন্নতি ঘটবে ইনশাআল্লাহ

আমাদের দেশের গর্বেই লুকিয়ে আছে অনেক মূল্যবান সম্পদ,সঠিকভাবে একে খুঁজে নিতে পারলে, সঠিক ব্যাবহার করলে আমরা নিজেরাই হতে পারি সয়ংসম্পুর্ন। বর্জ্য মনে করে আমরা অনেক কিছুই ফেলে রাখি, কিন্তু এসবের বৈজ্ঞানিক ব্যাবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা নতুন কিছু আবিষ্কার করতে পারি,একে নতুন কোন কাজে লাগাতে পারি। যেমন ধরু ধানের কথা..

উন্নত জাতের ধান উৎপাদনে এককালে ইরি ধানের নামই আলোচনায় আসতো ইরি এখন সারা বছরের ফসল যথানিয়মে আবাদ যে কোন রকমের দূর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করা গেলে আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজন মিটিয়েও এক রপ্তানিযোগ্য অর্থকারী ফসলের পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভবএছাড়া আমাদের বনেবাদারে আগে অযত্নেঅবহেলায় বেডে ওঠা নানা জাতের ঔষধি বৃক্ষে অস্তিত্ব ছিল এসব গাছের অনেক প্রজাতির অস্তিত্বই এখন প্রায় বিলুপ্ত অথচ রোগবালাইয়ের চিকিৎসায় একসময় এই উপ মহাদেশে ভেষজ চিকিৎসার জন্য বনবাদারের এইসব গাছপালার উপরই ভরসা করা হত বেশী কালের চক্রে এখন আধুনিক ব্যয়বহুল চিকিৎসা ব্যবস্থা উদ্ভাবন হয়েছে গবেষণা করে দেখা গেছে যে, চিকিৎসার ক্ষেেত্র বনৌষধির ব্যবহার অধিকতর নিরাপদ এবং স্বল্প খরচে তা সম্পন্ন করা সম্ভব এতে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কোন সম্ভবনাও তেমন নেই ফলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এখন গাছপালার ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে লুপ্তপ্রায় এইসব গাছপালা এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও চাষ করা হচ্ছে, দেশের অনেক উৎসাহী খামার মালিকের তত্ত্বাবধানে এতে রপ্তানির সম্ভাবনাও একরূপ নিশ্চিত তাহলে এককালের এইসব অবহেলিত গাছপালাই হবে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উৎস তাই এসবের উৎকর্ষ সাধনের বিকল্প নাই আমাদের কৃষিতে এসবের উৎপাদন এবং বিপণনে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততার জন্যে এখন প্রয়োজন গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে সকলকে জ্ঞাত করা

শিল্প সম্ভবনার ক্ষেেত্রও এদেশের বিরাজমান অর্থনীতি এখন আগের চেয়ে অনেক অগ্রগামী একসময় ুদ্র কিংবা বৃহৎ শিল্প কারখানার বর্জ্যগুলোকে নষ্ট করে ফেলা হতঃ যেমনগৃহস্থালীর জঞ্জাল, পাটখড়ি, চিটাগুড়, আখের ছোবড়া এগুলো এখন প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে মূল্যবান পণ্য সামগ্রী তৈরি হচ্ছে চিটাগুড় এখন স্পিরিট এ্যালকোহল তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পাটশোলা একসময় জ্বালানি কিংবা ঘরের বেড়া তৈরির কাজে ব্যবহৃত হত কিন্তু এখন তা দিয়ে তৈরি হচ্ছেহার্ডবোর্ড অন্যদিকে আখের ছোবড়া! থেকেও তো তৈরি হচ্ছে বিশ্বের বাজারে রপ্তাণিযোগ্য বিশেষ মূল্যমানের উন্নত ধরণের কাগজ যা কিনা চায়না বণ্ড কিংবা অষ্ট্রেলিয় বণ্ডের কাগজের চেয়ে গুণগত দিক দিয়ে কোন অংশে কম নয়

আমাদের দেশীয় প্রযুক্তির উপর গুরুত্বারোপের বিষয়টি গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্যে অধিক প্রয়োজন,

একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় আর তাছাড়া যেখানে আমাদের নিজেদেরই সেই সম্পদ রয়েছে সেখানে তা ফেলে রাখবো কেন? সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেরা সয়ংসম্পূর্ন হব

ছোটখাটো খামার বা স্বল্প পুঁজির প্রকল্পগুলি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অপারগ উন্নত এবং লাগসই হলে যে কারো স্বল্প শ্রমে এবং স্বল্প পুঁজিতে স্বনির্ভর হয়ে ওঠা সম্ভব আগের একজন সামান্য মাঝি এখন ব্যাংক থেকে সামান্য পরিমাণ ঋণ নিয়ে তার নৌকাটিকে ইঞ্জিনবোটে রূপান্তরিত করতে পারছে পায়ে টানা রিক্সা এখন নছিমনকরিমনে রূপান্তরিত হয়ে পাল্লা দিয়ে রীতিমতো ব্যবসা করছে শহরে মোটা পূঁজির মোটরগাড়ির সঙ্গে এতে করে যাত্রীদের যেমন হয়রানি কমছে; তেমনি পরিবহন শ্রমিকদেরও বেড়েছে আয়উপার্জন

এই সেদিন্‌কার কথা বলি, আমাদের গ্রামের বাড়ি থেকে প্রধান সড়কে যেতে রিক্সাভাড়া লাগে ২০ টাকা, বৃষ্টির কারনে তা বেড়ে দাড়িয়েছে ৪০ টাকায়। এভাবেই চলছিলো গত কয়েকটি বছর কিন্তু এবার গিয়ে দেখি রিক্সার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অটোরিক্সা যাতে ভাড়া মাত্র ১০ টাকা।আমিতো খুশিতে ষোলআনা.. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ই কি এর প্রমান নয়?

পাশ্চাত্যের প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দেবার মত অবস্থা আমাদের এখনও হয়নি তারা গভীর সমুদ্রের তলদেশ থেকে মহা আকাশের সুদূর নীলিমা পর্যন্ত জয় করে ফেলেছে কিন্তু যে দেশে এখনও অর্থাভাবে জমি চষতে গরুর বদলে মানুষকে লাঙ্গল টানতে হয় সেখানেকলের লাঙ্গলের আবির্ভাব কিংবা পানি সেঁচতে দেশীয় দোনের বদলে পাম্পের ব্যবহারের শুভ সূচনাসেখানে অবশ্যই বলতে হবে আমাদের পালেও এখন উন্নয়নের হাওয়া লাগতে শুরু করেছে অর্থাৎ লাগসই প্রযুক্তি এখন মানব কল্যাণের প্রধান সহায়ক; একথা আর কোন অতি কথন নয়



এই লাগসই প্রযুক্তি টি আমাদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বিশেষ অবদান রাখতে পারে। আসি সেই প্রসঙ্গে..


আমাদের দেশটি  একটি নিম্ন আয়ের দেশ। উন্নয়নশীল দেশের প্রতি অগ্রসরমাণ হলেও দেশটির বার্সিক গড় মাথা পিছু আয়ের সূচক নির্দেশ করে অনুন্নত দেশের দিকে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সাথে সাথে বেড়ে চলেছে এখানে ব্যবহৃত ও অ-ব্যববহৃত সম্পদের উপর চাষ বেকারত্ব রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, সামাজিক অনাচার ও উচছংঙ্খলতা উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের মধ্যে বেশি।যেহেতু উচ্চবিত্তদের তেমন উল্লেখযোগ্য কোন সমস্যা হয় না, তাই তাদের কথা বাদ দিলেও নিম্নবিত্তরা সমাজে বা দেশে বিভিন্ন সময় বিদ্যমান সংকটে পতিত হয় অত্যন্ত বিপদের মুখে। স্বধীনতা উত্তর কালের পর হতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নিম্নবিত্তদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকটা জ্যামিতিকহারে। কারণ হিসাবে অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজ দেশে সম্পদের তুলনায় অর্থের যোগান বৃদ্ধি দূর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ লুটপট অযোগ্য নেতৃত্ব শর্তসাপে বৈদেশিক ঋণের উপর নির্ভরশীলতাকে দায়ী করলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বার বার উপেতি থেকে যাচ্ছে।বিষয়টি হচ্ছে, এই অতি দরিদ্র ও নিম্নবিত্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের মধ্য থেকেই এই শ্রেণীর জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, যাদের নব্বই ভাগই বিয়ের পূর্বে বাবা মায়ের উপর, বিয়ের পর স্বামীর উপর এবং মা হবার পর বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের উপর নির্ভরশীল থাকে। দরিদ্র পিতা মাতা তাদের কন্যাসন্তানকে দায়যুক্তি হিসাবে কন্যাসন্তানকে বিয়ে দিয়ে দেয় মাত্র ১৩/১৪ বছর বয়সে। এত কম বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এসব মেয়েরা সন্তান উৎপাদনের জন্য সময় পায় ২৫ থেকে ৩০ বছর। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার অভাবে অজ্ঞতা, অন্য কোন কাজ না থাকার পাশাপাশি কুসংস্কার সর্বোপরি দীর্ঘ সময় প্রাপ্তির কারণে তারা জন্ম দেয় গড়ে ৭/৮টি করে শিশু। দেশের গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছাড়াও শহরে নিম্ন আয়ের মানুষ যেমন রিক্সাওয়ালা, দিনমজুরি, এদের প্রত্যেকের ঘরেই গড়ে ৩/৪টি করে সন্তান। অথচ মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের মধ্যে দুটির বেশি সন্তান চোখেই পড়েনা আজকাল। তাই সামাজিক নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করলে এই সংখ্যা কমানো সম্ভব নয়। কেবল সাহায্য, ত্রাণ বিতরণ, বিভিন্ন ভাতা প্রদান এক্ষেেত্র স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। যেহেতু সন্তান জন্ম দেয়ার দায়ীত্ব মায়ের সেহেতু এই দরিদ্র মায়েদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরী। লাগসই প্রযুক্তি কুটির শিল্পের পর্যায়ভূক্ত কাজেই এদেরকে এখানে ব্যাপকহারে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। ফলে দরিদ্র ও ছিন্নমূল এই নারীরা আত্মকর্মসংস্থান এর সুযোগ পেলে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা নামক যে শ্রেণী সমাজ সৃস্টি করেছে সেই অপমান থেকে তারা মুক্তি পাবে। লাগসই প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন কাজের অতি প্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং অধিকাংশই গৃহস্থালী কাজের পর্যায়ভূক্ত বিধায় অদ এই শ্রেণীর জন্য এখানে কাজের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি।

লাগসই প্রযুক্তির সর্বাত্বক ব্যবহার নিশ্চিত করে ব্যাপকহারে দরিদ্র মহিলাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। স্বল্প বিনিয়োগ নিম্নবিত্তদের ব্যবহারের (মধ্যবিত্তসহ) উপযোগী এই প্রযুক্তি বদলে দিতে পারে অসহায় ছিন্নমূল এই নারীদের ভাগ্য। বেকার যুবকরা স্বল্প পুঁজির সাহায্যে এদের পূর্ণবাসনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে পাবে। কর্মব্যস্ত থাকায় তারা সন্তান উৎপাদনের জন্য যেমন সময় কম পাবে অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিতে তারা অবদান রাখতে সম হবে। সমাজের বোঝা হিসাবে চিহ্নিত এই শ্রেণীর জন্য কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক নিরাপত্তা। তাদেরকে বোঝাতে হবে দেশের জন্য তারা সম্পদ, সমস্যা নয়। শহরমুখী মানুষকে শহরের চাপ সৃষ্টি না করে হতে হবে গ্রামমুখী, সেখানে প্রচলিত প্রযুক্তি থেকে নিজেদেরকেই সৃষ্টি করতে হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ।



এবার আসি লাগসই প্রযুক্তি জাদুঘর প্রসঙ্গে….


 

আমাদের নিজস্ব দেশীয় প্রযুক্তির সংরক্ষন, এবং তা সীমাবদ্ধ না রেখে বরং ছড়িয়ে দেয়ার জন্য এমন একটি উদ্যেগ অতীব প্রয়জন,যার একটি রুপ্রেখা পাবনা উপজেলায় অবস্থিত ‘লাগসই প্রযুক্তি জাদুঘর’ । আমাদের দেশে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিজ্ঞান মেলা সভা সেমিনার অনুষ্টিত হয়, কিন্তু প্রদর্শনী/মেলার সমাপ্তি ঘটলেই প্রযুক্তির জ্ঞান স্মৃতিতে ধরে রেখে খুব একটা প্রায়োগিক ক্ষেেত্র বিস্তৃতি লাভ করেছে- তেমনটা দেখা যায় না। তাই প্রযুক্তির এই মেলার জীবন্ত খেলাটা বছরের পর বছর জনপ্রিয় করার অভিলাষে সৃষ্টি হলো “লাগসই প্রযুক্তি যাদুঘর’’ অনেকে জাদুঘর শব্দটিকে পুরাতন ঐতিহাসিক কোন কিছুর সংরক্ষনাগার বলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু The building in which objects illustrating art, history, science etc are displayed is a museum,” Oxford Advanced Dictionary র এই সংজ্ঞায় খানিকটা আশ্বস্ত হয়ে আমরা সেই বিতর্ক এড়িয়ে গিয়েছি। কিন্তু এই যাদুঘরে ঔষধি গাছ, ফলজ, বনজ ও ফুলের গাছ, হাঁস, মাছ, কোয়েল চাষ সহ সৌর বিদ্যুৎ, হ্যাচিং মেশিন, ড্রাম সীডার, লীফ কালার চার্ট, উন্নতচুলা ভাসমান সবজি বাগান/বীজতলা ইত্যাদি নানা ধরণের প্রযুক্তির প্রদর্শনী দেখে একে ‘‘লাগসই প্রযুক্তি কানন” নামেও অভিহিত করা যায়। নুরপুরে প্রকৃতপক্ষেই আজ যেন প্রযুক্তির ‘হুর’ তার রূপসীচেহারা নিয়ে প্রতিদিনই ভক্তদেরকে শক্ত করে আকর্ষিত করছে। এখানে শিশু, কিশোর, যুবক-যুবা, পৌঢ় বৃদ্ধদের উপস্থিতি দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে “লাগসই প্রযুক্তি যাদুঘর” পাবনার একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি স্বরূপ জেলা পরিষদ পাবনার উদ্যোগে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রযুক্তি স্থাপনের জন্য আর্থিক সহায়তা আসে।

আমাদের দেশীয় প্রযুক্তিকে লালন করে আর্থ সামাজিক উন্নয়ন সাধনের নিমিত্ত জাপান, দণি কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যাণ্ড, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের অগ্রগতির ইতিহাস আমরা কম-বেশি জানি। তাই পাবনা জেলার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জনাব মোঃ মাহবুব-উল-আলম একটি প্রযুক্তি যাদুঘর নির্মানের এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। উপজেলা প্রশাসন উপজেলার সকল ইউ,পি চেয়ারম্যান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহকে সাথে নিয়ে এই “লাগসই প্রযুক্তি যাদুঘর” বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন।

দেশের ুদে বিজ্ঞানীদের গবেষণা কর্ম ধারণ করার ক্ষেেত্র লাগসই প্রযুক্তি যাদুঘর উপযুক্ত স্থান। আমাদের কৃষিবীদ, মৎস্য বিজ্ঞানী এবং গ্রামগঞ্জে দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে স্বীকৃত কৃষক বিজ্ঞানীগণের লব্ধ জ্ঞান অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আয় বর্ধন মূলক কর্মসূচীর মাধ্যমে সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়াস হচ্ছে লাগসই প্রযুক্তি যাদুঘরের ধারণার মূল শ্লোগান। আমাদের চতুর্পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধি গাছ গাছড়া আমাদের ভেষজ চিকিৎসা ব্যবস্থায় কিভাবে অবদান রাখছে তা বহুকাল ধরে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয়। সুতরাং প্রাসংগিক ভাবেই লাগসই প্রযুক্তি যাদুঘরে বিভিন্ন প্রযুক্তির পাশাপাশি আমাদের ঔষধি গাছ রোপন করে দর্শনার্থীদেরকে পরিচিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে

আমি বিশ্বাস করি এমন উদ্যেগ বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলায় নেয়া উচিৎ, সবার মাঝে এই লাগসই প্রযুক্তির বার্তা পোঁছে দেয়া উচিৎ। তাহলে অবশ্যি আমরা আমাদের দেশীয় প্রযুক্তিতে সয়ংসম্পূর্ন হব। এগিয়ে যাব উন্নয়নের পথে,সমৃদ্ধির পথে,প্রযুক্তির পথে।

আমাদের এই পরিবর্তন এখন আর কোন তত্ত্ব কথাও নয়। ব্যবহারিক অর্থেই গ্রামবাংলার প্রায় ঘরে ঘরেই এসব প্রযুক্তি পৌঁছে গেছে। তারা এখন হাত ধুয়ে ভাত খায়। খায় আঙ্গিনার পুকুরের তরতাজা ছোট মাছ। বাড়ির উঠোনের জাংলা থেকে টাটকা তোলা লাউ পাতার ভর্তাভাজী। বুদ্ধি সচেতনতা থেকে তারা এখন স্বাস্থ্য সচেতন, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবার স্বাপ্নিক দিন সত্যিই বদলে গেছে।

হয়ত একদিন এমনও সময় আসবে যখন তারা সমবায়ের মাধ্যমে সমন্বিত একটি জীবনধারা গড়ে তুলবে। যাতে স্বাচ্ছন্দে মনের সুখে তারা থাকবে সদা উল্লাসিত। আমরা সেই স্বপ্নের সোনার বাংলার প্রত্যাশায় রইলাম। সবাই ভালো থাকবেন, খোদা হাফেজ

 

 

 

 

 

 


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

গুগলের গোপন ল্যাব "গুগল এক্স" থেকে গুগল চশমা
ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস সহ অন্যান্য সাইটে লাইক দিয়ে টাকা আয়
ফেসবুক `লাইক’ বাণিজ্যে জম জমাট
অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট কেনার পর যে ছয়টি কাজ প্রথমেই করবেন !!
ম্যাক্সিকোর পুলিশের ক্যামেরায় ধরা পড়ল ‘ভূত’….(ভিডিওসহ)
চিকিৎসা বিজ্ঞানে ২০১৪ সালের সেরা ১০টি আবিষ্কার !
আসুন বন্ধুরা পরিচিত হই একটি বাংলাদেশি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এর সাথে।

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

Mehedi

বিজ্ঞানের এই জগৎটা একটা নিরন্তর পুনবর্ণর্নার, পুনঃআবিষ্কারের জগৎ । যিনি যত নিষ্ঠার সাথে বয়ান করে যাবেন, তাঁর তত বেশি আবেদন। আমরা যারা ক্ষুদ্রের কাছেও ক্ষুদ্র তাদের মজাটাও যে বয়ানে, যে বয়ান যত নিবিষ্ট, যত বাস্তব, তত তার জীবনের সমান্তরাল হয়ে ওঠা। বিজ্ঞান জীবনের বিকল্প নয়, জীবনের বিকল্প আসলে কিছু হতে পারেনা।

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/science-tech/bright-space/6012

9 comments

Skip to comment form

  1. টুইটার অনির্বাচিত

    অনেক সুন্দর হয়েছে টুইটটি, ধন্যবাদ “খালি উজ্জল” ভাই 😀

    1. bright space

      ধন্যবাদ,

  2. Rubel Orion

    বিরাট ব্যাপার। সহজ কথা নয়! 😉

    1. bright space

      অতনা, ধন্যবাদ আপনাকে ।

  3. MNUWORLD

    অনেক সুন্দর টুইট…:)

    1. bright space

      থ্যাঙ্কিউ।

  4. md.rifat hossain

    ভাল টুইট, উজ্জ্বল ভাই কি করেন?

    1. bright space

      ধন্যবাদ। আপাতত আপনাদের কমেন্ট পড়ছি, 😛

  5. ঐ ছেলেটি
    jakir

    নবায়ন যোগ্য শক্তির উপরই একদিন সবার ভরসা করতে হবে।
    আপনাকে ধন্যবাদ সুন্দর এ টুইটটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

মন্তব্য করুন