«

»

যে সকল কারনে এন্টিবায়োটিক এর কোর্স শেষ করা উচিত।

একটু মনযোগ দিয়ে পড়ুন-“কেন আপনি আপনার এন্টিবায়োটিক এর কোর্স শেষ করবেন?”

রোগাক্রান্ত হয়ে ডাক্তারের পরামর্শে আমরা প্রায়-ই এন্টিবায়োটিক খাই। ডাক্তার সধারণত ৭-১০ দিন এর কোর্স দেন। আমরা অনেকেই কয়েকদিন খাওয়ার পর সুস্থ্য হয়ে গেলে আর পুরো কোর্স শেষ করিনা। এই বদঅভ্যাস আমাদের এনে দিতে পারে ভয়াবহ পরিনতি।

প্রথমত, কিছুদিন খাওয়ার পর আপনি সুস্থ্য বোধ করে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিলেন, অথচ এই ফাকে আপনাকে আক্রমনকারী ব্যাক্টেরিয়া নিজেকে নতুন রূপে প্রস্তুত করতে থাকে এবং কয়েকদিন পর আরো ভয়াবহ রূপে আপনাকে সেই এক ই রোগ দ্বারা রোগাক্রান্ত করে ফেলতে পারে।

দ্বীতিয়ত, এই নতুন রূপ পাওয়া ব্যাক্টেরিয়া আপনি যেই এন্টিবায়োটিক টি খাচ্ছিলেন তার প্রতিরোধী হয়ে যায় (এই ধরণের ব্যাক্টেরিয়াকে বলা হয় রেসিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া), তাই আপনি যখন দ্বীতিয়বার রোগাক্রান্ত হবেন, এন্টিবায়োটিক খেলেও আপনি আর সুস্থ্য হবেন না। অবশ্য ডাক্তার এর পরামর্শে আপনি আরো শক্তিশালী ভিন্ন কোন এন্টিবায়োটিক খেতে পারেন।
এইবার শুনুন সবচাইতে ভয়াবহ আশঙ্কার কথা। আপনি আপনার শরীরে যেই রেসিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া তৈরী করেছেন তা আপনার শরীর থেকে পরিবেশে ছড়ায় এবং পরিবেশে থাকা অন্যান্য ব্যাক্টেরিয়া তার কাছ থেকে এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধ করার ক্ষমতাটি অর্জন করে (এই ধরণের ব্যাক্টেরিয়াকে বলা হয় সুপারবাগ)… একটি দেশের অসংখ্য মানুষ যদি অসচেতন থাকে এবং সুপারবাগ তৈরী করতে থাকে, তাহলে সেই দেশের পরিবেশে সুপারবাগ এর সংখ্যা অনেক হয়ে যাবে। সাধারণ সব রোগে মানুষ মারা যেতে থাকবে। স্বাস্থ্য খাতে নেমে আসবে ভয়াবহ বিপর্যয়। আমরা সাইন্স ফিকশন গল্পে এমন দেখে থাকি, অসম্ভব শক্তিশালী কোন জীবানুর আক্রমনে পুরো পৃথবী ধ্বংস হয়ে গেছে। এমন কিছু হলে তা হবে আমাদের ই বোকামির ফল। সুপার বাগ থেকে বাচার জন্য বিজ্ঞানীদের তৈরী করতে হবে নতুন কোন এন্টিবায়োটিক। কিন্ত মনে রাখবেন একটি এলাকার পরিবেশে ছড়িয়ে পরতে সুপারবাগ এর বেশিদিন সময় লাগবেনা, অথচ একটি নতুন এন্টিবায়োটিক তৈরী করতে বিজ্ঞানীদের লাগবে ১০-২০ বছর।

এখন পর্যন্ত ভারত (দিল্লী),থাইল্যান্ড, আমেরিকা (লস এঞ্জেলস) এবং ব্রিটেন সহ ইউরোপের ১৩টি দেশে সুপারবাগ এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ভারতের দিল্লীতে পাওয়া সুপারবাগ টি ছিল কলেরার জীবানু!!! বিজ্ঞানী রা ধারণা করেছেন কিছু ব্যাক্টেরিয়া একাধিক এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধীও হয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন “সুপার সুপার বাগ”।

সুতরাং সচেতন থাকুন, নিজের জন্য, পৃথিবীর জন্য।

উৎসঃ স্বাস্থ্য কথন (Health Tips)


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... সৌরজগত ও মহাবিশ্ব।
বিজ্ঞানীদের তৈরি সবচেয়ে কালো বস্তু যা চোখে দেখা অসম্ভব...?
ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই হ্যাক!
বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তান বনাম স্কটল্যান্ডের ICC world cup খেলা দেখুন সরাসরি অনলাইনে
মোবাইল নেটওয়ার্কের ঝামেলা থেকে মুক্তি চান? নেটওয়ার্ক বুস্টার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।
Buymobile এ যুক্ত হল নতুন ব্র্যান্ড Meizu
Buymobile নিয়ে এলো হৈ চৈ অফার

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

অরন্য নিলয়

নীল আকাশ ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু পড়া লেখা করতে ইচ্ছে করে না :(

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/science-tech/aronno-niloy/31670

1 comment

মন্তব্য করুন