«

»

Abdul Mannan Asif

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবনী সেরা পাঁচটি প্রকল্প

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার কৌশল বিভাগের উদ্যোগে সম্প্রতি হয়ে গেল প্রযুক্তি উৎসব ‘সিএসই ফেস্টিভ্যাল ২০১১’। উৎসবে তরুণদের বেশ কিছু উদ্ভাবনী প্রকল্প দেখা গেছে। সেসবের মধ্য থেকে পাঁচটি সেরা


ফসলের উৎপাদন বাড়াবে প্রযুক্তি
জমিতে আর্দ্রতার সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করতে না পারার কারণে সেচও ঠিকভাবে দেওয়া যায় না। আর সেচ সঠিকভাবে না দেওয়ার কারণে ফসলের উৎপাদনও প্রত্যাশিত হয় না। বুয়েটের কম্পিউটার কৌশল বিভাগের তিন শিক্ষার্থী বাদশা মোল্লা, কে এম ফেরদৌস এবং রওশনুর জামান মিলে এই দিকটি নিয়ে কাজ করেন। তাঁরা সবাই মিলে ‘ইন্টেলিজেন্ট ইরিগেশন সিস্টেম’ নামের একটি প্রকল্প তৈরি করেছেন।
বাদশা মোল্লা জানান, সব জমিতে আর্দ্রতার একটা মাত্রা থাকে। সে অনুযায়ী জমিতে সেচ দিলে ফসলের উৎপাদন বাড়ে। কিন্তু আমাদের দেশের কৃষকদের পক্ষে এই আর্দ্রতার মাত্রা নির্ণয় করা সম্ভব নয়।


এই প্রকল্পের মাধ্যমে জানা যাবে কোন জমির আর্দ্রতা কত, আর সে অনুপাতে কী পরিমাণ পানি জমিতে দিতে হবে তাও বের করে দেবে যন্ত্রটি। জমিতে পানি দেওয়ার সময় হলে সংকেত দেবে এই যন্ত্র। অফ পিক আওয়ারে যখন বিদ্যুতের চাপ কম থাকবে, তখন এই যন্ত্রটি পানি তোলার ব্যবস্থা করবে। এ ছাড়া কোন ফসলের জন্য কেমন সেচ প্রয়োজন, তা-ও এই যন্ত্র জানিয়ে দেবে। এসব হিসাব-নিকাশ একটি মেমোরি কার্ডে সংরক্ষিত থাকবে। নিয়ম অনুযায়ী যন্ত্র তার সঠিক কাজটি করবে। ৭৮ বর্গমিটার জমির জন্য একটি যন্ত্রই যথেষ্ট। এর ফলে যেমন বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে, তেমনি জমির আর্দ্রতা ও ফসলের ধরন বুঝে সেচ দেওয়ার ফলে উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

হাত বাড়ালেই পানি
অনেক সময় বাসার পানির কল বন্ধ করা হয় না। এ কারণে কল চলতেই থাকে। পানির অপচয় হয়। এ সমস্যার সমাধান করতে একটি মজার প্রকল্প তৈরি করেছেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী আবীর আদনান, ফাহিম আহিমদ চৌধুরী, মাহ্বুব-উল-হক, মনসুর হোসেন ও মো. মহসিন। কলের সামনে একটি সেন্সর লাগানো থাকবে।

মূলত এটিই পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করবে। এর ফলে কলের আশপাশে হাত দিলেই কলটি আপনাআপনি চালু হবে। আবার কলের নিচে মগ বা বালতি রাখলেও কলটি চালু হবে। এ কারণে কলটি যে কেউ চালু রাখলেও তা নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে পানির অপচয় হবে না।

অন্ধের লাঠি
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। যারা চোখে দেখে না, তাদের চলাচল সহজ করতে কাজ করেছেন বুয়েটের কম্পিউটার কৌশল বিভাগের ইব্রাহীম রশিদ, আশিক ইমরান, এ বি এম ফয়সাল, তারেকুল ইসলাম ও কাজী নাসির উদ্দীন।
অন্ধদের চলাচলে সহায়তার জন্য একটি যন্ত্র তৈরি করেছে দলটি। ব্লাইন্ড ওয়াক নামের প্রকল্পটি কাজ করবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ১৮০ ডিগ্রির মধ্যে। এ যন্ত্রে লাগানো সেন্সর দ্বারা একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আশপাশে কোনো ধরনের বস্তু থাকলে তার সংকেত পাবে। কানে লাগানো হেডফোনের মাধ্যমে জানতে পারবে তিন মিটারের মধ্যে থাকা বস্তুটি কোথায় আছে।

আর সেই অনুযায়ী সতর্ক হয়ে চলতে পারবে। এটি মোবাইলের চার্জার দিয়ে চালানো যায়। সহজে বহনও করা যায় এবং সাশ্রয়ী। চাইলে একজন সাধারণ মানুষ অন্ধকারেও এটি ব্যবহার করতে পারবে। কাজটা হবে টর্চলাইটের মতো।

গাড়িতেই ট্রাফিক নির্দেশনা
গাড়িতে চলাচলের সময় নানা কারণে রাস্তার পাশে বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক নির্দেশনা চালকের চোখ এড়িয়ে যায়। এ কারণে ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা। এ সমস্যার একটি ভালো সমাধান বের করেছেন কম্পিউটার কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী দীপন সাউ, ফারিগ ইউসুফ, সাদেক লাইসুল ইসলাম, সাঈদ সালাম, সামিন ইয়াসার ও তানভীর মাহমুদুল হাসান।তাঁরা বানিয়েছেন স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক বার্তা পড়ার যন্ত্র।


রাস্তার পাশের গতিরোধক, গতিসীমা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিভিন্ন নির্দেশনা সঠিকভাবে দেখার জন্য গাড়ির সঙ্গে একটি যন্ত্র লাগানো থাকবে। এ যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাস্তার বিভিন্ন নির্দেশনা পড়ে চালককে জানাবে। আর চালক সেই শব্দ শুনে সতর্ক হয়ে রাস্তার বিভিন্ন নির্দেশনা সঠিকভাবে জানতে পারবে। এর ফলে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাবে গাড়িটি।

লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা আর নয়
আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নিতে অনেককে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে যেমন ভোগান্তি, তেমনি হয় সময়ের অপচয়। কম্পিউটার কৌশল বিভাগের ছয় শিক্ষার্থী ইনজাম হোসেন, ইমরান হোসেন, দীপরঞ্জন দাশ, শফিউল আজম, আলী নাঈম ও হাসান মাসুদ উদ্ভাবন করেছেন স্মার্ট টোকেন বুক নামের একটি কম্পিউটার সফটওয়্যার। এর কাজ হচ্ছে, সেবা নিতে আসা লোকজনকে একটি নম্বরের টোকেন প্রদান করা।

সেই নম্বর গ্রাহক সেবাদানকারীর সামনের একটি পর্দায় উঠবে। এখান থেকে নম্বর অনুযায়ী সেবা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া একজন সেবা প্রদানকারী একদিনে কতজনকে সেবা প্রদান করেছেন, তা-ও এই সফটওয়্যারে নির্ণয় করা যাবে। কাজের গতি বাড়ানো দরকার কতটা—তাও এই সফটওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী জানা যাবে। এই সফটওয়্যারের কাজগুলো চলবে তারহীন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। এ কারণে বাড়তি তারের ঝামেলা নেই।

তথ্যসুত্র: প্রজন্মডটকম

এই প্রতিবেদন লিখেছেন মোছাব্বের হোসেন ,


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

Abdul Mannan Asif

Abdul Mannan Asif

ভাল কিছু করতে গেলে অনেক কষ্ট পোহাতে হয়, কিন্তু একটা সময়ের পর কাজের ফলটা চরম আনন্দ দেয় :) মুখবইয়ে আমি ২০১১ইং খেকে টেকটুইটসএ এডমিন, ২০১২ইং থেকে SkippeR তে Web Developer হিসাবে কাজ করছি।

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/science-tech/amasifbd/18026

3 comments

  1. ঐ ছেলেটি
    jakir

    অসাধারন আসিফ ভাই।

  2. MNUWORLD

    আসলেই বাংলাদেশে তরুন মেধাবী আছেন অনেক দরকার শুধু কাজে লাগানো আর তাদের পরিচর্যা। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।

  3. zahid hassan

    প্রকল্পগুলো অনেক ভাল । ধ্ন্যবাদ বিষয়গুলো শেয়ারের জন্য।

মন্তব্য করুন