«

»

সায়েন্স ফিকশন: নিশ্চিত বিষয় -আইজ্যাক আসিমভ

নিশ্চিত বিষয়

সবাই এটা জানেন যে এই ত্রিশ শতাব্দীতে এসে মহাশূন্যে ভ্রমণ এখন একঘেয়েমি এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই একঘেয়েমির হাত থেকে বাঁচার জন্য অনেক মহাকাশ ক্রু কোয়ারেন্টাইন সীমানা না মেনে যে সমস্ত গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আছে সেখান থেকে পছন্দ মতো প্রাণী পোষার জন্য নিয়ে আসছে।

জিম স্লোয়ানের একটা রকেট ছিল, যাকে সে আদর করে টেডী বলে ডাকত। টেডী সবসময় যেখানে বসত সেখানে পাথরের মতো বসে থাকত। আবার মাঝেমধ্যে তার নিচের অংশ কিছুটা তুলে গুঁড়ো চিনি শুষে নিত। ওই গুঁড়ো চিনিই তার খাদ্য। কউ তাকে কোনোদিন নড়তে দেখিনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করার পরেই মানুষ ভাবত যে জায়গায় থাকার কথা ছিল সেখানে নেই। সবাই ধরে নিল ওর থিওরি হল যখন  কেউ দেখছে না তাকে, তখন নড়াচড়া করা।

বব ল্যাভর্টির ছিল একটা হেলি-ওয়র্ম, নাম ডলি। ওটার রং ছিল সবুজ এবং ফটোসিন্থেসিজ বহন করত। মাঝে মাধ্যে আলোর দরকার পড়লে সেটা নড়ত এবং যখন সড়ত তখন তার ওয়র্মের মতো শরীরটাকে কুন্ডলী পাকিয়ে ফেলত। খুব ধীর গতিতে অল্প অল্প করে এগুতো অনেকটা স্ক্রুর প্যাঁচানোর মতো।

একদিন বব ল্যাভার্টিকে দৌড় প্রতিযোগিতায় চ্যালেন্জ্ঞ জানাল জিম স্লোয়ান। সে বললো, ‘আমার টেডী তোমার ডলিকে হারিয়ে দেবে।’

‘তোমার টেডী!’ অবাক হয়ে বলে, ‘সে তো নড়তেই পারে না।’

‘বাজী!’ স্লোয়ান বলল।

মহাকাশচারীরা সবাই উৎসাহে কাজে নেমে পড়র। এসনকি ক্যাপ্টেনও রিস্ক নিলেন তার ক্রেডিটের অর্ধেকটা। প্রত্যেকে ডলির উপর বাজী ধরলো। কারণ একমাত্র ওটাই নড়াচড়া করতে পারে।

জিম স্লোয়ান একাই সবার সামনে বাজী ধরল। গত তিনটি মহাকাশ ট্রিপের স্যালারি থেকে সে বেশ কিছু টাকা জমিয়েছিল। সে তার সবটাই টেডীর উপর বাজী ধরল।

দৌড় শুরু করার ব্যবস্থা করা হল গ্র্যান্ড সেলুনের এক কোণ থেকে। উল্টোদিকে কোণে টেডীর জন্য চিরি স্তূপ এবং ডলির জন্য স্পটলাইটের ব্যবস্থা করা হলো। ডলি মুহূর্তের ভেতর দেহটাকে কুন্ডলী পাকিয়ে ধীরে ধীরে আলোর দিকে এগোতে শুরু করল। উৎসাহী ক্রু-রা হৈ হৈ করে উঠল।

টেডীর কোনো নড়াচড়া নেই।

‘চিনি, টেডী, ওই ওই যে চিনি’ স্লোয়ান আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলতে থাকে। কিন্তু টেডীর ভেতরে নড়াচড়ার কোনো লক্ষণ দেখা গেল না। ওকে দেখে পাথর ছাড়া আর কিছুই মনে হবে না। কিন্তু স্লোয়ানকে তেমন চিন্তিত মনে হলো না।

শেষ পর্যন্ত যখন ডলি অভ্যর্থনা কক্ষের অপর কোণের মাঝামাঝি চলে এসেছে তখন জিম স্লোয়ান হালকাভাবে রকেটকে বলল, ‘টেডী তুমি যদি ওই কোণায় না যাও তাহলে আমি কিন্তু তোমাকে হাতুড়ির বাড়ি মেরে টুকরো টুকরো করে ফেলব।’

সবাই তখন বুঝতে পারল রকেট মানুষের মনের কথা পড়তে পারে। তারা এটাও প্রথম বুঝতে পারল যে রকেটরা নিজের দেহকে একস্থান থেকে আরেক স্থানে টেলিপোর্ট করতে পারে। স্লোয়ান যখন টেডীকে হুমকি দিল ঠিক সেই মুহূর্তে দেখল তার জায়গা থেকে টেডী অদৃশ্য হয়ে গেছে এবং সাথে সাথে দৃশ্যমান হল চিনির স্তুপের ওপর।

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে স্লোয়ান প্রতিযোগিতায় জিতল। সে খুব ধীরে ধীরে তার বাজীর টাকা গুণতে লাগল।

ল্যাভার্টি তিক্ত গলায় বলল, ‘তুমি ওর টেলিপোর্ট ক্ষমাতা সম্পর্কে আগে থেকেই জানতে।’

‘না, আমি জানতাম না,’ স্লোয়ান বলল, ‘তবে আমি জানতাম ও জিতবে। এব্যঅপারে নিশ্চি ছিলাম।’

‘কিভাবে জানতে?’

‘পুরোনো প্রবাদটা সবারই জানা আছে -‘স্লোয়ার্নস টেডী উনস দ্য রেস’

 

আমার কিছু কথা: আইজ্যাক আসিমভ সম্পর্কে বলার কিছু নেই। তাঁর এ অসাধারণ সায়েন্স ফিকশনটির অনুবাদক দিলরুবা রহমান কুয়াশা । বাংলাদেশে সায়েন্স ফিকশন পত্রিকার সংখ্যা নেই বললেই চলে আর সে উদ্দেশ্যেই জন্যই গত বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ -এ প্রথম ‘ক্রোমোজম’ সায়েন্স এবং সায়েন্স ফিকশন ম্যাগাজিনটি বের করেছিল উম্মাদ পাবলিকেশন্স। মজার ব্যাপার হল এর উপদেষ্টা হলেন আমাদের একজন খ্যাতনামা কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব স্যার।

প্রথম সংখ্যাটির পর আর কোনো সংখ্যা আমি খুজেঁও পাই নি (সম্ভবত ওরা আর প্রকাশ করবে না)। আপনার যদি এ ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে 01911108435 এই নম্বরে যোগাযোগ করে উৎসাহ দিতে পারেন। :)

 

বিদায়। ভালো থাকবেন। শুভ নববর্ষ।


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

সায়েম

মাঝেমধ্যে Cast Away মুভির Tom Hanks এর মতো হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে... একদম নেটওয়ার্কের বাইরে...!!!

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/science-fiction/sayeam/3452

4 comments

Skip to comment form

  1. ঐ ছেলেটি
    jakir

    ধন্যবাদ সায়েম ভাই, আমাদের সাথে আরো সুন্দর সুন্দর সাইন্স ফিকশন শেয়ার কবেন আশা করি।

    1. সায়েম

      😀

  2. Rubel Orion

    বাহ বাহ! 😛

    1. সায়েম

      😛 😛 😛

মন্তব্য করুন