«

»

হ্যাকার টকস ( চতুর্থ এবং শেষ পর্ব )

^
^
^
^>>>গল্পের শুরুটা ছিলো এমন!






(নয়)


বছর খানেক আগে নিতুর বিয়ে হয়ে গেছে। আমি এখনো ঘুরাফেরা ফেরাঘুরা। ঘোরাফেরা করলেও আমি কিন্তু কয়েকটা কাজের সাথে সাথে যুক্ত। বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশনের কম্পিউটার সেকশনে’র দায়িত্বে আছি আমি। তাছাড়া একটা বিদেশি কোম্পানিতে পার্ট’টাইম হ্যাকা প্রোটেক্টার হিসেবে আছি। কিন্তু ঘোরাফেরা আমার মূল কাজ। মূল কাজের মধ্যে আরেকটা হচ্ছে নিতুর কথা ভাবা!
বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশনের রিসার্চ এন্ড ইনভেস্টমেন্ট সেকশনে বসে আছি আমি। আমাকে দেখে পিয়নরা কিছুক্ষন স্যার স্যার করেছে। তারপর হাওয়া। বসে আছি আমরা তিনজন। কোন কাজ নাই! নীতুর কথা ভাবতে ইচ্ছে করছে। তাই কিচ্ছু করার নাই ভাবাভাবি শুরু…
আমি আর নীতু। সবুজ গাছের সারি। মাঝখানে পিচের রাস্তা। পাশাপাশি হাঁটছি আমরা দু’জন। কোন কথা নেই, কোন শব্দ নেই আশে পাশে… নিতু নিতুর মত আমি আমার মত দু’পকেটে দু হাত দিয়ে হাঁটছি। নীতু পরেছে সাদা জামা… আমি জিন্স আর ব্লাক টি-শার্ট…
আমার ভাবনা থামল রোজাস এর ডাকে!
আমাদেরকে ভেতরে ডেকেছেন চেয়ারম্যান।
ভীষণ বিরক্তি নিয়ে ভেতরে ঢূকে দেখি চেয়ারম্যান স্যার হাসছেন! আমার বিরক্তির মাত্রা আরো একটু বেড়ে গেল!
‘গুড নিউজ ফর ইউ ইয়াংম্যন!’-গোঁফের ফাক দিয়ে বলল।
এক নিমেষেই উড়ে গেল আমার সব বিরক্তি!
‘ইউ হেভ গট পারমিশন ফর ইউর মিশন!’-বলে হা হা করে হেসে উঠলেন তিনি।
আমরাও ছোট বাচ্ছাদের মত হা হা হো হো করে হাসতে থাকলাম।






(দশ)


ল্যাবে ঢুকেই দেখি নাঈম আর রোজাস হাসি হাসি মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের পেছনে দেখি কেটনও হাসি হাসি মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। আমি অন্য সময় হলে কেটন’কে বকা দিতাম! তুই বেটা হাসির কি বুঝিস? যত্তসব। মানুষের মুখের কঙ্কাল স্ক্যান করে নির্দিষ্ট পরিমান ফাকা পেলেই ও বুঝে যে সেই মানুষটা হাসছে। তখন সেও হাসা শুরু করে। রোজাসের কান্ডগুলু মাঝে মাঝে ভালোই লাগে!
‘এত হাসির কারন কি?’- জানতে চাইলাম আমি।
‘আমাদের জন্য ষোল জন ইঞ্জিনিয়ার পাঠানো হয়েছে।’-নাঈমের উত্তর।
‘যাও তোমার ল্যাপটপে ডাটা দেওয়া হয়েছে চেক কর। সব ফর্মুলা আর টার্গেট ওখানে দেওয়া আছে।’- রোজাসের কথার বাংলা ভার্শন ।
আমরা এখানে অনেকটা ইনিস্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করছি। যদিও প্ল্যানটা আমাদের তিনজনের।






(এগারো)


সিস্টেম কন্টোল রুমের সব কম্পিউটার আমার নিজের আন্ডারে। তাই রুমটাও আমার। আমি কিছুটা শরীরর এলিয়ে দিয়ে ছেয়ারে বসে আছি। আমাদের প্রোজেক্ট প্রায় শেষ। আর মাত্র একদিন বাকি। কোন একটা সময় ছিলো যখন নাকি, এই রকম পারমানবিক পাওয়ার প্ল্যান্টগুলু বানাতে বছরের পর বছর লাগতো। কিন্তু আমরা এটা মাত্র আটান্ন দিনে করলাম। আসলে টেকনোজলী থাকলে আর কি লাগে?
তবে এই সময় এই দেশে কোন প্ল্যানারের এত মর্যাদা আসলে খুব কমই দেওয়া হয়। আমরা সে দিক থেকে খুবই খুশি আর প্রাউড করি। বলা যায় মাটিতে পা দিতে ইচ্ছে করে না।
অনেক জটিল জটিল চিন্তা করে ফেলছি। এবার একটু নীতুর কথা ভাবা দরকার।
‘আমি আর নীতু। সবুজ গাছের সারি। মাঝখানে পিচের রাস্তা। পাশাপাশি হাঁটছি আমরা দু’জন। কোন কথা নেই, কোন শব্দ নেই আশে পাশে… নিতু নিতুর মত আমি আমার মত দু’পকেটে দু হাত দিয়ে হাঁটছি। নীতু পরেছে সাদা জামা… আমি জিন্স আর ব্লাক টি-শার্ট…’
লাল আলো, কেমন জানি একটা শব্দ। ছুটোছুটি। আমি সব বুঝতে পারছি। তন্দ্রা ভাঙছে না।
ইচ্ছেও করছে না। মনে হচ্ছে এইভাবে যে কোন জায়গায় আমাকে নিয়ে গেলো আপত্তি নেই, হতে পারে সেটা নরক।
নাঈমের ধাক্কায় আমি তন্দ্রা হারলাম। নাঈমের মাঝে তেমন কোন উত্তেজনা না দেখে আমিও কিছুটা নিশ্চিত হলাম। একটু বিরক্তো হলাম। খালি খালি আমার ঘুম ভাঙ্গালো। তাও কিছুই বললাম না।
নাঈমের প্রথম কথাটা ছিলো এই রকম, ‘তুই কি জানিস এই প্রজেক্টের পিছনে কত টাকা ব্যয় হয়েছে?’
আমি ‘হুম’ বলে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকলাম। কিছু বলতে ইচ্ছে হলো না।
এবার নাঈম বসলো।
‘তুই কি বলতে পারিস এই বিল্ডিংটা কি দিয়ে বানানো। আর এটার দরজা অফ হয় কিভাবে। আর অফ হলে কি হয়?’
আমি এবার বিরক্তি নিয়েই বললাম, ‘কি হয়েছে বললে বল না বললে ভাগ!!’
নাঈম ঠান্ডা মাথায় বলল, ‘আমার প্রশ্নের উত্তর দে!’
আমি একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে বললাম, ‘পুরো বিল্ডিং ইস্পাতসহ আরো কিছু শক্ত ধাতু দিয়ে তৈরী। আর এটা কোন নরমাল দরজা না যে খোলা যাবে। এই বিল্ডিইং এ চলছে অনেকগুলু পারমাবিক প্রক্রিয়ার কাজ। তাই এগুলুর কোন সমস্যা হলে দরজা যাতে না খোলে বা ইউরেনিয়াম ছড়িয়ে না পড়ে সেভাবে বানানো হয়েছে।বলেছি। খুশি তুই? রোজাস কই?’
কথাটা বলেই আমি সামনের দিকে তাকাতেই দেখি আমাদের সব প্রোকৈশলী দাঁড়িয়ে।
আমি বললাম, ‘কি হল!’
নাঈম অন্য দিকে ফিরে গেল।
ইঞ্জিনিয়ারদের একজন বলল, ‘স্যার দরজা আনলক করার কোন সিস্টেম পেলাম না।’
আমি এবার মনে প্রানে চাইলাম জেগে উঠতে। কিন্তু আসলেই আমি জেগে আছি। এবং যা ঘটছে তা সত্য!
আমি কিছুটা চিৎকার করে জানতে চাইলাম, ‘রোজাস কই?’
‘উনি পালিয়েছেন। আমরা কেউ উনার সাথে যোগাযোগ করতে পারছি না।’ আবারো উত্তর এল প্রোকৈশলীদের মাঝ থেকে।
আমি এবার উঠে দাঁড়িয়ে গেলাম, আর শরীরের সব শক্তি দিয়ে বললাম, ‘আহাম্মকের দল! দাঁড়িয়ে আছিস কেন? যা দরজা ভাঙ্গ!! যেভাবে পারিস খুলে ফেল।
ওরা পারবে কিনা জানি না। তবে ছুটলো ওরা। নাঈম বলল, ‘আমরা আর ঘন্তা খানিক বেছে আছি!’
আমি নিজের কানকে অবিশ্বাস করে নাঈমকে একটা চড় বসিয়ে দিলাম। তারপরো নাঈম ভাবলেশহীনভাবে বসে রইলো।
আমি উপরের দিক থেকে শব্দ পেলাম। তাকিয়ে দেখি রেডিয়েশনের লাইট একটু একটি করে আলো দিচ্ছে।
বুঝতে বাকি রইলো না, বাতাসে রেডিয়েশন হচ্ছে। তবে সেটা এখন কম থাকলেও বেশিক্ষন থাকবে না।
সিকুরেটির একটা ছেলে রেডিয়েশন প্রটেক্টেড দুইটা স্যুট দিয়ে গেল!
এবার আমিও বসে পড়লাম। বুঝতে বাকি রইলো না কাজটা কে করেছে!
সময় চলে যাচ্ছে। নিজেকে নিয়ে আর ভাবার সময় পাবো না মনে হচ্ছে।
আমি চিন্তা করলাম, আমি মারা যাওয়ার পর কার কি হবে?
তেমন কিছু হবে বলে মনে হচ্ছে না।
আর হঠাত করেই মনে হতে থাকলো মৃত্যু আমার আপনজন। তবে খারাপ লাগেছে শরীরটার জন্য। যেই রেডিয়েশন হচ্ছে, তাতে শরীরের কিছু কেউ কোন দিন খুজে পাবে না। শুন্নে মিলিয়ে যাবে সব।
ধীরে ধীরে সময় শেষ হচ্ছে। টেম্পারেচার দেখলাম আমি। পঞ্চাশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
আমি একবার নাঈমের দিকে তাকালাম। ও আমার কাধে হাত দিয়ে বলল,
‘দেখা হবে অন্য কোন জনমে!’
এন্টি রেডিয়েশনের জামাটা মনে হচ্ছে ছিড়ে যাবে। তাপমাত্রা বাড়ছে বিদ্যুৎ গতিতে।
বাহির থেকে কোন শব্দ আসতে পারছে না ভেতরের এলারমিং স্পীকার গুলুর জন্য।
আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। মনে মনে ভাব্লাম হ্যাকিং জীবনটা অনেক ভালো ছিলো।
অবশ্য আমার আফসোস করতে ভালো লাগে না। আফসোস জীবনের পঞ্চাশভাগ সুখ কমিয়ে দেয়। অবশ্য জীবনইতো শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই একটু আফসোস করলে খুব একটা ক্ষতি নেই।
আমি সামনের স্ক্রিনে অনেক্ষন ধরে দেখছি বিল্ডিংটার আশে পাশে কয়েকটা হেলিকপ্টার ঘুর ঘুর করছে। ওরা জানে না যে, ওরা আমাদের কখনোই বের করতে পারবে না।
আমি এবার আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। সব অন্ধকার লাগলো। ছোটবেলার স্মৃতিগুলু মনে পড়ছে। আমি কোথাও শুনেছিলাম মৃত্যুর আগের মুহূর্তে মানুষ তার সারাজীবনের স্মৃতি চোখের সামনে আসে।
ডানপিঠে একটা ছেলে। ছুটে চলা। মা’য়ের মুখ। মা’য়ের ভালোবাসা। আরো অনেক কিছু। তারপর নীতুর মুখ! সাদা জামা! ফিরে এল সেই ভাবনা। আমি আর পারছি না। চোখ খুলতে পারছি না।
‘আমি আর নীতু। সবুজ গাছের সারি। মাঝখানে পিচের রাস্তা। পাশাপাশি হাঁটছি আমরা দু’জন। কোন কথা নেই, কোন শব্দ নেই আশে পাশে… নিতু নিতুর মত আমি আমার মত দু’পকেটে দু হাত দিয়ে হাঁটছি। নীতু পরেছে সাদা জামা… আমি জিন্স আর ব্লাক টি-শার্ট…’



(সমাপ্ত।)







আমার কথাঃ


ভুল কিছু হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে পড়বেন। আমাদের দেশের প্রজেক্ট বিদেশীদের হাতে দেওয়া কখনোই উচিৎ নয়। আর মানুষ সৃষ্টি থেকে ভালোবাসার পাগল। যেখানেই যাক, যাই করুক বার বার ফিরে আসবে ভালোবাসা। ভালোবাসার মানুষ! হোক সাইন্স ফিকশন অথবা কোন সাহিত্য অথবা কোন কবিতা কিংবা গান!
প্রযুক্তি চর্চার জন্য সায়েন্স ফিকশান হতে পারে অনেক কছু। টেকটুইটস এডমিন প্যানেল সবসময় সায়েন্স ফিকশানকে প্রশংসা করে আসছে। দিয়ে আসছে সুযোগ। কারন, সেখান থেকেই হয়ত উঠে আসবে কোন, ডঃ মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। তাই টেকটুইটস পরিবারকে জানাই ধন্যবাদ। আর যারা কষ্ট করে আমার এই পাগলামি পরেছেন!
যে কোন সাজেশানঃ rubeloo7cse@gmail.com



দেখা হবে আগামী কোন সায়েন্স ফিকশনে।



সবাই ভালো থাকবেন। নিজের যত্ন নিবেন। ভালোবাসার মানুষটাকে ভালোবাসবেন, ধরে রাখবেন পাশে, দিবেন সমস্ত বিশ্বাস! সেখানেই অনেকটা ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে!


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

হ্যাকার টকস (পর্ব : তিন)
Zafar Iqbal sir এর কিছু পি ডি এফ ( .pdf) এর ডাউনলোড লিঙ্ক!
বাংলাদেশ – ইন্ডিয়া সাইবার যুদ্ধ ও বিবেকের কাছে কিছু প্রশ্ন!
সার্ভার রুটিং কি ? কিভাবে সার্ভার রুটিং করতে হয় ?
সাইবার প্রতারণার নতুন জাল।।।ফেইসবুক ও সকল সোস্যাল মিডিয়া ব্যাবহারকারীরা সাবধান।।।
এ্যান্ড্রয়েড ফোন দিয়েই ছবিকে ফ্রেমে বাঁধুন, ছবি করুন আকর্ষণীয়!!
Nearby Places & Restaurants Finder অ্যাপ্লিকেশন

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

Rubel Orion

ফেসবুকে আমিঃ https://www.facebook.com/mosharrof.rubel

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/science-fiction/rubel/7071

10 comments

Skip to comment form

  1. mahedi jnu

    আপনি যেমন কমেন্ট করতে এতদিন দেন্‌নি, সো পুরো ব্যাপারটা গলদকরন করে পরেই কমেন্ট দিবো…. তবু যা না বল্‌লে নয়ঃ
    ধন্যবাদ সুন্দর উপস্থাপনের মধ্যমে আমার পড়ার হারানো অভ্যাসটাকে পুনরায় জাগিয়ে তোলার জন্য…..
    ধন্যবাদ আপনাকে, লিখে যান……..

    1. Rubel Orion

      ধন্যবাদ মেহেদি ভাই। আপনার কমেন্ট পেয়ে ভালো লাগছে! 😀

  2. ঐ ছেলেটি
    jakir

    পড়ে ভালো লাগলো। কিন্তু এত ভালোবাসা দিয়ে কি হবে?

    1. Rubel Orion

      পৃথিবীর যত সুন্দর, সব সৃষ্টি ভালোবাসা থেকে! বুঝলেন জাকির ভাই?? 😉

    2. MNUWORLD

      আপনার সাইন্স ফিকশনটা ভাল লাগল। ধন্যবাদ আশা করব আরে জাফর ইকবাল স্যার বেড়িয়ে আসবেন বেড়াজাল থেকে।

      অফঃ আমরা একটা কথা শুনে আসছিলাম ছ্যাকা খাওয়ার পর নাকি ভার সাহিত্যিক হওয়া যায়। এটা কোন ধরনের ভালবাসা?? রুবেল ভাই….মানুষ যা কিছু সৃষ্টি করে তার অনেক কিছুই তার প্রয়োজনে করে..

  3. Rubel Orion

    আপনার কমেন্টের কোন বোধগম্য উত্তর দিতে পারলাম না বলে আমি দুঃখিত! 😉 😛

  4. TAPASFUN

    দারুন ভাইয়া, আমার প্রিয় জিনিস।

    কিন্তু এখন সময়ই পায় না তার প্রেও চেষ্টা করি। চালিয়ে যান, খুব ভালো হয়েছে।

    1. Rubel Orion

      হুম্মম্মম্মম্মম্ম। 😀

  5. md.rifat hossain

    রুবেল ভাই, কঠিন লেকছেন। চালাইয়া জান……আমরা আরও চাই……।।

  6. kedar2222

    এইধরনের পোষ্ট শেয়ার করার জন্ন আপনাকে ধন্নবাদ… খুবই ভালো পোষ্ট……. ধন্নবাদ..

মন্তব্য করুন