«

»

হ্যাকার টকস (পর্ব : তিন)

গল্পের শুরুটা ছিলো এমন!

(প্রথম কথা!)


অনেকই মনে করেন প্রযুক্তি সাইট মানে ট্রিপ্স এন্ড ট্রিক্স অথবা কম্পিউটারের জটিল কোন সমস্যার সমাধান। আমি তাদের সাথে সারাজীবন দ্বিমত করে আসছি, করছি করবো। সায়েন্স ফিকশন এমন একটা জিনিস যেটা দেশের মেধাবী অনেক মানুষ লিখেন। যদিও আমি সেই পথের অতি ক্ষুদ্র ও নগন্ন মানুষ, তবুও চেষ্টা করি তাদের সম্মান দিতে! যেমন বলতে পারি ডক্টর মোহাম্মাদ জাফর ইকবাল এর কথা! এই সায়েন্স ফিকশনটা কয়েক পর্ব হবে! ইতি মধ্যেই এটা লেখা শেষ হয়েছে!
আরেকটা কথা, পঞ্চাশ বছর আগে যেটা সায়েন্স ফিকশন ছিলো, সেটা আজ বাস্তব। আজ যেটা সায়েন্স ফিকশন সেটা পঞ্চাশ বছর পর বাস্তব হবে! তাই, সায়েন্স ফিকশন কোন সাধারন ব্যপার নয় আমার কাছে। এই সায়েন্স ফিকশনটা অনেকটা বাস্তবের সাথেই মিল রেখে লেখার চেষ্টা করেছি আমি। আশা করি খারাপ লাগবে না!’

(ছয়)


ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে নাঈম’কে খুজে পেলাম না। ও মাঝে মাঝে উধাও হয়ে যায়। ও না আসলে আমার দিনটাই মাটি। কারন তখন সাথে ল্যাপটপ থাকে না। এগুলা ভাবতে না ভাবতে দেখি খুড়িয়ে খুড়িয়ে নাঈম আসছে।
আমি একটি চিন্তিত হয়েই বললাম, ‘কিরে পা’তে কি হল?’
‘আর বলিস না, এই দেশের কিছুই হবে না! যত্তসব।’
‘কি হয়েছে খুলে বলবি তো?’-আমি একটু বিরক্ত হয়েই বললাম।
নাঈম চিৎকার করে বলল, ‘বাস থেকে নামতে পা ছুলে গেছে!
এবার আমারো মেজাজ খারাপ লাগলো। এই দেশের আসলে কিছু হবে না বলে আমিও চুপ হয়ে বসে রইলাম। আমরা আজও আমাদের পরিচিত গাছটার নিছে বসে থাকলাম। সেও আমাদের বন্ধু।
অনেক ক্ষন পর নাঈম মুখ খুলল।
‘রোজাসের কি খবর?’
আমি প্রতিদিনের মত, নানা ভান ভনিতা করে প্রথম থেকে বলা শুরু করলাম।
নাঈম এর অনেক ধৈর্য। সে মন দিয়ে সব শুনলো।
নাঈম অতিরিক্ত বুদ্ধিমানের মত ভান করে বলল, ‘তাহলে রোজাস জানতে চেয়েছে তুই ডাটা ব্যাকআপ নিয়েছিস কিনা?’
আমি রিরক্তি নিয়েই বললাম, ‘হ্যাঁ!!’
ঠোঁটের কোনায় একটা বিদ্রূপের হাসি নিয়ে নাঈম ল্যাপটপ বের করতে থাকে।
ব্যাকআপ ফাইল’টা দেখে আমি বেশ বিরক্ত হলাম। বেশ ভারি আর লম্বা।
কিচ্ছু করার নাই। ডিকশেনারীর হেল্প নিয়ে পড়তে শুরু করলাম। আর আশা করতে থাকলাম সামনে মনি মুক্তা আছে!!
হঠাত ছেঁচিয়ে উঠলো নাঈম। আমি বুঝলাম মনি মুক্তা না হলেও শামুক নিশ্চয় পাওয়া গেছে। না হয় আহাম্মকটা এত জোরে চিৎকার দেবে কেন? ওর চিৎকারে আশে পাশের সব লোক আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে! আমি নাঈমের দিকে তাকিয়ে দেখি ও সব দাঁত বের করে বসে আছে।
এবার আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তা তুই কি পেয়েছিস?’
‘দেখ দেখ কয়েকটা ফর্মুলা!’-খুশিতে বাক বাকুম করতে করতে নাঈম বলল।
‘আমাদের কি উপকার হবে তাতে? আর এটা কিসের ফর্মুলা?’-আমি কিছুটা উদাস মনে সুধালাম।
‘নিউক্লিয়ার বোম আর হাইড্রোজেন বোম বানানোর ফর্মুলা!’
আমি একটা ধাক্কার মত খেলাম! আমরা হ্যাকিং সম্পর্কে যতটা বুঝি এ সম্পর্কে ততটাই অবুঝ! আমি আর নাঈম মুখ চাওয়া চাওয়ি করলাম!

(সাত)


আমি বাসায় এসে একটা সাইটে সাবডোমেইন সাইট খুললাম। ইমেইল তো রয়েছেই XtremeOrion@hotmail.com এই নামে। সবগুলু ডাটা আপলোড করলাম। মারাত্নক রকমের সিকিউরেটি দিলাম। পাসওয়ার্ড দিলাম কয়েকস্তরে। সার্চ ইঞ্জিন থেকে এওয়ে রাখলাম। ফেসবুকে ঢুকে রোজাসকে পেলাম না। ইভাও নেই। নীতু’কে খুব একটা দেখা যায় না। তবে মাঝে মাঝে দুপুরবেলা দেখা যায়। যাক সেসব। মাথায় এখন অন্য চিন্তা। আম্মু খাবার খাওয়ার জন্য ডাকছে সেই কখন থেকে। আমি ফ্যালিমির ছোট ছেলে হওয়ায় বকা ঝকা খুব একটা খেতে হয় না। আমার অন্যায়গুলুও বড় হয় না। যদিও আমি খুব একটা অন্যায় যে করি তেমন না। তবে আজ কাল বাসার লোক জন থেকে দূরে থাকতেই বেশি হয়। আমার রুমে আমি নিজেই একা একা ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাই। আমার চিল্লাচিল্লিতে কেউ খুব একটা আসে না।
সে সব কথা বেকার। মাথায় ঘুরছে ফর্মুলার ব্যপারটা। বুঝতে পারছি না কি করা যায়!

(সাত বছর পর)


(আট)


নাঈম আমাকে বলল আরেকটু বামে দিয়ে চালাতে। বেশ কিছু দিন ধরে নাঈমের কথাগুলু বিরক্ত করেছে আমাকে। আমি বামে গেলাম না। নাঈম দেখলাম ভাবলেশহীনভাবে বসে আছে। রোজাস ওদিকে মনের আনন্দে সিগারেট খাচ্ছে। আমার গা জ্বলে যাচ্ছে এই দৃশ্য দেখে। বেটা কানাডা থেকে বাংলাদেশে এসে খালি সিগারেট খায়। মন চায় গুলিস্তান নিয়ে বেঁধে রাখি।
‘হু?’-বলে রোজাস আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো।
আমি একটু হতবম্ব হয়ে ‘নো… নো…’ বলে অন্যদিকে দিকিয়ে গেলাম।
আমি কিম মিড় করে তাকাচ্ছি দেখে বেটা ‘হু’ করছে। থাপডায়ে দাঁত ফেলে দিতে ইচ্ছে করছে।
আমি গাড়িটা থামালাম। এরপর আর গাড়ি যাবে না।
আরেকটা কথা বলা হয় নি। আমাদের সাথে আরো একজন আছে। সে হলো রোজাসের রোবট কেটন। এটা নরমাল রোবট না কিন্তু! এটা চিন্তা ভাবনা করে কাজ করতে পারে। আমি প্রথমে দেখে অবাক হয়ে গেছি! রোজাস আসলে খুব ভালো মানের প্রোগ্রামার। এই রোবটের বেশিরভাগই তার প্রোগ্রাম করা। যাক, আমার ইচ্ছে করে কেটন’কে রেখে দেই। কিন্তু এর দাম দিতে গেলে আমাকে বাংলাদেশ সরকার থেকে ঋন করতে হবে!!
সবচেয়ে মজার ব্যপার হলো,কেটন কিন্তু ফ্লাই করতে পারে!
তার জন্য জ্বালানী লাগে খুব। যদি সূর্য থাকে তবে সে সোলার প্যানেল ইউজ করে কিছুটা কাজ করতে পারে। কিন্তু সে যে সব ডিভাইস ক্যারী করে সব চালাতে গেলে প্রচুর জ্বালানী লাগে। আর ফ্লাই করার জন্য আলাদাভাবে পিউরিফাই করা গ্যাস ইম্পোরট করতে হয়।
রোজাসের সাথে আরো আছে একটা স্পেসশিপ! স্পেসশিপটা আজ আনা হয়নি। তবে না এনে যে ভুল হয়েছে তা বুঝাই যাচ্ছে। গাড়ি আর সামনে যাবে না। সো কিচ্ছু করার নাই। হাঁটা শুরু। আমরা এখন খাগড়াছড়ি’র খুব কাছাকাছি আছি। আমাদের কাজ’টা হচ্ছে খাগডাছড়ি থেকে কিছুটা পূর্বে, ইন্ডিয়ান বর্ডারের কাছাকাছি।
ঐখানে ছোট্ট একটা টিলা’র উপর উঠা এখন আমাদের লক্ষ্য।
টিলা’টার নাম আমার মনে নেই। এত বিচিত্র একটা নাম মনে থাকে না। মনে করার চেষ্টাও করছিনা। ভালো লাগে না। তবে টিলা’টা খুব কাজের একটা জায়গা। সেটা ভালো লাগে। এটা কোন সাধারন পাহাডের টিলা না। এটা’র ভেতরে আছে মূল্যবান ইউরেনিয়াম!
আমার পছন্দের অল্প কিছু ধাতুর মধ্যে ইউরেনিয়াম একটা। পছন্দের কারন এর ক্ষমতা।
এর এত ক্ষমতা যে রোজাস’কে কানাডা থেকে টেনে নিয়ে এসেছে।
সময়টা বিকেল সাড়ে চারটা।
আমরা টিলাটার উপর দাঁড়িয়ে। মাপামাফি চলল। হিসেব নিকেশ হল। রোজাসের মুখে দেখলাম চিকন হাসি। ঐ হাসি’র মানে বুঝার একটুও ইচ্ছে আমার হলো না। নাঈম অন্য দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কেটন’কে দেখলাম বিরাট বিজি। একটা রোবটের এত বুঝার দরকার কি আমি বুঝি না! যাই হোক, সে অনেক কাজের কাজ করুক। বাসায় গিয়ে ওর রিডিং চেক করলেই সব পাওয়া যাবে। তাই আমি আর মাথা গলাচ্ছি না।
মাগরিবের আযান পড়ছে আর আমরা কাজ শেষ করে বেরিয়ে যাচ্ছি।
বাসায় ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হবে বুঝা যাচ্ছে।

(আগামী কাল প্রকাশ হবে শেষ পর্ব! )
>>>>>>>>>>>হ্যাকার টকস ( চতুর্থ এবং শেষ পর্ব )

(প্রতি পর্ব প্রকাশের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে পরের পর্ব প্রকাশ পাবে। এভাবে চলবে শেষ পর্যন্ত। কমেন্ট অপশন দেওয়া হবে শেষ পর্বে! কোন সাজেশন থাকলে করতে পারেন এখানেঃ rubel007007cse@gmail.com)


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

কি-বোর্ডের F1 থেকে F12 এর কাজ(যারা জানেন না তাদের জন্য )
সাইন্স ফিকশন - নবজাতক [পর্ব-১]
Rubel Orion এর সাথে শিখুন পি এইচ পি(pHp) (পর্বঃ চার)
শিখুন PHP । (পর্ব : পাঁচ ) (The Switch statement in php )
ডাউনলোড করুন বিশ্বমানের একটি অসাধারন সফট্ওয়্যার!!, আর উপভোগ করুন সত্যিকারের মাল্টিমিডিয়ার মজা!!!
কিছু রহস্যময় ছবি যেগুলো ক্যামেরাবন্দী হবার কথা ছিলো না।
বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় টেস্ট (৪র্থ দিন) সরাসরি দেখুন

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

Rubel Orion

ফেসবুকে আমিঃ https://www.facebook.com/mosharrof.rubel

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/science-fiction/rubel/7050

2 pings

  1. হ্যাকার টকস ( চতুর্থ এবং শেষ পর্ব ) » টেকটুইটস

    […] ^ ^ ^ ^>>>গল্পের শুরুটা ছিলো এমন! […]

  2. হ্যাকার টকস (২য় পর্ব) » টেকটুইটস

    […] >>>>>>>>>>>>হ্যাকার টকস (পর্ব : তিন) […]

Comments have been disabled.