«

»

হ্যাকার টকস (২য় পর্ব)

 

(প্রথম কথা!)


অনেকই মনে করেন প্রযুক্তি সাইট মানে ট্রিপ্স এন্ড ট্রিক্স অথবা কম্পিউটারের জটিল কোন সমস্যার সমাধান। আমি তাদের সাথে সারাজীবন দ্বিমত করে আসছি, করছি করবো। সায়েন্স ফিকশন এমন একটা জিনিস যেটা দেশের মেধাবী অনেক মানুষ লিখেন। যদিও আমি সেই পথের অতি ক্ষুদ্র ও নগন্ন মানুষ, তবুও চেষ্টা করি তাদের সম্মান দিতে! যেমন বলতে পারি ডক্টর মোহাম্মাদ জাফর ইকবাল এর কথা! এই সায়েন্স ফিকশনটা কয়েক পর্ব হবে! ইতি মধ্যেই এটা লেখা শেষ হয়েছে!
আরেকটা কথা, পঞ্চাশ বছর আগে যেটা সায়েন্স ফিকশন ছিলো, সেটা আজ বাস্তব। আজ যেটা সায়েন্স ফিকশন সেটা পঞ্চাশ বছর পর বাস্তব হবে! তাই, সায়েন্স ফিকশন কোন সাধারন ব্যপার নয় আমার কাছে। এই সায়েন্স ফিকশনটা অনেকটা বাস্তবের সাথেই মিল রেখে লেখার চেষ্টা করেছি আমি। আশা করি খারাপ লাগবে না!’

 

>>হ্যাকার টকস-1

 

(তিন)


মায়ের কথা শুনে বুঝতে পারলাম এতক্ষন আমি মধুর স্বপ্ন দেখছিলাম!
মা বলল, ‘যা বিছানায় গিয়ে ঘুমা, এত রাত পর্যন্ত কি করিস?’
এই তো যাচ্ছি বলে মা’কে তার রুমে পাঠিয়ে দিলাম।
সত্যিকার অর্থে নীতু আমার জীবনে এখনো সেইভাবে এটাসড কেউ না! ভালোবাসি,শুধু এইটুকু!
আমি রিফ্রেস দিলাম কম্পিউটারে।
এরপর যা দেখলাম তাতে আমার ঝিমুনি সাইফ্রাস ছেড়ে এন্টাটিকা মহাদেশে চলে গেল!
নিজের চোখ বিশ্বাস করতে পারলাম না!
দেখি আমার টোপ গিলে বসে আছে রোজাস। আমি খুশিতে বাকবাকুম করতে করতে পুরা সাইটের দখল নিয়ে নিলাম। আর বন্ধু রোজাসের জন্য একটা ইমেজটা রেখে এলাম।
Rubel Orion
আমি হ্যাকিং করি অনেকদিন হবে, কিন্তু কখনো ইমেইল দিয়ে আসি নাই। এবার যে ইমেজটা তৈরি করলাম তাতে একটা ইমেইল আই ডি দিলাম। আর আইডিটা হলো, XtremeOrion@hotmail.com । আসলে এই প্রথম বার আমার জানার ইচ্ছে হলো, হ্যাকিং এর পর এডমিনদের কেমন ফিল হয়? আর তাছড়া রোজাস এর সাথে আমার কথা বলার ইচ্ছে যে জাগে নি তাও মিথ্যে না। আমার কেন জানি মনে রোজাস আমার সাথে কথা বলবো। এবং খুব ভালোভাবেই বলবে। যাক সাইটের দখল কতক্ষন রাখা যাবে, তা নিয়ে আমি সিউর না। তবে আমি কিছুক্ষন চেক করে জাভাস্ক্রিপ্টে কিছু এরর পেলাম। যেটা দেখে আমি বেশ অবাকই হলাম! তবে আর কোন ফাক ফোকর রাখেনি ও। আমি বাগ’গুলু দূর করে সার্চ ইঞ্জিন থেকে সাইট’কে সেফ করলাম। আরো কিছু টুকিটাকি কাজ করে কম্পিউটার সাট ডাউন দিলাম।
সময়টা সকাল সাড়ে আট’টা।
গোসল সেরে সকালের নাস্তা করতে গেলাম। আমার খাবার সাধারনত আম্মু আমার রুমে দিয়ে যায়। তবে আজ আমার মনটা ভালো, তাই আমি নিজেই খাবার টেবিলে গেলাম।

 

(চার)


ফুর ফুরে মেজাজে আমি ইউনিভার্সিটি লনে হাঁটছি। তখনি পিছন থেকে কে জানি ডাকছে, ‘ ঐ…’ ‘ ঐ…’
আমাকে কেউ এভাবে ডাকলে বেশ বিরক্তি লাগে। আমি তাকাই না। গলাটা চেনা, তবুও তাকালাম না। না তাকানো দেখে ডাক আসলো,
‘ঐ তন্ময়…’
আমি এইবার ঘুরলাম। শুধু ঘুরলাম না, সবগুলু দাত একসাথে বের করে দিয়ে ঘুরলাম।
নাঈম বলল, ‘পাজিটা কি হাল করেছে? সব দাঁত বের করে দিয়েছিস কেন? কিছু ভেতরে ঢুকা…!’
আমি তাড়াহুড়া করে সব দাঁত ঢুকিয়ে নিলাম। এই নাইম ছেলেটার কোন আক্কেল জ্ঞান নাই, যা মুখে আসে তাই বলে দেয়! তবে ছেলেটা বন্ধু হিসেবে খুব ভালো। এখনকার বন্ধুবান্ধব খুব সেলফিস হয়! ভাবাই যায় না,দরকার হলে ‘দোস্ত…দোস্ত…’ আর দরকার শেষ হলে দেখাই পাওয়া যায় না। নাঈম একদম সেই রকম না। তাই ওকে আমার এত ভালো লাগে।
‘কি ভাবছিস?’ চোখ টেরা করে নাঈম জিজ্ঞেস করলো।
আমি বললাম, ‘চল মামার দোকানে যাই চা খেতে খেতে কথা বলে। জটিল একটা কাজ করে ফেলসি!’
এবার নাঈম সব দাঁত বের করে হেসে থাকলো। আমি কিছুটা ভাব ও স্বগৈরবে বললাম, ‘পাজিটা কি হাল করেছে? সব দাঁত বের করে দিয়েছিস কেন? কিছু ভেতরে ঢুকা…!’
নাঈম কিছুটা লজ্জা পেল। নাঈম হ্যাকার হিসেবে আমার চেয়ে বলতে গেলে দশ গুন ভালো। তবে ও আমাকে খুব উৎসাহতো দেয়ই আরো দেয় নানা ট্রিপ্স। আর ওর মধ্যে অহঙ্কারবোদ নেই বললেই চলে, যেটা আমি খুব অপছন্দ করি।
মামার দোকানে বসে নানা ভনিতা করে ওকে পুরা গল্পটা প্রথম থেকে বললাম। আমি দেখলাম ওর চোখে মুখে ঝিলিক দিচ্ছে। আমি ওকে কোন হ্যাকিং এত খুশি হতে দেখি নাই।
নাঈম বলল, “তুই কি করেছিস, তুই জানিস?”
আমি এবার কিছুটা ভয় পেলাম! না জানি কি করে ফেললাম। আবার সাহস পেলাম এই ভেবে যে আমাকে কখনো খুজে পাবে না। আমার সব আই পি আর এড্রেস হাইড করা।
তাই সাহস করে বলে ফেললাম, ‘কেন কি করেছি?’
‘সাইট’টার নাম আবার বল!’-বলে আমার দিকে তাকালো নাঈম।
‘CAATOMSECTION.COM’ বলে আমি ওর দিকে তাকিয়ে থাকলাম।
‘আরে বোকা, এটা কানাডিয়ান পরমানু গভেষনা’র জন্য তৈরি করা সাইট। তুই সাইটের ফ্রন্ট এন্ডে কি দেখছিস?’
‘তেমন কিছু না। জাস্ট কয়েকটা পরমানুর ছবি। আর কিছু লেখা’- শক্ত গলায় আমি বললাম।
‘লেখাগুলু কি ছিলো?’-গোয়েন্দাদের মত জানতে চাইলো নাঈম।
এবার আমি কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললাম, ‘It’s a Canadian atomic research site and protected from normal visitors ! This site is maintained for communication among the international applied holders of Canadian Atomic Section! তারপর লগ ইন করার একটা বক্স!’
‘কাজটা করলি কেন?’ নাঈম জানতে চাইলো।
আমি কিছু বলার আগে দেখলাম ও ব্যগ থেকে ল্যপটপ বের করছে। আমরা মামার দকান থেকে বের হয়ে ক্লাস রুমের পাশের ছোট্ট একটা রুমে ততক্ষনে এসে গেছি।
‘আসলে আমি যখন দেখলাম প্রটেক্টেড সাইট,তখনি আমার মাথায় ভুত চাপলো। আর ইজিলি কয়েকবার ট্রাই করলাম, দেখি কাজ হচ্ছে না। তখন আরো ভালোভাবে ট্রাই করে দেখালাম। আজ সফল হোলাম।
‘তোর সফলতার গুল্লি মারি’- কিছুটা রাগ করেই নাঈম বলল।
আমি বললাম, ‘কি হয়েছে সেটা না বলে ভনিতা করছিস কেন?’
নাঈম বলল, ‘এটা একটা গভমেন্ট সাইট, এবং ওদের সামরিক অনেক কিছু এখানে আলাপ ও প্ল্যান হয়। গুগল থেকে বের করে আরো কিছু তথ্য দেখালো নাঈম আমাকে।
তারপর সাইটে গিয়ে আমাকে বলল, ‘লগ ইন কর। আর যে যে মেইল দিসস তা চেক কর।’
আমি সাইটে লগ ইন করলাম আর জিজ্ঞেস করলাম, ‘তুই হ্যাক করছিস না এখন?’
নাঈম বলল, ‘আমি লাস্ট এক সপ্তাহে কিছু করি নাই। ’
মেইল চেক করতে গিয়ে দেখলাম একটা মেইল এসেছে। যা ধরনা করেছি তাই হলো। রোজাস এর মেইল। আমি নাঈম’কে বললাম, ‘দেখ!!’
মেইল’টা হচ্ছে এই রকম;
‘Hi Sir!
Good Morning! I’m Rojas. The site you have hacked last night, I’m the admin of that site. You have done an absolute hard work. But for your kind information, This site won’t come any work of yours!
Please leave it! I will take control on it within a 10 hours! But you know today is Sunday, so I can’t do anything but mailing you till 10 hours! Give me the info, I promise I won’t go for any action and we could be good friendz!
Waiting for your Reply
Rojas ।। Admin (CAATOMSECTION.COM)’
আমি আর নাঈম একে অন্নের মুখ চাওয়া চাওয়ি করলাম।
আমরা রোজাস এর দেওয়া মেউল এড্রেস থেকে গুতিয়ে ওর আরো কিছু ইনফো পেলাম সার্চ ইঞ্জিনে। মজার ব্যপার হোল ওর একটা ছবিও পেলাম। এজ খুব একটা বেশি না। আমাদের মতই বা বছর খানেক বেশি হবে।
আমি আর নাঈম অনেক ভেবে চিনতে ডিসাইড করলাম আমরা তার সাথে ফ্রেন্ডশীপ করবো। তবে তার আগে সাইটের সমস্ত ডাটা বেকাপ নিলাম।
নাঈম বলল, ‘একটা মেইল কর।’
যেমন চিন্তা তেমন কর্ম!
ফ্রেন্ড হওয়ার মত করে একটা মেইল করলাম। পাঠিয়ে দিলাম সাইটের এডমিন নেম আর পাসওয়ার্ড। পাঠানোর মিনিট খানেকের মধ্যেই মেইল ব্যক আসলো।
যথেষ্ঠ সমীহ আর সম্মান দেখানো মেইল পেয়ে হ্যাকিং জীবনকে বেশ রসাত্নক আর বর্ণীল লাগছে!
যাক একটা টেনশন থেকে বাঁচা গেল। আমি আর নাঈম ক্লাসের দিকে হাঁটছি।
এখন জানি কার ক্লাস, কি ক্লাস মনে করতে চেষ্টা করলাম। কিন্ত কিছুতেই মনে আসছে না। আমার আবার ব্রেনের উপর চাপ দিতে ভালো লাগে না। তাই কিচ্ছু করার নাই। আর চিন্তা করলাম না। নীতুর কথা ভাবতে ইচ্ছে হচ্ছে। কি আর করা? শুরু করলাম ভাবা।
আমি আর নীতু। সবুজ গাছের সারি। মাঝখানে পিচের রাস্তা। পাশাপাশি হাঁটছি আমরা দু’জন। কোন কথা নেই, কোন শব্দ নেই আশে পাশে… নিতু নিতুর মত আমি আমার মত দু’পকেটে দু হাত দিয়ে হাঁটছি। নীতু পরেছে সাদা জামা… আমি জিন্স আর ব্লাক টি-শার্ট…

(পাঁচ)


আমি মেয়েদের খুব একটা পটাতে পারি না। আমাকে দেখলে মেয়েরা কেন জানি অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে। আমি খুব একটা নজর না দিতে চেষ্টা করি। মনে মনে ভাবি, মেয়ে না হয়ে যদি একটা ওয়েব সাইট হতি একদম হ্যাক করে ঝুলিয়ে দিতাম! আমার সাথে ভাব!!
আমার বন্ধু’রা দেখি একটার পর একটা ভালোবাসা করেই যাচ্ছে। নাম বলতে গেলে আমার কলেজ ফ্রেন্ড শুভ আর আকাশের কথা বলতে হয়। আমার ধারনা আমি খুবই আন স্মার্ট, তাই আমাকে নীতু পছন্দ করে না। এসব ভাবতে ভাবতে রাত অনেক হয়ে গেল। আরেকবার কম্পিউটারে ঢু মারার টাইম হয়েছে। ফেসবুকে ঢুকালাম প্রথমে আজ ইভা নেই। না থাকলে নাই। নাঈম ফেসবুক খুব একটা পছন্দ করে না। কি আর করা? আমি মেইল চেক করলাম। রোজার বেটা আরেকটা মেইল দিয়েছে। আমি পড়তে শুরু করলাম যত্ন ও টাইম নিয়ে। তেমন কিছু না, হাবি জাবি কথা। শেষ দিকে দেখলাম টুইটারে তার কন্টাক্ট এড্রেস দিলো। আমি আবার টুইটার খুব একটা পছন্দ করি না। আরেকটু নিচে দেখলাম ফেসবুকেরটা। ভালো। লিঙ্কে গিয়ে এড রিকুয়েস্ট পাঠালাম।
আচ্ছা কানাডায় তখন সময় কত? যাক কোন আইডিয়া নাই। ঐ ব্যাটাও নিশ্চয় জানে না। এই বিদেশিগুলারে আমার মন চায় দুই দিন ফার্ম গেট দাড় করিয়ে রাখি। যাক আরো ঘন্টা খানেক সময় গেল এদিক ওদিক করতে করতে। ফেসবুকে এসে দেখি রোজাস অলরেডি আমাকে এক্সেপ্ট করে ফেলেছে। চ্যাটে পেলাম। আমি ‘হাই’ দিলাম।
বেকও এল, ‘হেল্ল!’
আমি বললাম, ‘আমিXtremeOrion@hotmail.com’
‘হাউ আর ইউ’-বলল রোজাস।
আমি উত্তর করলাম। এভাবে চলতে থাকলো।
অনেক কথা হল সে রাতে। আমি পারত পক্ষে খুব একটা মিথ্যে বলি না। তাই যা’সব কথা হয়েছে সবই সত্যিই হয়েছে। রোজাস সম্পর্কে ততক্ষনে একটু ধারনা পেয়ে গেছি। ব্যাটা মারাত্নক চালাক। আর একটু গোয়েন্দা টাইপের। বাংলাদেশ সম্পর্কে হালকা জানতো। এখন অনেক জ্ঞান দিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে কেউ এই রকম একটা সাইট হ্যাক করতে পারে এটা তাদের ভাবনার বাহিরে। আমি কিছুটা ভাবের সাথে মনে মনে ‘অশিক্ষিত’ বলে গালি দিলাম। আর গর্বে মাটিতে তখন আমার পা পড়ছিলো না!

 

 

(…চলবে।)

(প্রতি পর্ব প্রকাশের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে পরের পর্ব প্রকাশ পাবে। এভাবে চলবে শেষ পর্যন্ত। কমেন্ট অপশন দেওয়া হবে শেষ পর্বে! কোন সাজেশন থাকলে করতে পারেন এখানেঃ rubel007007cse@gmail.com)

>>>>>>>>>>>>হ্যাকার টকস (পর্ব : তিন)


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

Rubel Orion

ফেসবুকে আমিঃ https://www.facebook.com/mosharrof.rubel

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/science-fiction/rubel/6973

2 pings

  1. হ্যাকার টকস (পর্ব : তিন) » টেকটুইটস

    […] গল্পের শুরুটা ছিলো এমন! […]

  2. হ্যাকার টকস » টেকটুইটস

    […] >>>>>>>>হ্যাকার টকস (২য় পর্ব) […]

Comments have been disabled.