«

»

হ্যাকার টকস

(প্রথম কথা!)


অনেকই মনে করেন প্রযুক্তি সাইট মানে ট্রিপ্স এন্ড ট্রিক্স অথবা কম্পিউটারের জটিল কোন সমস্যার সমাধান। আমি তাদের সাথে সারাজীবন দ্বিমত করে আসছি, করছি করবো। সায়েন্স ফিকশন এমন একটা জিনিস যেটা দেশের মেধাবী অনেক মানুষ লিখেন। যদিও আমি সেই পথের অতি ক্ষুদ্র ও নগন্ন মানুষ, তবুও চেষ্টা করি তাদের সম্মান দিতে! যেমন বলতে পারি ডক্টর মোহাম্মাদ জাফর ইকবাল এর কথা! এই সায়েন্স ফিকশনটা কয়েক পর্ব হবে! ইতি মধ্যেই এটা লেখা শেষ হয়েছে!
আরেকটা কথা, পঞ্চাশ বছর আগে যেটা সায়েন্স ফিকশন ছিলো, সেটা আজ বাস্তব। আজ যেটা সায়েন্স ফিকশন সেটা পঞ্চাশ বছর পর বাস্তব হবে! তাই, সায়েন্স ফিকশন কোন সাধারন ব্যপার নয় আমার কাছে। এই সায়েন্স ফিকশনটা অনেকটা বাস্তবের সাথেই মিল রেখে লেখার চেষ্টা করেছি আমি। আশা করি খারাপ লাগবে না!’

(এক)


দুই বার পাসওয়ার্ড ভুল করার পর অবশেষে ফেসবুকে ঢুকতে পারলাম। তবে পাসওয়ার্ড ভুল করে মেজাজ খারাপ হয়েছে তা কিছুটা কমেছে অনলাইনে ইভা’কে দেখে। ইভা হচ্ছে নিতুর বান্ধবী। আমি খুব কম সময় মেয়েদের চ্যাটে আমন্ত্রন জানিয়েছি। আজও তার ব্যতিক্রম না। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে ইভা আমাকে নক করবে। প্রায় পাঁচ মিনিট চলে যাওয়ার পর নক না করায় আমি কিছুটা আশা ছেড়েও দিয়েছি। কিন্তু আমাকে হতাশায় না ডুবিয়ে ইভা জিজ্ঞেস করলো, ‘এত রাতে কি করেন?’
আমি উত্তর দিলাম, ‘বলার মত কিছু না।’

কিন্তু আমি আসলেই তখন কিছু একটা করছিলাম। মনে মনে ভাবলাম, ‘বদ মেয়ে তুই যদি জানতি আমি কি করছি!!’ একটু হেসেও নিলাম।
তারপর আরো কিছুক্ষন কথা হওয়ার পর আমি অফলাইনে পাঠিয়ে দিলাম।
মেয়েদের এই একটা সমস্যা, একবার কথা শুরু করলে আর শেষ নেই।
যাক আমি আমার কাজে মন দিলাম।

সময়টা তখন প্রায় রাত তিনটা। আমার পুরা ফাঁদ পাতা হয়ে গেছে। এখন খালি এডমিনের আমার ফাঁদে পা দেওয়া বাকি। লোকটার নাম রোজাস। কানাডায় থাকে। মারাত্নক চতুর। আমি এই সাইট’টা হ্যাক করার জন্য প্রায় দুই মাস ধরে চেষ্টা করছি। কিন্তু সে যেমন ছেড়ে দেওয়ার পাত্র না, তেমনি আমিও এত সহজে হতাশ হচ্ছি না। আর যেখানে কষ্ট কম, সেখানে সফল হলে অত আনন্দও হয় না। এই কথাটা আমার ক্ষেত্রে পরিক্ষিত!
যাক আমি যে র-ডাটা কালেক্ট করেছি রোজাস সম্পর্কে তাতে সে কখন সাইট আপডেট করছে তার কিছু নমুনা থেকে আমি একটা এভারেজ বের করেছে। বাংলাদেশ সময় ভোর চারটা থেকে সাড়ে চারটার মধ্যে সে সাইট আপডেট করতে লগ ইন করে। আমি টোপ ফেলে বসে আছি,কিন্তু সময়টা কাটছে না।

ভাবছি কি করা যায়। লোক’টাকে চতুর বললাম এই কারনে, সে বিচিত্র কিছু একটা ইউজ করে যার ফলে হ্যাক’র টোপগুলা আগেই ধরা পড়ে। বেটা একবার সাব কন্সাসলি লগ ইন করলেই হইসে,কেল্লা ফতে!!
আজ যেটা করেছি সেটা করতে আমাকে অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে। সো দেখা যাক কি হয়!
আমি ফেসবুকে আবার ঢু মারলাম।

দেখি ইভা এখনো বসে আছে। আমিও কিছু বললাম না, আমাকেও না। একবার ইচ্ছা করছে জিজ্ঞেস করি, ‘এত রাত পর্যন্ত কি করিস ফাজিল মেয়ে? সবার স্ট্যাটাস মুখস্থ করিস?’ কিন্তু এই কথা বললে নির্ঘাত সে অবাক হয়ে মারা যাবে। তাই তাকে এই যাত্রায় মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে দিলাম!
এদিক সেদিক ঘোরাঘোরি করতে করতে চারটা বাজলো। আমি কিছুটা উত্তেজনা ফিল করছি। কি হয়! কি হয়!!

তবে আমাকে কখনোই ধরতে পারবে না,আমি সেই কাজ করে রেখেছি। সমস্যা হচ্ছে আমার পরিশ্রমটা যা বিফলে যায়! ‘যা হয় হবে, জীবনে আর কি আছে!!’ একবার মনে মনে একবার শব্দ করে কথাটা বললাম। এই কথাটা আমাকে অনেক সাহস দেয়। মনে হয় সব জয় করে ফেলবো।
আমি আমার হোস্টেড ট্রাপ ফাইলে দিকে তাকিয়ে বার বার রিফ্রেস দিচ্ছি। এই বুঝি পাসওয়ার্ড আসলো বলে!
কিন্তু অপেক্ষা করতে করতে প্রায় পাঁচটা বাজলো। আমি কিছুটা ঝিমুচ্ছি! তন্দ্রা তন্দ্রা লাগছে।

(দুই) :


নীতু আমার দিকে না তাকিয়ে বলল, এত বেলা পর্যন্ত কেউ দাড়িয়ে থাকবে তোমার জন্য? আমি কিছুটা অবাক হয়ে বললাম, ‘তবে, বসে থাকো!’ ও আমার দিকে তাকিয়ে কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বলল, ‘আর জীবনেও অপেক্ষা করবো না!’
‘কেন জীবন কি এখানে শেষ হচ্ছে নাকি?’-আমি বললাম।
নীতু হাতে থাকা একটা ব্যাগ ছুড়ে মারলো আমাকে!
আমি বুঝিনা এই মেয়েটা এত বিরক্ত কেন আমাকে নিয়ে? আর আমার কথায় খালি অবাক হয়। আমি নিজের কথা বিশ্লষন করে দেখেছি, আমি খুব একটা অবাক করা কথা বলি না, আর আমি খুব একটা বিরক্তিকরো না!
যাক আমি কোন মতে তাল সামলে নিয়ে বললাম, ‘সরি!’
সরি আমাকে কেন বলতে হলো তাও বুঝলাম না, তবে এটা মাঝে মাঝেই ম্যাজিকের মত কাজ করে! আজও করলো।
নীতু আমার দিকে তাকিয়ে বাচ্ছাদের মত একটা হাসি দিলো! আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম আর মনে মনে ভাবলাম এই হাসির কি নাম হতে পারে?
‘মিস্ট্রিয়াস হাসি!’- নীতু বলে হো হো করে হেসে উঠলো।
এটা দেখে আমি পুয়ারোই আহাম্মক বনে গেলাম। শুধু বনে গেলাম বললে কম বলা হবে। সেই বনে গিয়ে বানরের তাড়ানিও খেলাম!
‘তুমিতো আহাম্মকই!’-বলে নীতু আরো শব্দ করে হাসল।
আমি এই মেয়েটাকে আজও বুঝতে পারলাম না। কোন দিন বুঝতে পারবো কিনা জানি না। তবে ও আমাকে স্বচ্ছ স্ফটিকের মত বুঝে! নিজেকে ভাগ্যবানই মনে হয়।
আমার মাঝে মাঝেই মনে হয় বিধাতা ওকে বিশেষভাবে তৈরী করেছেন, আমাকে বুঝার জন্য।
তারপর উঠলাম,আজ গাছের নিজে দুজন হাঁটবো। এটা আমার মনে মনে প্ল্যান করা। তবে আমি হাত ধরা ধরি খুব একটা পচন্দ করি না। পাশাপাশি কথা না বলে সামনের দিকে তাকিয়ে হাঁটাই আমার পছন্দ। নীতুও এই ব্যপারে আমার মত। যদিও এখনকার ছেলে মেয়ে’রা ভালোবাসার সুন্দর রূপটা বয়ফ্রেন্ড গার্ল ফ্রেন্ড এর আড়ালে হারিয়ে ফেলছে। যাক তাদের নিয়ে কথা না বলাই ভালো।
শুরু হলো আমাদের পথচলা। আমি দুহাত পকেটে দিয়ে হাঁটছি। আর মাঝে মধ্যেই বিধাতাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি আজকের এই দিনটার জন্য। এইরকম দিন আরো এসেছিলো, আরো আসবো তবুও কেন জানি প্রত্যেবার বিধাতা’কে ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছে হয়। আমি আড় চোখে নীতুর দিকে একবার তাকালাম। দেখি ও নিজের মত হাঁটছে। আমি জানিও ও নিজের মত হাটলেও আমার প্রত্যেকটা পদ চিহ্ন ও ধরতে পারে। এই ভাবনাটাকে আরেকটু ভালোভাবে বললে এমন হবে,
আমি আর নীতু। সবুজ গাছের সারি। মাঝখানে পিচের রাস্তা। পাশাপাশি হাঁটছি আমরা দু’জন। কোন কথা নেই, কোন শব্দ নেই আশে পাশে… নিতু নিতুর মত আমি আমার মত দু’পকেটে দু হাত দিয়ে হাঁটছি। নীতু পরেছে সাদা জামা… আমি জিন্স আর ব্লাক টি-শার্ট…
আমি ওকে ওর মত করে ভালোবাসতে পারি না। কিন্তু আমার মত ভালোবাসি! ভালো তো বাসি।

তবে আমি মানুষ হিসেবে খুব ইরেস্পন্সিবল। মেয়েরা নিরাপত্তা খুজে। তাই ইরেস্পন্সিবল ছেলেদের তারা পছন্দ করে না। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম, নীতু আমাকে খুব পছন্দ করে! আমার গ্রজুয়েশন শেষ হতে বেশি দিন নেই। আমি কখনো ভাবি নি তারপর কি হবে?
কেন জানি ভাবতে ইচ্ছে হয় না। আমি এসব ভাবছিলাম হঠাত পাশ ফিরে দেখলাম নীতু নেই। কেন জানি আমি অবাক হলাম না। এমনেই আমার অবাক হওয়ার ক্ষমতা খুব একটা নেই। এই জন্য নীতুর কাছে মাঝে মাঝেই বকা খাই। সৃষ্টিকর্তা মেয়েদের অবাক হওয়ার মারত্নক ক্ষমতা দিয়েছেন। আমাদের দেয় নি। আমাদের কি দোষ?

আমি একটা গাছের নীচে বসে পড়লাম। আর অপেক্ষা করতে থাকলাম। অপেক্ষার আর শেষ হয় না। হঠাত মায়ের গলা শুনতে পাই!
‘কিরে তুই চেয়ারে ঘুমাচ্ছিস কেন?’

(…চলবে)

>>>>>>>>হ্যাকার টকস (২য় পর্ব)

(প্রতি পর্ব প্রকাশের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে পরের পর্ব প্রকাশ পাবে। এভাবে চলবে শেষ পর্যন্ত। কমেন্ট অপশন দেওয়া হবে শেষ পর্বে! কোন সাজেশন থাকলে করতে পারেন এখানেঃ rubel007cse@gmail.com)


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

Rubel Orion

ফেসবুকে আমিঃ https://www.facebook.com/mosharrof.rubel

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/science-fiction/rubel/6894

2 pings

  1. হ্যাকার টকস (২য় পর্ব) » টেকটুইটস

    […] >>হ্যাকার টকস-1 […]

Comments have been disabled.