«

»

‘ব্রাইটস্পেস পেটানেট’ সার্ভার! (পর্ব-১/২)

আসসালামুয়ালাইকুম। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছে। আমার লেখা একটা সায়েন্স ফিকশন শেয়ার করলাম। আশা করি কিছুটা সময় ভালো কাটবে!!
আমাদের দেশে রোবোট আছে কিনা আমার জানা নাই, তবে আমাদের সমাজের মানুষগুলু রোবোট হয়ে উঠছে এখন শুধু নিজেদের প্রয়োজনে। এখন নিজের পকেটের টাকা খরচ করেও অন্যকে চা খাওয়ানো যায় না। অবস্থানগত কারনে নোয়াখালীর মানুষ একটু অথিতি পরায়ন হয়। আমিও ব্যতিক্রম নই তথা নোয়াখালির প্রানি বিধায়, তাই এমন মনে হচ্ছে!

(পর্ব : ১)
“জায়গাটা নোয়াখালির মাইজদীর। সময়টা ৯০০৩ সাল। নোয়াখালির সব মানুষ অভিমান করে কোমায় চলে গেছে। স্থান হিসেবে তারা নিয়েছে ‘নোয়াখালী বিজ্ঞান পরিষদ’কে। অভিমানের কারন হলো দেশ থেকে হস্পিটালিটি উঠে গেছে। তারা সবাই আর কোমা থেকে উঠবে না বলে স্থির করেছে। মস্তিষ্কে সিগ্নাল পাঠিয়ে সব ধরনের অনুভূতি দিয়ে গ্রহন করবে তারা। কিন্তু ইতি মধ্যে সারা পৃথিবীর ও অরিওন গ্রহপুঞ্জের প্রায় আট হাজার কোটি মানুষ ও হিউরিক্স (আমারা যাদের এলিয়েন বলি) কোমায় আছে। নোয়াখালি জিলা স্কুলের পাঁচ মেধাবি প্রাক্তন ছাত্র ‘নোয়াখালি কেন্দ্রিয় বিজ্ঞান পরিষদ’ এর দায়িত্তে আছে। সব মানুষ কোমায় যাওয়ার জন্য বৃহত্তর নোয়াখাল তথা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানী ও ‘নাসা’র প্রধান পরিচালক ড. শামস এর বানানো একটি মাইক্রো নিউরন প্রসেসর ব্যবহার করেছে। ‘নোয়াখালি বিজ্ঞান পরিষদ’টি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৫০,৮০০ ফিট নিচে বঙ্গপসাগরে গভিরে অবস্থিত। এতে এক লক্ষ বর্গ ফিটের চেয়ে কিছুটা বেশি স্পেস রয়েছে যেখানে নোয়াখালির সব মানুষ কোমায় রয়েছে। ড. শামস এর বানানো মাইক্রো নিউরন প্রসেসরটির সাহায্য সবার সেন্ট্রাল নিউরন এক সাথে নিয়ন্ত্রন করছে বিজ্ঞান পরিষদ। বাকি পৃথিবীর সবাই কোমায় যাওয়া মানুষগুলুও এই মাইক্রো নিউরন প্রসেসরটি ব্যবহার করছে। কিন্তু এর জন্য তাদের গুন্তে হচ্ছে মাসে ষাট লাখ ডলার। ‘নোয়াখালি বিজ্ঞান পরিষদ’এর বিজ্ঞানীরা একটি সার্ভার ব্যবহার করে যেটি সমস্ত পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা। তবে এর নাম সবার জানা। ‘ব্রাইটস্পেস পেটানেট’ নামক সার্ভারটির সাইট ৫০০ পেটা বাইট মেমরি স্টোর করতে পারে। যা সমগ্র পৃথিবীর কাছে বিস্ময়! ড. শামস এর বানানো মাইক্রো নিউরন প্রসেসর থেকে আয় করা টাকা দিয়ে প্রতিনিয়ত সার্ভারটি উন্নতির কাজে ব্যবহার হয়।

নোয়াখালি জিলা স্কুলের প্রাক্তন ছাত্ররা হচ্ছে পাঁচ জনের একটা টিম যারা প্রতিনিয়ত সার্ভার তথা সাইটের দেখাশুনা করছে। এরা হচ্ছে; অরণ্য,সকাল, তিনু, স্যরেন ও নিয়ন।
এই পাঁচ জনের প্রধান হলো তিনু। তিনুর বাম হাত নেই। একবার সার্ভারের কাজ করতে গিয়ে ইলেক্ট্রিক শকে খসে গেছে। তবে হাত একদম নেই বললে ভুল হবে, এলেস্টিক শিরা ও উপশিরার সহ নিয়ন তাকে একটা হাত বানিয়ে দিয়েছিল। নিয়নের ব্যক্তিগত রোবট ‘রে-১১’ এই কাজে তাকে সব রকম হেল্প করেছিলো। একটা কথা না বললেই নয়, তা হল নিয়নেয় বানানো তিনটি রোবট এখন ‘নাসা’য় কাজ করছে। যাদের জন্য প্রতি মাসে ৬৮ হাজার ডলার দিতে নয় নিয়নকে ‘নাসা’র পক্ষ থেকে। তবে এ নিয়ে রোবটগুলু নিয়নের সাথে মাঝে মধ্যেই তর্ক করে। তারা নিজেরা হাত খরচ চায়। অবাক হওয়ার কিছুই নেই, এই রোবোটগুলুর মেধা মানুষের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। এরা স্বাধীন চিন্তা করতে পারে। নিয়ন বলেছে বেশি বুঝলে ‘এক্টিভ প্রোগ্রাম’ চেঞ্জ করে চাইনিজ রোবোট বানিয়ে দিবে। তবে নিয়ন ধারনা করছে রোবট দুটা তার পিছনে তার ক্ষতি করার প্লান করছে। কিন্তু এতে তার কোনো দুশ্চিন্তা নেই, কারন রোবট দুটোর নিষ্ক্রিয় করার কোড সে মুখ থেকে বের করলেই তারা হাস্যকর চাইনিজ রোবটে রুপ নিবে। রোবটদের জন্য এয়ার কোড বানিয়ে রেখেছে নিয়ন। মহা বিশ্বের যেই প্রান্তে তারা থাকুক এই কোড উচ্ছারিত হওয়া মাত্র তারা নিষ্ক্রিও হবে, এবং নিয়নের হেল্প ছাড়া তার আর কাজ করতে পারবে না।

সব কিছু ভালো ভাবেই চলছে।

কিন্তু বছর দুইএর মাথা হঠাত কিছু একটা গন্ডগোল দেখা দিচ্ছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান পরিষদের নিজস্ব ফিউচার মেশিন এই ব্যপারে আগেই মন্তব্য করেছিলো। কিন্তু স্যরেন ওটাকে ‘নির্বোধ মেশিন’ বলে গালি দিয়ে থামিয়ে দিয়েছিলো!

সময়টা ৯০১১ সালের ১১ ই ফেব্রুয়ারী বিকেল তিনটা। তিনু মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। সবাই দুপুরের খবার খেয়ে বিস্রাম নিচ্ছে। কিছুক্ষন পর রুমে বাকি চার জন ঢুকল। তিনুর বুঝতে বাকি নেই কাজটা ‘রে-১১’ এর। সবার আগে সকাল জিজ্ঞেস করলো, ‘ঘটনা কি?’

সকাল প্রশ্নটা করেই ধাক্কার মত খেল। ততক্ষনে সবার চোখ পড়েছে হলোগ্রাপিক মনিটরে। ডানপাশে নিচে লাল শব্দে লেখা ‘ডী-১৮৬’ হলুদ বর্ণে লেখা ‘ক্লো-১৮৮২’ অরন্য সবার মাঝে একটু শক্ত প্রকৃতির। সে জিজ্ঞেস করলো, ‘লাশগুলু কই?’

তিনু বলল, ‘রুম ১৫৬, স্পেস ব্লক থেকে ১৬৮৯ ফিট উপরে। সবগুলু লাশ এফ ব্লকের তিন নাম্বার ডিপার্টমেন্টের থেকে বের করেছে ‘রে’ রুমের বাহিরে স্প্রেডক্রাপ্ট ফ্লো-৮২ আছে, সেখানে, কোথায় যেতে হবে তার প্রোগ্রাম করা আছে! গিয়ে দেখে আয়’ এক মুহূর্তের মত কেউ নড়তে পারলো না। হঠাত করে তিনু অরন্যের হাতটা ধরলো। অরন্য চমকে উঠে বলল, ‘কি হয়েছে?’ তিনু নিচের দিকে তাকিয়ে বলল, “ওখানে নীয়নার লাশ আছে!”

অরন্য পাথরের মত দাঁড়িয়ে গেলো!

তাকে সান্তনা দেওয়ার ভাষা কারো নেই। নীল আলোয় নিষ্প্রান পাঁচটি যুবক। চার জন মৃত্যুপুরির লোক হওয়ার শোকে, অপর জন ভালোবাসা হারানোর শোকে নিষ্প্রাণ!

(……….চলবে।)
যোগাযোগ করুন; rubel007cse@gmail.com


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

Rubel Orion

ফেসবুকে আমিঃ https://www.facebook.com/mosharrof.rubel

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/science-fiction/rubel/485

10 comments

Skip to comment form

  1. ঐ ছেলেটি
    jakir

    Oh, সাইন্স ফিকশন এক বারে না পড়লে মজ আছে?? তার উপর আমাদের নোয়াখালিকে নিয়ে… তাড়াতাড়ি পরের পার্ট দিন। আমরা অপেক্ষা করছি…

    1. Rubel Orion

      সবুরে সেকেন্ড পার্ট মিলে…

    2. ঐ ছেলেটি
      jakir

      😛

    3. Rubel Orion

      😉

  2. bright space

    অনেক ভালো হয়েছে।তবে দারুন পেরেশানির মধ্যে আছি।।বাকিটা কখন মিলবে??????????????

    1. Rubel Orion

      সবুরে সেকেন্ড পার্ট মিলে…………….. 😛

  3. RASHED

    ভাল হইছে

    1. Rubel Orion

      😛

  4. shamim

    ভাই রে ও ভাই আর সহ্য হয় না ।জলদি ২য় পাঠটা জলদি দ্যান plzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzz

  5. রুবেল অরিয়ন

    শামীম ভাই, পুরা গল্পটা অনেক আগেই প্রকাশ পেয়েছে। 😀 😀
    দাড়ান আমি লিঙ্ক দিচ্ছি!! 😛 http://techtweets.com.bd/science-fiction/rubel/966

মন্তব্য করুন