«

»

সাইন্স ফিকশন – ২২ ই এপ্রিল।

 

 

ল্যাব থেকে বের হয়ে তনু গ্রীনহার্ট’র দিকে রওনা দিলো। তনু যে যান’টায় চলাচল করে সেটা দেখতে অনেকটা কচ্ছপে’র মত। আধুনিক বাহনগুলা অনেক সুযোগ সুবিধার হলেও তনু’রটায় বিশেষ কোনও সুবিধা নেই। সে সিম্পলিসিটি’তে বিশ্বাসী। হাইওয়তে উঠে ফ্লাইজোন প্রোগ্রাম সেট করে একাবার ঘড়িটা দেখলো। সময়টা অনেকটা এই রকম দেখাচ্ছেঃ 0101’0010^p. পাঁচটা বেজে গেছে তাই এখন আর হাইওয়েতে যাওয়া সম্ভব না। রাস্তা থেকে অলরেডি ৩৮ মিটার উপর দিয়ে তনু ছুটে চলছে প্রায় দুই শতাধিক মাইল বেগে।

তনু খুব অলস টাইপের। তার এই বাইনারী জীবন যাপন ভালো লাগে না। এই জন্য বর্তমান প্রেসিডেন্টকে তার ভালো লাগে না। এর আগের প্রেসিডেন্ট অনেক ভালো ছিলো। সে সময় সবকিছু অক্টাল সিস্টেমে চলত। সত্যি কথা বলতে কি তনু সেই সরকারকে এবারো ভোট দিয়েছে কিন্তু সে এবার নির্বাচিত হয়নি। তনু একবার প্রাচীন সময়ে’র প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে কিছু তথ্য পেয়েছিলো। সেটা তার কাছে খুব হাস্যকর মনে হয়েছিলো। তখন নাকি মানুষ ভোট দিয়ে গনতন্ত্র’র সরকার না কি একটা নির্বাচন করতো, সে দেশ চালাত। তথ্য সম্রাট যে পৃথিবী চালাবে তারা নাকি জানতোনা, কখনও ভাবেওনি। খুব হাস্যকর লাগে তনুর কাছে। সে সময় নাকি এই রকম আজব আরো অনেক কিছু ছিলো। মানুষ নাকি অধিকারের জন্য মিছিল মিটিং করতো।

গ্রিনহার্ট’এ এসে তনুর বুকটা কেঁপে উঠলো। সেখানে নীতু নেই। ১৬ মিনিট আগে নীতু বাসা থেকে বের হলেও এখনও কেন এসে পৌঁছায়নি! নীতুর বাসা থেকে এই জায়গায় আসতে ১৩ মিনিট লাগে। নীতুর কোনও বিপদ হলো নাতো! তনু সবুজ ঘাসে বসে পড়লো। এই জায়গাটা একমাত্র জায়গা যেখানে সবুজ ঘাস দেখতে পাওয়া যায় তাছাড়া নিরম নিথর। তবে প্রায় সব জায়গায় সবুজ ঘাস থাকলেও সেগুলু প্লাস্টিকের ঘাস, কিন্তু দেখে বুঝার উপায় নাই। ঘাসে’র দিক থেকে মুখ তুলতেই তনু দেখলো সামনে নীতু। এক মিনিটে’র জন্য উপরের দিতে তাকিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানালো তনু।

‘এত দেরী কেন?’-তনু

নীতু পিছন থেকে একতোড়া ফুল বের করলো।

ততক্ষনে তনু’র চোখ চনাবড়া!

নীতু বলল; ‘আজ ২২ই এপ্রিল। আজ আমার জন্মদিন।’

সেটা তনু’র মাথার উপর দিয়ে গেলো। কারন ২২ই এপ্রিল শুধু নীতু’র জন্মদিন না, ২২ ই এপ্রিল মানে ‘একচেঞ্জ ডে’। তনু’র মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেল। কিন্তু নীতু কিভাবে হাসছে সেটা বোঝা তার পক্ষে সম্ভব না।

‘তুমি হাসতেসো কিভাবে?’-তনু

নীতু বলল; ‘কান্না করে কি কোনও সমাধান হবে? আজ কি কাজ করলা সারাদিন?’

তনু বিস্মিত হয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকে, আর ভাবে আজো বুঝা গেলনা এই মেয়েটাকে। দীর্ঘ একটা শ্বাস নিয়ে বলল;

‘কোডিং করলাম ২৪ নাম্বার হাউজিং এর ওয়াটার সিস্টেমের। আমার বেতন ৩০% ইঙ্ক্রিজ হচ্ছে।’

নিতু বলল; ‘তাহলেতো ভালোই, আমি ফিরে আসতে আসতে আরও ভালো হবে।’

‘হুম।’ বলে উঠে দাড়ালো তনু। কি করবে বুঝতে পারছে না।

নিতুর দিকে তাকিয়ে তনু বলল,

‘তোমার ফ্লাইট কয়টায়?’

মুখ না তুলে নীতু বলল, ‘সাতটা ৩৮ মিনিট।’

তনু বলল ‘আমাদের আবার দেখা হবে কবে?’

‘দুই বছর পর। আবার এই ২২ই এপ্রিল।’

নীতু উঠে দাডালো। একবার চোখ তুলে তাকালো তনুর দিকে। তনু চেয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করতে পারল না। এক মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠলো তনু। চোখ ঘুরিয়ে দেখলো নিতু তার হাত ধরে রেখেছে।

এক ভালোবাসা দেওয়া ছাড়া তনু’র অন্য কিছু করার নেই। ধীরে ধীরে নিতু হেটে চলল। একটু একটু করে আড়াল হয়ে গেল।

বাসায় ফিরে এল তনু। ‘একচেঞ্জ ডে’তে চোখ পড়ল তার। কম্পিটার’টা অফ না করে চলে গিয়েছিলো সে। সেখানে কিছু লেখা ছিলো এই রকম,

‘পৃথিবীর মানুষ অত্যদিক হারে বেড়ে যাওয়ার কারনে প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর ‘অরিয়ন গ্রহে’ নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষ রেখে আসা হয়। তাদের আবার ফিরিয়ে আনা হয় সেই সময় পর।’

তনু এসে কম্পিউটার অফ করে দিলো। আজ আর কাজ করার শক্তি নেই। সব কিছু কেওম জানি শুন্য শুন্য লাগছে। বিছানা’য় এসে মুখ রাখলো তনু বালিশের মাঝে। সবকিছু কেমন জানি এলোমেলো হয়ে গেল। মনে হচ্ছে নীতুর সাথে আর কখনই দেখা হবে না।

কখন জানি তনু’র ঘুম এসে গেলো, সে টের’ই পেলো না।

 

(অনেকটা সময় পর তনুর ঘুম ভেঙ্গে গেলো।)

 

উঠে সময়টা দেখলো তনু। 1000’1011^p । নীতু এখন আর পৃথিবীতে নেই,ছুটে চলছে অরিয়ন গ্রহের বুকে। ভাবতেই কেমন জানি লাগলো তনুর।

কম্পিউটার অন করে নীতু’র কন্টাক্ট কোড চাপ দিলো তনু। হাসি মুখের নিতুর ছবি ভেসে আসলো।

নীতু বলল; ‘ঘুম কেমন হলো?’

একটু লজ্জাই পেল তনু।‘ ভালো। তুমি কেমন আছো?’

‘আমি ভালো আছি। তোমার কাজের কি খবর? ‘আর-নাইন’ ভাইরাসটা নিয়ে আর কাজ করেছো?’

কথাটা শুনেই চমকে উঠলো তনু। কারন, এই আর-নাইন ভাইরাস একমাত্র আধুনিক এয়ারক্রাফটে আক্রমন করে। একবার আক্রমন করলে মৃত্যু অনিবার্য।

কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, ‘তোমাদের যানে ঠিক আছে? তোমরা কতজন?’

নীতু বলল, ‘আমাদের যান ভালো আছে। আমরা দুই লাখ সাতাত্তর হাজারের মত আছি।’

কথাটা কেমন জানি খটাকা’র মত লাগলো তনুর কাছে। তনু ‘পিপল একচেঞ্জ কমিউনিটি’র সঙ্গে কন্টাক্ট করার চেষ্টা করলো। কিন্তু সেটা কাজ করছে না। হঠাত করেই দেখলও নীতু’র সাথে কমিউনিকেশন ডিস্কানেক্ট হয়ে গেলো। কি করবে বুঝতে পারছে না সে।

তনু ভাইরাসটা’র ইনফমেশন জানতে চাইলো, কমিউনিটি ডাটাবেজ চেক করছে সে। বার বার চোখের সামনে নিতু’র নিষ্পাপ মুখখানি ভেসে উঠল। নীতু’র চলাফেরা বেশ কিছুদিন ধরে তনু’র কাছে এলোমেল লাগছিলো। নিতু কেমন জানি এই ‘আর-নাইন’ ভাইরাসটা নিয়ে বিজি হয়ে গেছিলো। তাছাড়া এই একচেঞ্জ ব্যাপারটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারে নি।

তনু অবশ্য বেশ কিছু দিন ধরে ঐ ভাইরাস নিয়ে গবেষনা করেছিলো। নিউজ সেকশনের সাইটে গেল তনু। সেখানে তার চোখ পড়তেই এক মুহূর্তে মাথটা ঘুরে উঠলো, চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসছে ছটকা অন্ধকার। ব্রেকিং নিউজ যাচ্ছে, ‘এফ-১১ এয়ারক্রাফট ইজ এটাকড বাই আর-নাইন!’

তনু কিছুই বুঝে উঠতে পারল না। এইটুকু নিশ্চিত হলো, নীতু’র সাথে তার আর কখনো দেখা হবে না। এই ২২ ই এপ্রিল’ই তার জীবনের সাথে মিশে গেল, যেটা পৃথীবিতে নীতু’কে এনে দিয়েছিল। তনুর হঠাত মনে পড়ল, নীতু’কে শুভ জন্মদিন বলা হয় নি, ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে গেছে।’

 

একা এক মহাকালে একা এক যুবক বসে। নিষ্প্রান নির্জীব।

 

 

—-সমাপ্ত——

 

[সায়েন্স ফিকশন বুঝার আগ্রহ সবার নেই। অনেকই ভাবে প্রযুক্তি মানে ট্রিপ্স এন্ড ট্রিক্স আর কম্পিউটার। তাই কমেন্ট অপশন অফ রাখলাম। তাও যদি বকাঝকা করতে চান, এখানে (rubel007cse@gamil.com) করেন।]

 


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

Rubel Orion

ফেসবুকে আমিঃ https://www.facebook.com/mosharrof.rubel

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/science-fiction/rubel/2767