«

»

দ্বৈতসত্তা

দ্বৈতসত্তা

মাহ্দী মুহাম্মাদ

বিজ্ঞান কাউন্সিলের অন্যতম বিখ্যাত,নাম করা বিজ্ঞানী মুহাম্মদ জাফর ইউনুস।তিনি দীর্ঘদিন জাবত বিজ্ঞান  কাউন্সিলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জরিত আছেন।

একদিন তিনি একটি বিজ্ঞান বিষয়ক আর্টিকেলে দেখতে পেলেন দ্বৈতসত্তা নামক একটি ফিচার বের হয়েচে। ফিচারটির প্রতি তিনি আগ্রহ অনুভব করলেন, এবং ফিচারটির বিস্তারিত মনোযোগের সাথে পড়লেন।পড়ার পর তিনি  দ্বৈতসত্তা বলতে যা বুঝেছেন তার একটি নোট তৈরি করলেন। নোটটি এই রকম-

দ্বৈতসত্তা হল আমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে আকজন মানুসের দুটি সত্তা বা রূপ থাকে।খুব সম্ভবত কখন একটি সত্তা ক্রিয়াশীল থাকে তখন অপর সত্তাটি সুপ্তাবস্থায় থাকে।আমি মনে করি প্রতিটি মানুষেরই দুটি সত্তা থাকে তবে তা প্রবল নয়।জেমন মানুস মনের প্রতি প্রশ্ন করে বা কথা বলে তখন মন থেকে উত্তরও আসে। এখানে কি মানুষ নিজে একটি সত্তা এবং তার মন একটি সত্তা। ব্যাপারটি থিক কতখানি সঠিক তা আমি এখনো জানি না।

বিজ্ঞানী জাফর এই দ্বৈতসত্তা ব্যাপারটির প্রতি এতই আগ্রহী হলেন যে তিনি রীতিমত এই ব্যাপারটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন। তিনি দিনরাত এই দ্বৈতসত্তা ব্যাপারটি নিয়ে শুধু ভাবেন, বিভিন্ন লাইব্রেরী থেকে এর উপর লেখা বই জোগাড় করে পড়েন, ইন্টারনেট এ সার্চ করে এর উপর তৈরি করা ফিচার খুব মনোযোগের সহিত পড়েন। এভাবে এই একটি বিষয়ের উপর তিনি জোঁকের মতো লেগে রইলেন।

একদিন তিনি আপন কাজে নিবিষ্ট মনে মগ্ন আছেন আমন সময় তিনি শুনতে পেলেন প্রায় তার কণ্ঠস্বরের মতই কণ্ঠে কে যেন বলল, কেমন আছ জাফর? প্রশ্ন সুনে তিনি হচকিত হয়ে গেলেন। পরে ভাবলেন হয়তো তিনি ভুল শুনেছেন। ব্যাপারটি পাত্তা না দিয়ে তিনি যেই কাজের দিকে মন দিলেন তখন আবারো সেই কণ্ঠে সেই প্রশ্ন শুনতে পেলেন। এবার তিনি খানিকটা ভয়ও পেলেন। তিনি তখন কি করবেন বুজতে পারছিলেন না। তিনি চারপাশ তাকিয়ে খুজতে লাগলেন প্রশ্নটি কথা হতে আসছে। ঠিক এমন সময় তিনি আবারো শুনতে পেলেন, কি ব্যাপার তুমি ঘাবড়ে গেছ মনে হচ্চে।ভয় পাচ্ছ কেন? তখন তিনি সাথে সাথে বলে উঠলেন কে? কে? কে কথা বলে? কিন্তু কন উত্তর নেই। ভয়ে তিনি কয়েকবার ঢোক গিললেন। এরপর সেদিন তিনি আর কোন প্রশ্ন বা কথা শুনতে পাননি।এরপর তিনি কয়েকদিন এই বিষয়টা নিয়ে ভেবে এই সিদ্ধান্তে উপনীত যে তিনি গত বেশ কয়েকদিন ধরে সেই একটি বিষয় নিয়ে চিন্তা করছেন তাই তার অই বিষয়ের উপর হেলুসেশন হয়েছে। কয়েকদিন বিশ্রাম নিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। এরপর কয়েকদিন তিনি আর কোন কথা শুনতে পাননি।

এর কিছুদিন পর তিনি পুনরায় কথা শুনতে পেলেন এবং ব্যাপারটা নিয়মিত ঘটতে থাকল।

এখন তিনি প্রায়ই কথা শুনতে পান এবং ব্যাপারটিতে তিনি অভ্যস্ত হয়ে গেলেন। ইদানিং তাকে প্রায়ই দেখা যায় একা একা কথা বলতে। এভাবে কিসুদিন চলার পর তার স্ত্রী তাকে বলল, কি হয়েছে তোমার? গত কয়েকদিন ধরে দেখছি তুমি অন্যমনস্ক। প্রায়ই একা একা কথা বল। তখন তিনি একবার ভাবেন স্ত্রীকে সবকিছু খুলে বলবেন। কিন্তু শেষে বল্লেন,কই? না তো কিছু হয় নি। এমনি একটি বিষয় নিয়ে গবেষণা করছি। তিনি তার স্ত্রীকে সাতপাঁচ বুঝালেও তার স্ত্রী তার কথা বিশ্বাস করেনি। এরপর তার স্ত্রী তার একা একা কথা বলা বিষয়টা ক্যামেরা বন্দী করে তাকে দেখান। ভিডিও ক্লিপটি দেখে তিনি আর কিছু না বলে চুপ হয়ে যান। এরপর অনেকের চোখেই ব্যাপারটা ধরা পড়ে। তখন সবাই তাকে একজন ভাল সাইকোলজিস্ত এর কাছে যেতে বলল। তখন তিনি মনে মনে ভাবলেন তার এই ব্যাপারটির জন্য সবাই তাকে পাগল ভাবছে। এর একটি সমাধান হওয়া দরকার। এরপর তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি তার দ্বিতীয় সত্তাকে খুন করবেন। তখন তিনি অত্যাধুনিক অস্ত্র L-L-R-7 এ এই তথ্য লোড করলেন যে যখন তিনি দ্বিতীয় সত্তার অস্তিত্ব অনুভব করবেন তখন তিনি রিমোটের সাহায্যে সংকেত দিবেন।তখন অস্ত্রের বিস্ফোরকের আঘাতে দ্বিতীয় সত্তা মারা যাবে।যেটি জীবিত হবে সেতি হবেন তিনি।কিন্তু তিনি এইটুকু চিন্তা করলেন না যে তার নিজের মাঝেই উভয় সত্তার সহাবস্থান। তখন তিনি অস্ত্রতি সেট করে রাখলেন এবং রাতে যথারীতি কাজ করতে থাকলেন। তখন তিনি দ্বিতীয় সত্তার অস্তিত্ব টের পেলেন এবং অস্ত্রের দিকে সংকেত দিলেন।সংকেত দেবার ফলে অস্ত্রে টার্গেট লক হয়ে গেল।

***  ***  ***  ***  ***   ***

জাফর সাহেবের স্ত্রী যখন তার স্বামীর ল্যাবরেটরি রুমে ঢুকলেন তখন তিনি ভেতরের দৃশ্য দেখে ভয়ে চিৎকার দিয়ে বেরিয়ে আস্লেন।তার চিৎকারের শব্দ শুনে আশে পাশের মানুষ সবাই ছুটে এলো। সবাই মিলে যখন সেই ল্যাবরেটরি রুমে প্রবেশ করল তখন সবাই দেখতে পেল যে,মেঝেতে লাল জমাট বাধা রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আর জমাট বাধা রক্তের পাশেই জাফর সাহেবের নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে আছে।

 


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

mahdi

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/science-fiction/mahdi/5010

4 comments

Skip to comment form

  1. MNUWORLD

    ভাল লাগল। ধন্যবাদ

  2. Rubel Orion

    টেকটুইটস এ মারাত্নক মারাত্নক কিছু সায়েন্স ফিকশন পড়ছে। খুব ভালো। ধন্যবাদ mahdi ভাই! 🙂

  3. sabuj

    mahdee…… joss liksos dst2… chaliye ja.

  4. হাসান

    ধন্যবাদ। চমৎকার এ পোস্ট করার জন্য।

মন্তব্য করুন