«

»

সাইন্স ফিকশন – প্রকৃতির নিয়ম

প্রকৃতির নিয়ম
মাহাদী মুহাম্মাদ

চারদিক কি রকম নিশ্চুপ, সুশান নিরবতা। ভয় করা এক নিস্তন্ধতা। একটি পলক পরলেও যেন সেই শব্দ শোনা যাবে। এক ধরনের অশুভ ভয় এসে মনকে গ্রাস করে।

কিন্তু আশেপাশে কি সুন্দর সারিবদ্ধ ভাবে সাজানো গাছ। কী অপূর্ব দৃশ্য। বিকেলের হালকা রোদ এসে পড়েছে পরিবেশের উপর। এক ধরনের আরাম করা অলসতা বিরাজ করছে সর্বত্র। গাছে গাছে পাখির কলরব শোনার কথা,বাতাসের শো শো শব্দ শোনার কথা। কিন্তু কোন ধরনের শব্দই শুনতে পারছিলেন না বিজ্ঞান পরিষদের সভাপতি এ.জে.মাউন্ট। তিনি মনে মনে বললেন,“তবে কী আমি বধির হয়ে গেছি।” তিনি বেশ কয়েকবার ঢোক গিললেন এবং কান খাড়া করে খুব সর্তকতার সাথে চেষ্টা করতে লাগলেন কোন প্রকার শব্দ শুনতে পান কিনা। কিন্তু তিনি কোন প্রকার শব্দই শুনতে পারছিলেন না। তিনি ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। এমন সময় তার পকেটের যোগাযোগ মডিউলটি টি.টি শব্দ করতে লাগল। কিন্তু তিনি সে শব্দটি শুনতে পেলেন না। তবে তিনি বুঝতে পরছিলেন কেউ একজন তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। কারন যোগাযোগ মডিউলটি অথাৎ ইন্টারফেসটি টি.টি শব্দের পাশাপাশি মৃদু কাঁপছিল। তিনি তৎক্ষনাত ইন্টারফেসটি চালু করলেন। সেখানে ভেসে উঠল পরিবেশ বিজ্ঞানি ক্রু এর ছবি । ক্রু বলল “শুভ বিকেল মহামান্য মাউন্ট।” মাউন্ট কিছুই শুনতে পেলেন না। সে বলল “কি ব্যাপার ক্রু।” “ আমি আপনাকে এজন্যই ডাকলাম যে আমাদের আগামীকালের বিশ্ব উষ্ণায়নের ব্যাপারে যে মিটিং আছে সেখানে নাকি পদার্থ বিজ্ঞানী মুহিন আসবেন না……………।” মাউন্ট কিছুই শুনছিল না, সে বিরবির করে বলতে লাগল “আমি কিছুই শুনছি না……..।” এদিকে ক্রু ব্যাপারটি এতক্ষন লক্ষ্য করেন নি। তিনি যখন লক্ষ্য করলেন তথন দেখলেন মাউন্টের মুখে ভয়ের ছাপ ভেসে উঠেছে, চোখে শুধুই হতাশা। তিনি বললেন “কি হয়েছে মহামান্য মাউন্ট, আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?” কিন্তু মাউন্ট কিছুই না শুনে বিরবির করে বলতে থাকলেন “আমি কিছুই শুনছি না, আমি কিছুই শুনছি না………।”

কিছুদিন পর বিজ্ঞানী মাউন্টের হঠাৎ বধির হয়ে যাবার রহস্য উন্মোচন হল। তিনি তার নিরলস শ্রম দিয়ে তৈরি করেছিলেন ‘হেয়ারিং আর্কোস্টা’  তিনি ভেবেছিলেন মানুষের স্বাভাবিক শ্রবন শক্তি ২০ঐু-২০০০০ঐু এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। তিনি এই সীমাবদ্ধতাকে কাটিয়ে উঠার জন্য এ যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন যা দিয়ে মানুষেরা যে কোন প্রকার কীট-পতঙ্গ, গরু-ছাগল, প্রানীদের শব্দ শুনবে এবং নিজের ধারন ক্ষমতার বাইরের শব্দও শুনবে।

কিন্তু প্রকৃতি কাউকে তার নিজের নিয়মের বাইরে চলতে দেবে না, এটাই নিয়ম। এক্ষেএে ও তাই হয়েছে। মাউন্ট তার নিজের তৈরি যন্ত্র ব্যাবহারের কারনে তার শ্রবন ইন্দ্রিয়ের উপর অস্বাভাবিক চাপ পড়ায় তিনি বধির হয়ে গেছেন।

 

পরবর্তীতে বিজ্ঞান পরিষধের মহাপরিচালক এই যন্ত্রটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ফলে এক সময় পৃথিবী থেকে যন্ত্রটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

mahdi

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/science-fiction/mahdi/4523

5 comments

Skip to comment form

  1. মাহদি

    ভাই গল্প বাংলায় পোষ্ট করতে পারি না।কিভাভে করব?

    1. zahid hassan

      mahdi ভাই আপনি মনে হয় পোস্ট টি বিজয় কীবোর্ডের সাহায্যে লিখেসেন । আপনি অভ্র কীবোর্ড আর সাহায্য লেখেন, তাহলে এক নিমিষেই বাংলা ভালভাবে লিখতে পারবেন। আপনি
      http://omicronlab.com/download/setup_avrokeyboard_5.1.0.exe
      এখান থেকে সফটওয়ারটা ডাউনলোড করে নিন। তাহলেই ভালভাবে বাংলা লিখতে পারবেন।

    2. zahid hassan

      আর প্রফাইল ছবি যোগ করতে চাইলে http://techtweets.com.bd/prob-solution/dihan91/4369 এই টুইট টা পড়েন। পরলে বুজতে পারবেন।

  2. মাহদি

    আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ

  3. MSPOLASH

    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 🙂

মন্তব্য করুন