«

»

প্রডিজি – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

অমর একুশে বইমেলা 2011 তে প্রথমা প্রকাশন থেকে বের হয় জাফর ইকবালের সেরা আরেকটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি প্রডিজি। আমার কাছে অসাধারন লাগছে বইটি। কয়েক দিন আগে পড়লাম।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বইটি উৎসর্গ করেছেন সায়মা নামক এক মেয়েকে। নিচে উৎসর্গ অংশদেওয়া হল। আমার চোখে জল এসে গেছে এ অংশ পড়ে। দেখুন আপনার কি হয়।

উৎসর্গ

সায়মা ছবি আকে, কবিতা লেখে, গণিত অলিম্পিয়াডে পুরষ্কারও পায়। একদিন সে আমার সাথে ফোনে যোগাযোগ করেছে, আমি তখন হতবাক হয়ে জানলাম, তার জীবনটি তছনছ হয়ে গেছে। অ্যাকসিডেন্টে সে পুরোপুরি চলৎশক্তিহীন, নিঃশ্বাসটুকুও নিতে হয় যন্ত্র দিয়ে। সারা শরীরে সে শুধু একটি আঙ্গুল নাড়তে পারে। সেই আঙ্গুল দিয়েই সে ছবি আকে, কবিতা লেখে। মোবাইল টেলিফোনে এসএমএস করে, সে আমাকে তার ভারি সুন্দর কবিতাগুলো পাঠাতো। আমি তাকে বলেছিলাম, যখন বেশ কিছু কবিতা লেখা হবে, তখন একুশে বইমেলায় তা একটি বই বির করে দেব।

কিছুদিন আগে তার এক বান্ধবী আমাকে ফোন করে জানিয়েছে, সায়মা মারা গেছে; তার কবিতার বইটি আর বে করা হলোনা।

যারা সায়মার মতো কখনও জীবনযুদ্ধে পরাজিত হতে জানেনা, এই বইটি তাদের উদ্দেশ্যে।”

মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

 

আর বইটি থেকে একটি নির্বাচিত অংশ প্রথম আলোর গোল্লাছুটে দেওয়া হয়েছে সেই ৬ মে ২০১১ তে। তা হুবুহু তুলে দিলামঃ

শারমিনকে একটা চেয়ারে উঁচু করে বসানো আছে। তার হাত-পা-শরীর বেল্ট দিয়ে বাঁধা। মাথায় একটা হেলমেট পরানো আছে, সেখান থেকে অসংখ্য তার বের হয়ে এসেছে। ঘর বোঝাই যন্ত্রপাতি, সেখান থেকে একটা চাপা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। শারমিনের সামনে একটা বড় মনিটর, সেখানে অসংখ্য নকশা এবং সংখ্যা খেলা করছে।
শারমিনকে সকাল থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তার মস্তিষ্কের ত্রিমাত্রিক একটা ছবি নেওয়া হয়েছে—অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তার মস্তিষ্কের প্রায় প্রতিটি কোষ, প্রতিটি সিনাপ্সের তথ্য নেওয়া হয়েছে। সে যখন মস্তিষ্ক ব্যবহার করে, তখন সেখানে কী পরিমাণ অক্সিজেন যায়, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে কী পরিমাণ তাপমাত্রার জন্ম নেয়, এইমাত্র সেই পরীক্ষাটি শেষ করা হয়েছে। দাড়ি-গোঁফের জঙ্গল মানুষটি বলল, “আমি যে রকম আশা করেছিলাম, ঠিক তা-ই। মেয়েটার মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক অক্সিজেন খরচ হয়। সাধারণ মানুষের মস্তিষ্কে এ রকম অক্সিজেন খরচ হলে সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা।”
নীল চোখের মানুষটি বলল, “দেখতেই পাচ্ছ, এটা সাধারণ মস্তিষ্ক নয়। এটা যে হওয়া সম্ভব, আমি নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না।”
কম কথা বলে মানুষটি ভারী গলায় বলল, “আমাদের প্রতি নিশ্চয়ই ঈশ্বরের এক ধরনের করুণা আছে। তা না হলে আমরা কেমন করে এই মেয়েটিকে পেলাম। অন্য কেউও তো একে পেতে পারত!”
দাড়ি-গোঁফের জঙ্গল মানুষটি বলল, “এই মেয়েটির শরীরের প্রত্যেকটা কোষ আমরা ক্লোন করার জন্য মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করতে পারি।”
“হ্যাঁ। মেয়েটার মস্তিষ্কের টিস্যু বিক্রি করতে পারি প্রতিগ্রাম বিলিয়ন ডলারে!”
“আর আমরা স্ক্যান করে যেটা পেয়েছি, সেটা?”
“সেটা আমরা কাউকে দেব না।”
নীল চোখের মানুষটি বলল, “কাউকে না?”
“না।”
“এনডেভারকেও না?”
“এনডেভারকে দিতে হবে, আমরা কোথায় সেই চুক্তি করেছি? আমাদের চুক্তি সাধারণ মানুষের মস্তিষ্কে ইমপ্ল্যান্ট বসিয়ে ইন্টারফেস তৈরি করার—এ রকম একটি জিনিয়াসের মস্তিষ্কে এনালাইসিসের জন্য কোনো চুক্তি হয়নি। এনডেভার যদি চায়, তাহলে তাদের নতুন করে আমাদের সাথে চুক্তি করতে হবে।”
কম কথা বলে মানুষটি বলল, “তোমার কথা শুনলে বব লাস্কি খুব খুশি হবে মনে হয় না!”
দাড়ি-গোঁফের জঙ্গল বলল, “তোমার বব লাস্কি এখন আমাদের কাছে একটা জঞ্জাল ছাড়া আর কিছু নয়! তাকে খুশি রাখার দায়িত্ব আমার না।”
নীল চোখের মানুষটি বলল, “ঠিক আছে, তাহলে কাজ শুরু করে দেওয়া যাক।”
দাড়ি-গোঁফের জঙ্গল মাথা চুলকে বলল, “আমাদের সমস্যা হচ্ছে, এই মেয়ের সঙ্গে কথা বলা। আমাদের কথা বোঝে না। যখন ভয় পাওয়ার কথা নয়, তখন ভয় পেয়ে বসে থাকে!”
“হ্যাঁ, ইউনিভার্সিটির মাস্টার আর ওই সাংবাদিক মেয়েটাকে ধরে এনে এখানে বেঁধে রাখলে আমাদের কথাবার্তা অনুবাদ করতে পারত।”
মানুষগুলো তখনো জানে না, রাফি আর ঈশিতা ঠিক তখন চুপি চুপি তাদের কাছেই এসেছে।
পায়ের শব্দ শুনে রাফি আর ঈশিতা ঠিক তখন চুপি চুপি বাঁ দিকের একটা ছোট করিডরে ঢুকে গেল। করিডর ধরে একজন নার্স তার জুতার শব্দ তুলে হেঁটে চলে গেল। দুজন তখন আবার বের হয়ে সতর্কভাবে হাঁটে। ঠিক কোথায় শারমিন আছে, তারা জানে না। ঠিক কীভাবে তাকে খুঁজে বের করতে হবে, কিংবা খুঁজে বের করলেও ঠিক কীভাবে তাকে মুক্ত করবে, সেটাও তারা জানে না। তাদের হাতে এখন একটা সত্যিকারের অস্ত্র আছে, সেটা দিয়ে কাউকে জিম্মি করে কিছু একটা করা যায় কি না, সেটাই তাদের লক্ষ্য।
করিডর ধরে হেঁটে তারা কোনো কিছু খুঁজে পেল না এবং ঠিক তখন একজন বিদেশি মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। রাফির হাতে রিভলবার এবং দুজনের শরীরে রক্তের ছোপ, তাদের চেহারায় একটা বেপরোয়া ভাব, বিদেশি মেয়েটি হকচকিয়ে গেল। হয়তো আর্তচিৎকার করে উঠত, রাফি সেই সুযোগ দিল না, রিভলবারটা মাথায় ঠেকিয়ে বলল, “খবরদার, টুঁ শব্দ করবে না।”
মেয়েটি ভয়ে ভয়ে বলল, “আমি কিছু জানি না। আমি কিছু করিনি।”
“আমি জানি, তুমি কিছু করনি, কিন্তু তুমি কিছু জানো না, সে ব্যাপারে আমি এত নিশ্চিত নই। গণিতের সেই প্রডিজি মেয়েটা কোথায়?”
“গণিতের কোন মেয়েটা?”
“অসাধারণ প্রতিভাবান সেই মেয়েটা, যাকে তোমরা তুলে এনেছ। মস্তিষ্ক কেটেকুুটে নেওয়ার চেষ্টা করছ।”
বিদেশি মেয়েটি কাঁপা গলায় বলল, “বিশ্বাস করো, আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানি না।”
“তুমি কি বব লাস্কিকে চেনো?”
“চিনি।”
“ঠিক আছে, আমাদের তাহলে বব লাস্কির কাছে নিয়ে যাও। খবরদার, কোনো রকম হ্যাংকি-প্যাংকি করবে না।”
“করব না। কোনো রকম হ্যাংকি-প্যাংকি করব না। বিশ্বাস করো।”
বিদেশি মেয়েটি কয়েক মিনিটে তাদের বব লাস্কির অফিসে নিয়ে গেল। রাফি লাথি দিয়ে অফিসের দরজাটি খুলে রিভলবার তুলে চিৎকার করে বলল, “হাত ওপরে তোলো, বব লাস্কি।”
বিশাল একটা টেবিলের সামনে বসে থাকা বব লাস্কি হকচকিত হয়ে তাদের দিকে তাকাল। তার চোখে অবিশ্বাস। রাফি চিৎকার করে বলল, “হাত তোলো, আহম্মক! না হলে এই মুহূর্তে আমি গুলি করব।”
বব লাস্কি আহাম্মক নয়, তাই সে এবার হাত ওপরে তুলল। রাফির কণ্ঠস্বরের তীব্রতা সে টের পেয়েছে।
“দুই হাত ওপরে তুলে বের হয়ে এসো।”
বব লাস্কি দুই হাত ওপরে তুলে বের হয়ে এল। রাফির কাছাকাছি এসে বলল, “ইয়াং ম্যান, আমরা নিশ্চয়ই কোনো এক ধরনের সমঝোতায় আসতে পারি।”
কথার মাঝখানে প্রচণ্ড ধমক দিয়ে রাফি তাকে থামিয়ে দেয়, “খবরদার, কথা বলবে না। খুন করে ফেলব আমি। শারমিনের কাছে নিয়ে যাও আমাদের। দশ সেকেন্ড সময় দিলাম আমি।”
বব লাস্কি বলল, “ঠিক আছে, নিয়ে যাচ্ছি আমি। কিন্তু দশ সেকেন্ডে তো সম্ভব নয়—”
রাফি হুঙ্কার দিয়ে বলল, “আমি কোনো কিছু পরোয়া করি না। দরকার হলে তুমি দৌড়াও। দৌড়াও! ডবল মার্চ!”
বব লাস্কি আর কথা বলার সাহস করল না। লম্বা লম্বা পা ফেলে হাঁটতে শুরু করে। সে এখনো বুঝতে পারছে না, দাবার চালটি কেমন করে উল্টে গেল।
করিডর ধরে সোজা হেঁটে গিয়ে বব লাস্কি ডান দিকে ঢুকে গেল, সেখান দিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে বাঁ দিকে একটা আলোকোজ্জ্বল ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে বলল, “এইটা সেই ঘর।”
“শারমিন এখানে?”
“হ্যাঁ।”
“দরজা খোলো।”
বব লাস্কি ইতস্তত করতে থাকে। রাফি হুংকার দিয়ে বলল, “আমি বলছি, দরজা খোলো।”
বব লাস্কি দরজায় গোপন সংখ্যা প্রবেশ করানোর সঙ্গে সঙ্গে খুট করে দরজা খুলে যায়। রাফি লাথি দিয়ে দরজা খুলে বব লাস্কিকে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়।
ঘরের ভেতর চারজন মানুষ মাথা ঘুরিয়ে তাকিয়ে হতবাক হয়ে গেল। ঘরের এক কোনায় একটা চেয়ার, সেখানে নানা রকম স্ট্র্যাপ দিয়ে শারমিনকে বেঁধে রাখা হয়েছে। তার মাথায় একটা হেলমেট, সেখান থেকে অসংখ্য তার বের হয়ে আসছে। ঈশিতা ও রাফিকে দেখে শারমিন ডুকরে কেঁদে উঠে বলল, “ঈশিতা আপু! আমাকে এরা মেরে ফেলবে!”
ঈশিতা বলল, “না শারমিন, তোমাকে কেউ মারতে পারবে না। আমরা তোমাকে ছুটিয়ে নিতে এসেছি।” ঈশিতা শারমিনের কাছে গিয়ে তার বাঁধনগুলো খুলতে থাকে।
রাফি বব লাস্কিকে ধাক্কা দিয়ে অন্য মানুষগুলোর দিকে ঠেলে দিয়ে বলল, “খবরদার, কেউ নড়বে না!”
নীল চোখের মানুষটি বলল, “যদি নড়ি, তাহলে কী করবে?”
“গুলি করে দেব।”
নীল মানুষটি শব্দ করে হেসে বলল, “তুমি আগে কখনো কাউকে গুলি করেছ?”
রাফি হিংস্র গলায় বলল, “আমি এখন তোমার সঙ্গে সেটা নিয়ে কথা বলতে চাই না।”
নীল চোখের মানুষটি হেসে বলল, “অবশ্যই তুমি সেটা নিয়ে কথা বলতে চাইবে না। কারণ, সেটা নিয়ে কথা বললে দেখা যাবে, তুমি মানুষ তো দূরে থাকুক, তুমি হয়তো কখনো একটা মশাও মারনি! রক্ত দেখলেই হয়তো তোমার নার্ভাস ব্রেক ডাউন হয়ে যায়! কাজেই তুমি হয়তো কোনো না কোনোভাবে একটা রিভলবার জোগাড় করে ফেলেছ, কিন্তু সেখানে ট্রিগার টানাটা তোমার জন্য এত সোজা নয়।”
রাফি বুঝতে পারে, এ মানুষটি যা বলছে, তার প্রতিটি কথা সত্যি। সে রিভলবার দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে সত্যি, কিন্তু যখন প্রয়োজন হবে, তখন সে গুলি করতে পারবে না। কিন্তু এটি তো কখনোই তাদের বুঝতে দেওয়া যাবে না। বব লাস্কিকে যে রকম ভয় দেখিয়ে এখানে নিয়ে এসেছে, এদেরও ঠিক সেভাবে ভয় দেখাতে হবে। রাফি তাই চিৎকার করে হিংস্র মুখে বলল, “খবরদার! একটা বাজে কথা বলবে না! যে যেখানে আছো, সে সেখানেই হাত তুলে দাঁড়াও।”

এবার যদি বইটি পড়তে ইচ্ছে হয় তাহলে (49.17 MB) এর বইটি ডাউনলোড করে নিন।

ডাউনলোড লিঙ্ক।

বইটি নেওয়া হয়েয়ে আমারবই থেকে


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

জাকির হোসাইন

প্রোগ্রামিং বা ফ্রীল্যান্সিং নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে টেকটুইটস সাহায্য বিভাগে পোস্ট দিতে পারেন অথবা আমাকে ফেসবুকে মেসেজ দিতে পারেন।

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/science-fiction/jakirbdl/5378

8 comments

Skip to comment form

  1. সায়েম

    জাফর ইকবাল স্যার বরাবরের মতোই আমার পছন্দের একজন লেখক। ডাউনলোড দিলাম… কিন্তু উৎসর্গ অংশটুকু পড়ার পর বইটি কেনার ইচ্ছা জাগছে…। মৃত্যুটাই স্বাভাবিক…। ধন্যবাদ এই চমৎকার বইটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

    1. ঐ ছেলেটি
      jakir

      জ্বি, আপনাকে ও ধন্যবাদ।

  2. MNUWORLD

    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ জাকির ভাই। সাইন্স ফিকশন বরাবর ভাল লাগে। আর জাফর ইকবাল তো কথাই নেই। বইটি অবশ্যই পড়ব।

    1. ঐ ছেলেটি
      jakir

      আপনাকে ও ধন্যবাদ। বাংলাদেশের মধ্য এখন পর্যন্ত সেরা সাইন্সফিকশন লেখক তো উনিই। ভালো না লেগে উপায় আছে?

  3. শিবলী

    সত্যি কথা বলতে কি সাইন্স ফিকশন আমার ভালো লাগে না। কেমন যেন মেলে না। তবুও বইটা ডাইনলোড করবো “জাফর ইকবাল স্যার আসলে মানুষ হিসাবে অসাধারণ”।
    আপনাকে একটা ধন্যবাদ না দিলে খারাপ দেখায়।

    1. ঐ ছেলেটি
      jakir

      কয়েকটা পড়লে ভালো লাগা শুরু হবে। আর আপনাকে ও ধন্যবাদ।

    2. শিবলী

      আরে জাকির ভাই এইটা অন্য গুলোর মত নয়। এই ধারণের গুলো ভালো লাগে। আমি সাইন্স ফিকশন সমগ্র ১ পড়েছিলাম। খুব একটা ভালো লাগে নাই। তাই এইটাও কিনি নাই। কিন্তু এইটা আসলে জটিল একটা ইয়ে।

    3. ঐ ছেলেটি
      jakir

      এটা পড়ছেন নাকি? তাহলে তো ভালোই। আপনি সামুথেকে কিছু সাইন্স ফিকশন পড়ে দেখতে পারেন। জটিল লেখে অনেকেই। আমি খুজে খুজে পড়ি। আপনার ও ভালো লাগবে।

মন্তব্য করুন