«

»

Nazrul

“গ্রহান্তরের ত্রাস”

জলোচ্ছ্বাস, বন্যা অথবা ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে পালিয়ে বাঁচার পথ খোঁজে মানুষ। অথচ সৌরজগতের একমাত্র বাসযোগ্য পৃথিবীর বাইরে অন্যান্য গ্রহ-উপগ্রহে দুর্যোগের চেহারা আরো ভয়ংকর। যা শুনলে নিজেদের বরং ভাগ্যবানই মনে হবে ।

লোর_আগ্নেয়গিরি
ইতালির পম্পেই নগরীর কাহিনী সবার জানা। আবার কখনো প্রাণ বাঁচাতে শহরবাসী পাড়ি জমায় অজানায়। যেমন পিনাটুবো আর মন্টসেরাটের চোখরাঙানির সামনে দ্বীপের সবাই পালিয়েছিল জাহাজে করে। তাই আগ্নেয়গিরি অনেকের সামনে ভয়াল মূর্তি, আদিবাসীরা পূজা করে দেবতাজ্ঞানে। এবার তবে শুনুন বৃহস্পতির চাঁদ লোর গল্প। অগ্নেয়গিরির রুদ্রমূর্তি সেখানকার প্রাত্যহিক ঘটনা। অতিকায় বৃহস্পতির শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও তেজস্ক্রিয়ার প্রভাবে লোর আগ্নেয়গিরি টগবগ করে ফুটতে থাকে অবিরাম। কামান থেকে ছোড়া গোলার মতো আগ্নেয়গিরির লাভা সোজা ১২০ মাইল পর্যন্ত উঠে যায় আকাশপানে। নেমে এসে উপগ্রহের শত মাইলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এই গনগনে লাভা।

মঙ্গলের_ধূলিঝড়
মঙ্গলগ্রহ আয়তনে পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক। তাই বলে এখানকার কোনো কিছু কিন্তু পৃথিবীর খুদে সংস্করণ নয়। বরং আগ্নেয়গিরি, গিরিখাত কিংবা হিমবাহ_সব কিছু হয় বৃহৎ স্কেলে। মঙ্গলের ধূলিঝড় সৌরজগতের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং অতি সাধারণ ঘটনা। কখনো অল্প এলাকায়, আবার কখনো মিলিয়ন মাইল টালমাটাল হয় ধূলিঝড়ে। আবহাওয়া খুব মেজাজি হলে পুরো গ্রহেই আলোড়ন তোলে কোনো কোনো দিন। মঙ্গলে আবাস গড়ার চিন্তা আছে মানুষের। তবে গ্রহটি অপরাধী নির্বাসনের স্থান হিসেবে বরং বেশি শ্রেয়!

বৃহস্পতিতে_উল্কাপাত
১৯০৮ সালে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে কেঁপে উঠেছিল সাইবেরিয়ার তুঙ্গসকা। ১০০০ বর্গমাইল এলাকার গাছ মিশে গিয়েছিল মাটির সঙ্গে। ১৯৯৪ সালে বৃহস্পতির বুকে আছড়ে পড়েছিল কমেট শুমেকার লেভি-৯। পৃথিবীতে বসে সেটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে শিউরে উঠেছিলেন বিজ্ঞানীরা। ছয় দিন ধরে থেকে থেকে চলেছিল তাণ্ডবলীলা। বৃহস্পতিতে সৃষ্টি হয়েছিল বড় ক্ষতের দাগ। সবচেয়ে বড়টি ছিল ১২ হাজার কিমি। অগি্নগোলকের তাপমাত্রা ছিল ২৪ হাজার কেলভিন। সবচেয়ে বড় আঘাতটি সমগ্র বিশ্বের পারমাণবিক শক্তির ৬০০ গুণ বেশি শক্তি ছড়িয়েছিল বৃহস্পতিজুড়ে।

ভেনাসের-উষ্ণায়ন                                                                                                                                                                                                               ভেনাসের আবহাওয়ামণ্ডল অস্বাভাবিক ঘনত্বের। এর ভর পৃথিবীর আবহাওয়ামণ্ডলের ৯৩ গুণ, যার সিংহভাগই কার্বনডাই-অঙ্াইড। মেঘগুলো ১০০ ভাগ এসিড বৃষ্টির সূতিকাগার। তাপমাত্রা চড়ে থাকে ৪৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই অকল্পনীয় তাপ, সর্বনাশা বৃষ্টিপাত সব মিলিয়ে ভেনাসের আবহাওয়া দুঃস্বপ্নের অতীত। ভেনাসের মাটিতে দাঁড়ালে মনে হবে এক কিলোমিটার সমুদ্রের পানির চাপ দিচ্ছে ওপর থেকে, যে পানি আবার ধাতুও গলিয়ে ফেলে নিমেষে। বিজ্ঞানীরা বলেন, বিলিয়ন বছর আগে ভেনাসের জলবায়ু পৃথিবীর অনুরূপ ছিল। গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে আজ এর বেহাল দশা। বিশ্বে উষ্ণায়নের চূড়ান্ত রূপটি কি তবে এ রকমই ?

নেপচুনের-বায়ূ                                                                                                                                                                                                                     পৃথিবীতে এ পর্যন্ত রেকর্ড করা বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৩১ মাইল। ১৯৩৪ সালে যেটা মাপা হয়েছিল নিউ হ্যাম্পশায়ারে। বিপরীতে নেপচুন গ্রহে বাতাস সচরাচর ঘণ্টায় ১৩২৪ মাইল বেগে বয় (শব্দের গতিবেগই যেখানে ঘণ্টায় ৭৬৮ মাইল!)। সৌর পরিবারে নেপচুনের আবহাওয়া সবচেয়ে বিক্ষিপ্ত। এই গ্যাসের গ্রহে কোনো কঠিন মাটি নেই। ফলে বসতি গাড়ার উপায় নেই বলে রক্ষে! সূর্য থেকে অনেক দূরে হওয়া সত্ত্বেও গ্রহের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে সাড়ে ৭০০ কেলভিন। এত বেশি তাপমাত্রার কারণ চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে আয়নের নিয়মিত মিথস্ক্রিয়া।

সূত্র ইন্টার নেট


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

উইন্ডোজ-৮ নিয়ে কিছু কথা ও আমার তৈরী একটি প্রেজেন্টেশন।
অসাধারণ সব সুবিধা সহ একটি বাংলাদেশী মোবাইল কমিউনিটি।
মানিবুকার্স বা লিবার্টি রিজার্ভ দিয়ে করে নিন আপনার মোবাইল রিচার্জ
২০১৩ সালের গুগুলের সেরা সার্চ ট্রেন্ড (বাংলাদেশ সহ)
JSC এবং JDC পরীক্ষার ফল আগামীকাল রোববার প্রকাশ করা হবে। পাবেন কিভাবে?
বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা গাড়ি!
২০% ছাড়সহ হোস্টিং কিনলে ডোমেইন ফ্রী

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

Nazrul

Nazrul

Md. Nazrul Islam Bsc. DUET (Electrical) (Diploma Gutter BAFA) (Mashinist German TTC) Businessman

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/news/nazrul/17025

মন্তব্য করুন