«

»

Nazrul

দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্যবসা

বিভিন্ন দেশে যা ঘটছে

দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচা দেশে দেশে নিষিদ্ধ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবৈধভাবে বিক্রি নিষিদ্ধ করে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না। বরং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচার ও বিক্রি চলছে। বিভিন্ন দেশের সরকার এ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে।
কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় অবৈধ ও প্রতারণামূলকভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ করে অধিক মুনাফা অর্জনে চিকিৎসকরা ব্যস্ত। ওই সব চিকিৎসককে ঘিরে এক শ্রেণীর দালালচক্রও বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে।
দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। অনেক দেশে এ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু একজনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অপর একজন মানুষকে দিতে পারে নতুন জীবন। এ জন্য সরকারিভাবেও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের কৌশল আইন দ্বারা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কয়েকটি দেশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের আইন ও নতুন কৌশল পাঠকদের জানার জন্য তুলে ধরা হলো। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ সম্পর্কে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে তা বর্ণনা করা হলো।
চীন : চীনে দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্যবসা আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ কারণে সরকার রোগীর শরীরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে অপর মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করতে ফাঁসি কার্যকর করা আসামির মৃতদেহ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে তা রোগীর দেহে সংযোজন করা হচ্ছে।
চীনের চায়না ডেইলির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সে দেশের স্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রী হুয়াং জিউফু স্বীকার করেছেন, চীনে যেসব রোগীর দেহে অপরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করা হচ্ছে তার দুই-তৃতীয়াংশই ফাঁসি কার্যকর হওয়া আসামির মৃতদেহ থেকে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, চীনে বছরে প্রায় আট হাজার অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হয়। সরকার এ ব্যবস্থা থেকে পর্যায়ক্রমে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। কারণ এটি অনেক সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে। এ কারণেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের জন্য মানুষকে উৎসাহী করছে সরকার। সরকার শিগগিরই এ বিষয়ে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চীনা রেডক্রসের মাধ্যমে দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের একটি জাতীয় স্কিম চালু করেছে ইতিমধ্যে। একই সঙ্গে এ স্কিমের অন্য লক্ষ্য হচ্ছে দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচার বন্ধ করা। এ বিষয়ে সহকারী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য হলো, জনস্বার্থে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেসব মানুষ সামাজিক প্রতিপত্তি বা সম্পদশালী নয়, সবাই তাদের প্রয়োজনীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ন্যায্যভাবে বরাদ্দ পেতে রেডক্রস সহযোগিতা করবে।
ফাঁসির আসামিদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে সমালোচনা থাকলেও চীন সরকার মনে করছে, প্রতিস্থাপনের সুবিধা কেবল ধনীদের জন্য হতে পারে না। হাসপাতালগুলো মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করে। এ কারণে ফাঁসির আসামিদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে অপেক্ষাকৃত অসহায় ও গরিব রোগীর দেহে সংযোজন করা হয়।
ইন্দোনেশিয়া : ইন্দোনেশিয়ায় দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি বেআইনি। সে দেশের ফৌজদারি আইনে দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির দায়ে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হলে ও তা প্রমাণ হলে ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে ৩০ কোটি রুপি জরিমানার বিধানও রয়েছে।
এমন কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েও মানুষ তাদের কিডনিসহ দেহের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করছে। অর্থসংকটে ভোগা ইন্দোনেশিয়ানরা স্থানীয় আইনের ফাঁকফোকর গলে এবং দালালের চোখ এড়িয়ে অনলাইনে ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করছে। এ কারণে দেশটিতে দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির অবৈধ বাণিজ্য বেশ ফুলেফেঁপে উঠছে।
সম্প্রতি কয়েক শ ইন্দোনেশিয়ান নিজেদের প্রতিটি কিডনি মাত্র পাঁচ কোটি রুপিয়ায় (পাঁচ হাজার ৩০০ ডলারে) বিক্রির জন্য ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিয়েছে।
ডাবি্লউডাবি্লউডাবি্লউ ডট ইকলানোকি ডট কম ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপনের একটিতে ১৬ বছরের এক তরুণ তার একটি কিডনি ৩৫ কোটি রুপিয়া অথবা একটি কিডনির বিনিময়ে একটি টয়েটো ক্যামরি চেয়েছে।
বিজ্ঞাপনদাতাদের মধ্যে ছাত্র, পেশাজীবী এমনকি গৃহবধূও রয়েছে। তারা তাদের নিজেদের প্রকৃত নাম এবং যোগাযোগের নিজস্ব ফোন নম্বর দিতেও দ্বিধা করছে না।
তাদের বেশির ভাগই নিজেদের রোগমুক্ত বলে জোর দাবি করেছে এবং বলেছে, তারা ধূমপান ও মদপান করে না এবং মাদকাসক্ত নয়। তারা বলেছে, পারিবারিক ও ব্যাংক ঋণের কারণেই তারা এ বেপরোয়া কার্যক্রমে বাধ্য হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার সরকার এখন আইনটি যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে।
পাকিস্তান : দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অবৈধ ব্যবসার জন্য বিশ্বে পাকিস্তানের বদনাম রয়েছে। এ ব্যবসা বন্ধ করতে ও বেআইনিভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পুনঃ স্থাপন ঠেকাতেই নতুন আইন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কেউ অবৈধভাবে দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি ও পুনঃ স্থাপন করলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হবে। এ ছাড়া চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা, মজুদ ও সংযোজনের বিষয়টি তদারকি এবং মূল্যায়নের জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিও গঠন করা হবে।
তবে সরকার দেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে। পাকিস্তারের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি অবৈধভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির ও কেনার জন্য প্রণীত নতুন আইন কার্যকর করতে চিকিৎসক ও সংসদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
অসুস্থদের দেহে প্রতিস্থাপনের জন্য মরণোত্তর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানকে উৎসাহী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ওই দেশে। জারদারি ইতিমধ্যে তাঁর দেহের বিশেষ অঙ্গ মরণোত্তর দান করতে চুক্তি করেছেন।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র : কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন, কেনাবেচার কোনো আইন নেই। তবে সে দেশে সুস্থ ব্যক্তিরা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করে। এমনকি বিক্রিও করে। সম্প্রতি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির হার বেড়েছে। বিশেষ করে সেখানকার নারী ও পুরুষরা তাঁদের শুক্রাণু ও ডিম্বাণু দেদার বিক্রি করছে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে এসব বিক্রি করছে। আবার শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ক্রয়েরও বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য এখন ডিম্বাণু বিক্রি করতে আগ্রহী। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী ৯ হাজার ডলার টিউশন ফি দেওয়ার জন্য তার ডিম্বাণু বিক্রি করেছে বলে খবরে প্রকাশ।
কানাডার নেশভিল শহরের এক লোকগীতি শিল্পীর নাম গ্রেস। বয়স ৩০ বছর। ১০ বছর ধরে তাঁর কোনো রেকর্ডিং অর্থাৎ তেমন কোনো আয় না থাকায় তিনি ১০ হাজার ডলার ঋণী হয়ে পড়েন। তিনি সব সম্পদ বিক্রি করেছেন। তিনি তাঁর ডিম্বাণু বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে সম্প্রতি সাড়া জাগিয়েছেন। মাত্র আড়াই হাজার ডলার পেলেই তিনি ডিম্বাণু অন্যকে দিয়ে দেবেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিশিষ্টজনরা এখন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির নৈতিকতা নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করেছেন। অদূর ভবিষ্যতে এ নিয়ে আইন প্রণীত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
আন্তর্জাতিক আইনে ইসরায়েলিদের বিচার দাবি : অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ ও বিক্রির ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে ইসরায়েলে। অভিযোগ উঠেছে, ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হত্যা করে তাঁদের মৃতদেহ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খুলে নিয়ে ইসরায়েলিরা তা বিক্রি করছে। সম্প্রতি ইউরোপের একটি দৈনিক সুইডেনের আফতোনব্লাডেট এ খবর প্রকাশ করেছে। আমেরিকান ফ্রি প্রেসও এ সম্পর্কে খবর প্রকাশ করেছে। এসব খবরে জানা গেছে, ইসরায়েল যাদের আটক করছে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে নিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। আবার এতিম শিশুদের অপহরণ করে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে নেওয়ার পর পুড়িয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। পরে সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছে।
এসব লোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর দখলদার ইসরায়েলের একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাও ব্রাজিলের একটি আদালতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচারের সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ওই ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা তাঁর স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, দেশের ভেতরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চোরাচালানের ব্যাপারে ইসরায়েল সরকার সম্পূর্ণ অবহিত এবং জাতীয় চিকিৎসা প্রকল্পের আওতায় এসব চোরাচালান সংঘটিত হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের কিডনি পাচারের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে আটককৃত ইহুদি ধর্মযাজক রোজেনবাউম স্বীকার করেছেন, তিনি ইসরায়েল থেকে ১০ হাজার ডলার দিয়ে কিডনি কিনে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তা এক লাখ ৬০ হাজার ডলারে বিক্রি করতেন।
সুইডিশ সাংবাদিক যিনি ইসরায়েলের এ জঘন্য কাজের সংবাদ প্রকাশ করেছেন, সেই ডোনাল্ড বাসট্রোম আশা করছেন, হেগের আন্তর্জাতিক আদালত দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচারের অভিযোগ এনে ইসরায়েল সরকারের বিচার করবে। তিনি আরো আশা করেন, মুসলমানরা বা মুসলিম দেশগুলো সোচ্চার হলেই আন্তর্জাতিক আইনে ইসরায়েলিদের বিচার করা ও ঘটনার তদন্ত করা সম্ভব হবে।


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

দূর্ঘটনা কবলিত জাপান, জাপানে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ ও বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশে চালু হলো অনলাইনে সাধারন ডায়রী
“ব্লগার ভাইদের জন্য একটি সুখবর”
বাংলাদেশে চালু হলো অ্যালার্টপে
এখনই জেনে নিন বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের সংবাদ পত্র সহ ম্যগাজিন। আশা করি সকলের কাজে লাগবে।
‘বিপদ বার্তা’ নিয়ে ১৩টি দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে বাংলাদেশ।
HD মুভি ডাউনলোড করার জন্য একটি প্রয়োজনীয় সফটওয়ার

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

Nazrul

Nazrul

Md. Nazrul Islam Bsc. DUET (Electrical) (Diploma Gutter BAFA) (Mashinist German TTC) Businessman

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/news/nazrul/12884

1 comment

  1. জি এম পারভেজ@liTu

    ব্যবসা ব্যবসা

মন্তব্য করুন