«

»

দূর্ঘটনা কবলিত জাপান, জাপানে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ ও বর্তমান অবস্থা

জাপানে গত ১১ই মার্চ ২০১১’তে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূকম্পন ও সুনামির আগাত সম্পর্কে মোটা মুটি সবাই কম বেশি এখন জানেন। সুনামির আগের স্যাটেলাইট ছবিটি দেখুনঃ

Before

এবার দেখুন ভয়াবহ ভূকম্পন ও সুনামির তান্ডবলিলা চালানোর পরবর্তী চিত্রঃ

Before

উপরের ছবির সাথে নিচের টা মিলিয়ে দেখলেই বুঝতে পারবেন কি হয়েছে জাপানের টোকিও শহর থেকে ৪০০ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে মিয়াগি, ফুকুসিমা, নারিতা উপকুলে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী  বলেছেন

“দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এতবড় বিপর্যয়ের সম্মুখীন আর কখনো হয়নি”

এ পর্যন্ত ২৩০০০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তথ্য সুত্রঃ BBC

‘হিরোশিমা নাগাসাকির পর এতবড় বিপর্যয় আসে নি জাপানে’

বাড়ির মাথায় নৌকা! উত্তর জাপানের ওস্তুচিতে তোলা রবিবারের ছবি

বাড়ির মাথায় নৌকা! উত্তর জাপানের ওস্তুচিতে তোলা রবিবারের ছবি।

সর্বশেষ পরিস্থিতি

মঙ্গলবার সকালে জাপানের দাইচি পরমাণু কেন্দ্রের দুই নম্বর চুল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে৷ যে কারণে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে৷ এবং বাতাসের মাধ্যমে তা টোকিও’র দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে৷ সরকার বলছে, এই তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ৷ তাই ঐ পরমাণু কেন্দ্রের ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সব মানুষকে হয় সরে যেতে, না হয় ঘরে থাকতে বলা হয়েছে৷ তবে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ বলছে, তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা ধীরে ধীরে অনেক কমে এসেছে৷ এদিকে পরমাণু কেন্দ্রের চার নম্বর চুল্লিতেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে আজ৷ আর ৫ ও ৬ নম্বর চুল্লিগুলো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন সরকারের এক মুখপাত্র৷ ফলে দেখা যাচ্ছে, পরমাণু কেন্দ্রের ছয়টি চুল্লিতেই কোনো না কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে৷ কেননা এর আগে ১ ও ৩ নম্বর চুল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল৷বিধ্বস্ত জাপানবিধ্বস্ত জাপান

মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া

ভয়ে মানুষ টোকিও ছেড়ে যাচ্ছে৷ কেউ বা বেশি করে খাবার কিনে ঘরেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ কয়েকটি দেশ তাদের দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে৷ যেমনটা করেছে বাংলাদেশও৷ পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি আজ সাংবাদিকদের বলেছেন যে, তারা খবর পেয়েছেন যেখানে বাংলাদেশ দূতাবাস অবস্থিত সেটা বিপদমুক্ত নয়৷ তাই দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বলা হয়েছে৷ এছাড়া জাপানে থাকা ১২ হাজার বাংলাদেশিকেও সরে যেতে বলা হয়েছে৷ টোকিওতে থাকা বিভিন্ন কোম্পানিও তাদের কর্মীদেরও নিরাপদে সরে যেতে বলেছে৷ এদিকে জার্মানির বিমান সংস্থা লুফটহানসা টোকিওতে বিমান না নামিয়ে পাশের কোনো শহরে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷


জাপানের বাতাসে পরমাণু তেজস্ক্রিয়তার পরিমাণ বাড়ছে

জাপানের ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্রের বিস্ফোরিত চুল্লি থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ঘটছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা৷ গত কয়েকদিনে দুটি চুল্লিতে বিস্ফোরণের পর জাপানের বাতাসে তেজস্ক্রিয়তার পরিমাণ বাড়ছে বলে স্বীকার করছে জাপানি সরকার৷ জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান ফুকুশিমার দাই ইচি কেন্দ্রের আশেপাশের ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে যারা অবস্থান করছেন তাদেরকে ঘরের বাইরে বের না হতে আহ্বান জানিয়েছেন৷ এদিকে টোকিওতে অবস্থিত ফরাসি দূতাবাস সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, যে আগামী ১০ ঘন্টার মধ্যে তেজস্ক্রিয়তা দূষিত বাতাস রাজধানীতে পৌঁছে যেতে পারে৷ এদিকে তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকির জন্য টোকিও থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর৷

জার্মানির সাতটি পরমাণু কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে

জাপানে সুনামি পরবর্তী সম্ভাব্য পরমাণু বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে জার্মানিতে৷ জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল সাতটি পরমাণু কেন্দ্র আগামী তিন মাসের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন৷ এইসব পরমাণু কেন্দ্রগুলো ১৯৮০ সালের আগে থেকে চালু ছিল৷ মঙ্গলবার রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেন জার্মান চ্যান্সেলর ম্যার্কেল৷ এর আগে সোমবার তিনি জানিয়েছিলেন, যে পরমাণু কেন্দ্রগুলোর মেয়াদ বাড়ানোর যে চুক্তি রয়েছে তা আপাতত স্থগিত থাকবে এবং আগামী তিন মাসে পরমাণু কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তার সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে৷ উল্লেখ্য, জার্মানির প্রায় এক চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ আসে পরমাণু কেন্দ্রগুলো থেকে৷ এর আগে সোমবার জার্মানির বিভিন্ন শহরে পরমাণু কেন্দ্রগুলো বন্ধ করার দাবিতে সমাবেশ করে পরিবেশবাদীরা৷ এদিকে কেবল জার্মানিই নয়, ইউরোপীয় কমিশনও জানিয়েছে তারা সদস্য দেশগুলোর পরমাণু উৎপাদন প্রক্রিয়া পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখার পরিকল্পনা করছে৷

তথ্য সুত্রঃ DW-World.de: Deutsche Welle

দূর্ঘটনার কিছু ছবিঃ

রিকটার স্লেলে ভুমিকম্পের তীব্রতা

 

 

উৎপত্তি স্থান

 

সৃষ্ট সুনামী

 

ঝড়

 

সুনামীর তান্ডব

 

 

 

সবকিছু ভেসে যাচ্ছে

 

পারমাববিক চুল্লি বিস্ফরন

 

 

সুনামির ফলে সৃষ্ট সাগরের ঢেউ

 

 

 

 

ঘুর্ণি ঝড়

 

সব কিছু ভেঙ্গেচুরে চুরমার হয়ে আছে।

 

 

পারমানবিক বিস্ফরনে সৃষ্ট আগুন

 

নেটে সার্চ করলে এরকম হাজার হাজার ছবি পাবেন।

এখন দূর্ঘটনা কবলিত এলাকায় এখন চলছে ব্যাপক খাদ্য সঙ্ককট। এমন কি খাবার পানি ও পাওয়া যায় না। আগে সবাই বোতলের পানি কিনে খাচ্ছিল, কিন্তু এখন তা ও শেষ। নেই পানি নেই বিদ্যুৎ নেই গ্যাস। কিছুই নেই। এক বাংলাদেশী বিবিসিকে বলছে তার ২২ বছরের জাপানের জীবনে এ রকম সঙ্কটে পড়ে নি। এক মিনিটের জন্য ও যেখানে কারেন্ট যায় না শেখানে আজ থাকাই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

 

এ সব কষ্টই শেষ নয়। তার উপর রয়েছে পারমানবিক দূর্ঘটনায় সৃষ্ট তেজষ্ক্রিয়তা। না খেয়ে কোন রকম বাচাঁ যাবে কিন্তু তেজষ্ক্রিয়তার হাত থেকে তারা কিভাবে বাচঁবে?? তাই চলুন আমরা সবাই তাদের জন্য দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাদের কষ্ট লাঘব করে দেয়। আমীন।

 

 

 


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

জাকির হোসাইন

প্রোগ্রামিং বা ফ্রীল্যান্সিং নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে টেকটুইটস সাহায্য বিভাগে পোস্ট দিতে পারেন অথবা আমাকে ফেসবুকে মেসেজ দিতে পারেন।

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/news/jakirbdl/1529

6 comments

Skip to comment form

  1. rupam

    হাম কিছুই করার নাই দোয়া ছারা ।

    1. ঐ ছেলেটি
      jakir

      এখানে বসে আমরা তাই করি।

  2. M H BULBUL

    প্রকৃতির কাছে মানুষ কতাটা অসহায়!!!! জাপানের মত উন্নত প্রযুক্তির দেশে যদি এই অবস্থা হয়। আমাদের দেশের কথা চিন্তা করলে তো চোখে শুধু সরষে ফুল দেখি। হায় প্রকৃতি ক্ষমা কর।

    1. ঐ ছেলেটি
      jakir

      ঐ এলাকায় আরো কয়েক বার এ রকম ভুমিকম্প হয়েছিল।

    1. ঐ ছেলেটি
      jakir

      :(

মন্তব্য করুন