«

»

প্রযুক্তির ভাবনা থেকেই শীর্ষ ধনী

নিক উডম্যান। বয়স সবে ৩৬। এ বয়সেই নিক বনে গেলেন ২০ কোটি ডলারের মালিক। সপ্তাহ খানেক আগেও তিনি সাধারণ প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন। সাধারণ হলেও উদ্ভাবনা শক্তি ছিল অসাধারণ।

নিক উডম্যান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। পড়াশোনা শেষ করেই ২০০০ সালে সান ডিয়াগোতে একটি মার্কেটিং কোম্পানি দেন। উডম্যান ছোটবেলা থেকেই ছিলেন ভ্রমণপিয়াসু। সময় পেলেই বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে চলে যেতেন। সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন সমুদ্রভ্রমণ।

ওই সময়েই তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব শুরু। একদিন সমুদ্রের পাড়ে বসে ভাবছিলেন। মার্কেটিং করে কতদূর যাওয়া সম্ভব। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লবের সময় কতটা সফল হওয়া সম্ভব। তখন সিদ্ধান্ত নিলেন তথ্যপ্রযুক্তির বাজার ধরার ব্যবসই তিনি বেছে নেবেন।

২০০২ সালে নিক আবার নতুন করে শুরু করলেন। ২০০০ সালে তিনি আবিষ্কারে মনযোগী হলেন। উডম্যান এমন কিছু আবষ্কারের কথা ভাবছিলেন যা নিয়ে এখনও কেউ ভেবেও দেখেনি।

স্বভাবে উডম্যান ভাবুক মানুষ। কিছু হলেই চলে যান সমুদ্রপাড়ে। সেখানে সার্ফিং করেন। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে সার্ফিং খেলার মতো রোমাঞ্চকর মুহূর্ত নিক খুব পছন্দ করতেন। নিকের বন্ধুরা ছবি তুলতো। তারপর রাতে খাবারের পর সবাই মিলে সে ছবি দেখতেন। আর হাসাঠাট্টা করতেন।

ঠিক তখনই নিকের মাথায় এক অদ্ভুত বুদ্ধি এসে ধরা দেয়। নিক সবাইকে বললেন ছবি ঠিকই সময়কে ধরে রাখছে। কিন্তু দূর থেকে। যদি ক্যামেরা আমার সঙ্গে থাকে, তাহলে তো ছবির ধারণাই পাল্টে যাবে।

তার কথা শুনে বন্ধুরাও চুপ হয়ে গেল। কথা তো ঠিক। প্রায় পাঁচ মাস নিক এ আইডিয়া মাথায় নিয়ে ঘুরতে থাকলেন। ঠিক কিভাবে এটা বাস্তব করা যায়। এ ভাবনাতেই নিকের মগ্ন সময় কাটতে থাকে।

সমুদ্রের ঢেউয়ের ছবি তুলতে নিক সব সময়ই পাগল হয়ে থাকেন। অবশেষ সিদ্ধান্ত নিলেন একটা পরীক্ষামূলক কাজ করার। নিক ইলাস্টিক দিয়ে ক্যামেরা নিজের সঙ্গে বেঁধে নেমে গেলেন সার্ফিংয়ে। প্রথমে বুঝে ওঠার আগে ক্যামেরাতে পানি ঢুকে যেত। ক্যামেরা নষ্ট হয়ে গেল। নিক এবার প্লাস্টিক দিয়ে ক্যামেরা মুড়িয়ে নিলেন। তারপর ইলাস্টিক নিয়ে একইভাবে হাতের সঙ্গে বেঁধে নিলেন।

সফল পরীক্ষা। নিককে এখন কি করতে হবে তা বুঝতে পারলেন তিনি। সঙ্গে ছিল তার স্ত্রী। নিকের স্ত্রী বললেন তুমি শুধু সার্ফিংয়ের জন্য পরিধানযোগ্য এ ক্যামেরার কথা ভেবো না। আরও বড় করে চিন্তা করো। খেলার তো শেষ নেই। ড্রাইভিং গেম আছে। অ্যাথলিটিক্স আছে। খেলার তো শেষ নেই। খেলা ছাড়াও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব।

এরপর তো দুজন মিলেই মাঠে নেমে গেলেন। স্বামী-স্ত্রী মিলে ব্যবসা দাঁড় করানোর চেষ্টা শুরু করে দিলেন। কিন্তু ব্যবসার অর্থ নিয়েও কিছুটা চিন্তা করছিলেন নিক। ঠিক এ সময় মা তাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন। নিকের মা ব্যবসা দাঁড় করানোর জন্য তাদের ৩৫ হাজার ডলার দিলেন। নিক তখন প্রতিষ্ঠানের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন। নাম দিলেন ‘গো প্রো’।

ব্যবসা শুরু করেই যে সফল হলেন তা কিন্তু না। মানুষকে বোঝানোর একটা বিষয় তো আছে। এর প্রচারেও লোক দরকার। যিনি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান; বিশেষ করে খেলার বিভিন্ন ক্লাবগুলোতে যোগাযোগ করবে। কিন্তু এমন যোগ্য মানুষ পাওয়াও কঠিন। সিদ্ধান্ত নিলেন তাই নিকের স্ত্রী এ বিপণন প্রচারের দায়িত্বটি নিজের কাঁধে নিলেন।

শুরুতে পণ্যটি দেখতে তেমন আকর্ষনীয় ছিল না। তাই একে আকর্ষণীয় করতে সোচ্চার হয়ে উঠলেন নিক। প্রায় দুবছর সময় লেগেছে এ পণ্যটিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে। দীর্ঘ সময় পর ২০০৪ সালে হুট করেই জাপান থেকে ১০০টি পণ্য রপ্তানি করার কাজ পেয়ে যায় ‘গো প্রো’।

এ প্রসঙ্গে নিক বলেন, জাপানে আমরা ৩৫ মিমি হিরো ক্যামেরা বিক্রি করি ২ হাজার ডলারে। আমাদের চেষ্টা ছিল একটা বড় চুক্তি হবে। অবশেষে আমরা তা পেয়ে গেলাম। সঙ্গে সঙ্গে যেন আকাশ ছোয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম। পরে অবশ্য অন্য কায়েন্ট খোঁজার চেষ্টা তো করতেই হয়েছে।

ক্যামেরার নাম দেওয়া হয় ‘রিস্ট ক্যামেরা’। অর্থাৎ ঘড়ির মতই হাতে এ ক্যামেরা পড়া যায়। সার্ফিং খেলার চিন্তা দিয়ে জন্ম হলেও এ ক্যামেরাটি ড্রাইভিং গেমে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়। এখন উডম্যানের প্রতিষ্ঠান অনেক বড় হয়েছে। এখানে কাজ করছে ১৫০ কর্মী।

এবার আসা যাক নিক দু সপ্তাহ আগে কোটিপতি হয়ে গেলেন এ প্রসঙ্গে। প্রযুক্তিপণ্যের হার্ডওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফক্সকন ২০ কোটি ডলার নিয়ে কিনে নিয়েছে উডম্যানের ‘গো প্রো’। তবে এখনও ৫১ ভাগ মালিকানা আছে নিকের হাতেই। এর অর্থ নিক সফল হয়েছেন। শুধূ তাই নয়, এ মুহূর্তে নিক বিশ্বের সেরা ধনীদের তালিকায় নিজের নামটিও লিখে ফেলেছেন।

সুত্র: বিডিনিউজ


মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

অরন্য নিলয়

নীল আকাশ ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু পড়া লেখা করতে ইচ্ছে করে না :(

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/news/aronno-niloy/35882

2 comments

  1. sakam

    চমৎকার খবর!

  2. kazirhut.com
    kazirhut.com

    কপালে থাকলে ঠেকায় কে!
    ভাল লাগল পড়ে।

মন্তব্য করুন