«

»

পহেলা বৈশাখ – শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪১৮

আজ ১৪ই এপ্রিল, পহেলা বৈশাখ। বাংলা ১৪১৮ সন।

পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতেরপশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়. ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নেয়। সে হিসেবে এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন উৎসব। বিশ্বের সকল প্রান্তের সকল বাঙালি এ দিনে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়, ভুলে যাবার চেষ্টা করে অতীত বছরের সকল দুঃখ-গ্লানি। সবার কামনা থাকে যেন নতুন বছরটি সমৃদ্ধ ও সুখময় হয়। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা একে নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষ্য হিসেবে বরণ করে নেয়।এদিন সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। সবাই মেতে উঠে নববর্ষের আনন্দে। হিজরী সনে নতুন তারিখ শুরু হয় সন্ধ্যায় নতুন চাঁদের আগমনে। ইংরেজি দিন শুর হয় মধ্যরাতে। আর বাংলা সনের দিন শুরু হয় ভোরে, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে। কাজেই সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুর হয় বাঙালির পহেলা বৈশাখের উৎসব।

পহেলা বৈশাখ বাঙালির সর্ব শেরা উৎ‍সবের দিন ৷ পুরাতনকে ভুলে নতুনকে আলিঙ্গন করার দিন ৷ এদিন গোটা বাঙালি আলোড়িত হয়, আন্দোলিত হয় নতুনের শক্তিতে উদযেবিত হয়ে ৷

উৎসব সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র, দীন, একাকী ৷কিন্তু উৎসবের দিনে মানুষ বৃহৎ, সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহৎ, সেদিন সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া বৃহৎ।’

কবিরা গেয়ে উঠে;

তাকদুমা তাকদুমা দুম
ঢাকের বাদ্যি বাজে
নতুন বছর আসছে ঘরে
নতুন খুশীর সাজে!!!

আজকের এই দিনে পুরো বাংলাদেশ সেজে উঠে নতুন সাজে। নতুন বছরের প্রথমদিন উদযাপন করে নতুন উদ্দমে। গ্রামের মানুষ ভোরে ঘুম থেকে ওঠে, নতুন জামাকাপড় পড়ে এবং আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বাড়িঘর পরিষ্কার করা হয় এবং মোটমুটি সুন্দর করে সাজানো হয়। বিশেষ খাবার পান্তা ইলিশের ব্যবস্থাও থাকে। গ্রামের মিলিত এলাকায়, কোন খোলা মাঠে আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলার।

ছবিঃ গ্রামে অনুষ্ঠিত বৈশাখি মেলা।

মেলাতে থাকে নানা রকম কুঠির শিল্পজাত সামগ্রীর বিপণন, থাকে নানারকম পিঠা পুলির আয়োজন। অনেক স্থানে ইলিশ মাছ দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। এই দিনের একটি পুরনো সংস্কৃতি হলো গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন। এর মধ্যে থাকে নৌকাবাইচ, লাঠি খেলা কিংবা কুস্তির।

ছবিঃ সবার প্রিয় পান্তা ইলিশ

 

এ দিনে অনুষ্ঠিত হয় ভিবিন্ন নাচের গানের আয়োজন। বাংলা বর্ষ বরণ অনুষ্ঠাননে সবাই যোগ দিয়ে আরো আনন্দময় করে তোলে।

ছবিঃবাংলা বর্ষ বরণ অনুষ্ঠান।

শহরের মানুষ যায় রমনা পার্ক সহ বড় বড় পার্ক গুলোতে। এ দিন পান্তা ইলিশ না খেলে যেন কোন কিছু অপূর্ন থেকে যায়। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে পহেলা বৈশাখের মূল অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট-এর গানের মাধ্যমে নতুন বছরের সূর্যকে আহবান। পহেলা বৈশাখ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলত কন্ঠে গান গেয়ে নতুন বছরকে আহবান জানান। যদও স্থানটির পরিচিতি বটমূল হলেও প্রকৃত পক্ষে যে গাছের ছায়ায় মঞ্চ তৈরি হয় সেটি বট গাছ নয়, অশ্বত্থ গাছ। তবে তা এখন বটমূল নামেই সবার কাছে পরিচিত।

ছবিঃ বটমূলে শিল্পীদেররা সম্মিলত কন্ঠে গান।

ঢাকার বৈশাখী উৎসবের একটি আবশ্যিক অঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। চারুকলা ইনস্টিটিউট  আয়োজন করে পহেলা বৈশাখের এ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে সকালে এই শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলা ইনস্টিটিউটে এসে শেষ হয়। এই শোভাযাত্রায় গ্রামীণ জীবণ এবং আবহমান বাংলাকে ফুটিয়ে তোলা হয়। শোভাযাত্রায় সকল শ্রেণী-পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রার জন্য বানানো নয় রং-বেরঙের মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিলিপি। ১৯৮৯ সাল থেকে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখের উৎসবের একটি অন্যতম আকর্ষণ।

ছবিঃপহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা।

এছাড়াও নববর্ষ উদযাপনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রীরা সেরে নেয় বিশেষ প্রস্তুতি। তৈরি করে বিভিন্ন ভাষ্কর্য।

ছবিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রীদের প্রস্তুতি।

এছাড়া নববর্ষের আরেকটি আকর্ষন হচ্ছে হালখাতা। আকবরের সময়কাল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপন শুরু হয়। তখন প্রত্যেককে চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সকল খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে হত। এর পর দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হত। এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয় যার রুপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে। তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাঠের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। গ্রাম, শহর বা বাণিজ্যিক এলাকা, সকল স্থানেই পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাব বই খোলা হয়।

ছবিঃ হালখাতা অনুষ্ঠান।

হালখাতার দিন দোকানকে সাজানো হয় নতুন ভাবে। এ  দিনে দোকনদাররা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টান্ন আপ্যায়ন করে থাকে।

যদিও এলাকার প্রথা অনুযায়ী বাংলাদেশের এক জায়গায় এক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, তবুও পহেলা বৈশাখের এ দিনে সকল বাঙালি, হিন্দু , মুসলিম সহ সবাই জাতি বেদা বেদ ভুলে এ দিনটিকে একসাথে উদযাপন করে। এ বছর সবার আনন্দে কাটুক। সেই প্রত্যাশায়, সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ।

উল্লখ্য যে, টুইটটি তৈরি করতে বাংলা উকিপিডিয়া সহ সকল বাংলা সংবাদ প্রত্র ও গুগলের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেষ্ট হই! (সবার পড়া উচিত)
টেক ব্লগিং কন্টেস্ট ২০১১ এর বিজয়ীরা
নিজে নিজেই এ্যানিমেশন কার্টুন বানিয়ে নিন মাত্র ৫ মিনিটে। অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে, তাই না।
নতুন ব্যবহারকারীর জন্য কোন লিনাক্স ডিস্ট্রোটা সবচেয়ে ভাল?
আসুন Freelance.com সাইট নিয়ে কিছু গল্প শুনি ও সেই সাথে জেনে নিই আউট সোর্সিং বিষয়ের নানাবিধ প্রতিবে...
কবি শফিকুল রচিত একটি গণসঙ্গীত
কাজ শিখুন এবং চাকরি করে নিজের বেকারত্ব দূর করুন. সফল শিক্ষার্থীদের ১০০% চাকরির নিশ্চয়তা, নিজস্ব কোম্...

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

জাকির হোসাইন

প্রোগ্রামিং বা ফ্রীল্যান্সিং নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে টেকটুইটস সাহায্য বিভাগে পোস্ট দিতে পারেন অথবা আমাকে ফেসবুকে মেসেজ দিতে পারেন।

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/my-bangle/jakirbdl/3360

23 comments

Skip to comment form

  1. রাসেল

    পন্তা ইলিশের ছবি দেখে…..খেতে ইচ্ছে করছে……বৈশাখের আনুষ্ঠান খুব মিস করছি দেশের বাহিরে থেকে…….মনটা খারাপ হয়ে গেল…..আনেক ভালোবেসে টুইট করেছেন ……..এক কথায় আসাধারন……

    1. ঐ ছেলেটি
      jakir

      আবার দেশে আসলে খেয়ে যাবেন।
      ধন্যবাদ 🙂

  2. LuckyFM

    ভালই

    1. ঐ ছেলেটি
      jakir

      🙂

  3. সায়েম

    অসাধারণ লিখেছেন… তবে কাচামরিচের পরিবর্তে আরেকটি শুকনো মরিচ দিলে যা লাগতো না… 😉

    1. ঐ ছেলেটি
      jakir

      আপনি কাচামরিচ খাবেন না শুকনো মরিচ খাবেন তা তো আমি জানি না, তাই দুটি এক সাথে রাখলাম 😉

  4. sm asad

    প্রবাস থেকে দেশের বৈশাখের আনুষ্ঠান খুবেই মিস করছি, অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

    1. ঐ ছেলেটি
      jakir

      দেশে আসলে আশা করি আবার সবার সাথে মজা করতে পারবেন।

  5. টুইটার অনির্বাচিত

    অনেক সুন্দর হয়েছে টুইটটি, ছবিগুলোও সুন্দর। আমি আবার পান্তা ভাত বেশি খেতে পারি না। ধন্যবাদ টুইটের জন্য…

    1. ঐ ছেলেটি
      jakir

      পান্তা ভাত না খেতে পারলে ও এ দিন সবার সাথে ইলিশ দিয়ে খেতে মজাই আলাদা।

  6. ইমতিয়াজ

    পান্তা ইলিশ কেন দেখাইলেন ভাই 🙁 প্রায় ২ বছর হইলো খাই না। দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে…

    1. ঐ ছেলেটি
      jakir

      চলে আসেন, আজই…

  7. zahid hassan

    জাকির ভাই অসাধারন লিখেসেন । পয়লা বৈশাখের প্রায় সব আনন্দ ই ফুটিয়ে তুলেসেন ।
    জাকির ভাই আপনার সাথে আমার পান্তা ইলিস খেতে খুব ইচ্ছে করসে……………।।

    1. ঐ ছেলেটি
      jakir

      চলে আসেন সবাই মিলে এক সাথে খাবো…

  8. Rubel Orion

    আমারও জাকির ভাইয়ের সাথে পান্তা ইলিশ খেতে ইচ্ছা করছে। জাকির ভাই থাকতে নাকি তার সামনে বিল অন্য কেউ দিতেই পারে না।
    জাকির ভাই, পান্তা ইলিশের টুইট’র জন্য বিশেষ ধন্যবাদ।

    1. ঐ ছেলেটি
      jakir

      রুবেল ভাই আপনাকে আগামি শনিবারে খাওয়াবো সাথে কিন্তু মরিচ ও খাওয়ানো হবে, তাই রেডি হয়ে আসবেন 😛

    2. Rubel Orion

      🙁

    3. ঐ ছেলেটি
      jakir

      আরে সুখবর, আপনি কানছেন কেন?

  9. রাশেদ

    পান্তা ইলিশ ঠিক আছে, মাটির প্লেট হলে আরো ভাল হত

    1. ঐ ছেলেটি
      jakir

      হ্যা, তা আরো ভালো হত। ধন্যবাদ।

  10. MD. Hazrat ali

    মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’ আজ পহেলা বৈশাখ। আজ নববর্ষ। স্বাগত ১৪১৮।.

  11. hazrat ali

    তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে চড়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে— কিছুদূর যাওয়ার পর ট্রাফিক তাদের থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘একটি মোটরসাইকেলে তিনজন ওঠা আইনত অপরাধ, এটা আপনারা জানেন?’ জানি, জবাব দিল একজন। ট্রাফিক রেগে বলল, ‘জানেন তো একটি মোটরসাইকেলে তিনজন উঠেছেন কেন? জেনেশুনে অপরাধ করব না বলেই তো আমাদের একজনকে বাসায় রেখে…

  12. hazrat ali

    চৈত্রের খরতাপে পথঘাট, জমিজমা ফেটে চৌচির হয়ে যায়। রুক্ষ্ম মাটির বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ফসল কৃষাণির চোখে স্বপ্ন বুনতে পারে না। কালবৈশাখীর আশঙ্কায় তার প্রতিটি ক্ষণ কাটে অজানা আতঙ্কে। ঠিক তখনও গাঁয়ের কৃষাণি বধূটি সব অজানা আশঙ্কাকে সঙ্গে করে বাড়িঘর পরিষ্কার করে। উঠান ঝাড়ু দেয়। মাটির

মন্তব্য করুন