«

»

আমাদের স্বাধীনতা এবং স্বপ্নগুলি।

১৯৭১ সাল, রক্তক্ষয়ি সে যুদ্ধ, সে যুদ্ধ আমরা দেখিনি কিন্তু আজো আমাদের নাকে লাগে লাখো মানুষের গলিত লাসের গন্ধ! কানে বেজে চলে রক্তজবার ছেয়েও লাল রক্ত প্রবাহের ছলছল শব্দ। সে আত্তত্যাগের চিরযৌবন্ময় ছায়া আজো হেটে চলেছে আমাদের একা পথচলায়। সে মহান আত্তত্যাগের স্বপ্ন ছিল বাংলার মাঠে মাঠে ফল্বে ফসল, শিশুর মুখে লেগে থাকবে হাসি, মাটির সোদা গন্ধে মাতাল হব এক কাতারে । আজ স্বাধীনতার ৪০ বছর পার করে এসে সত্যিকার অর্থে কি আমরা পেরেছি স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করতে? বর্তমান প্রেক্ষাপটের দিকে তাকালে স্রেফ দেখা যায় আমরা আমাদের পথ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি, প্রশ্ন জাগতেই পারে লাল সবুজ পতাকার নিচে দাঁড়িয়ে কিভাবে এমন বাক্য উচ্চারিত হয় আমাদের মুখে? আমরা এখন আমাদের নিজেকে নিয়েই ব্যাস্ত, অন্যকে মেরে বেচে থাকার তীব্র লড়াই করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত!

প্রতি পাচ বছর অন্তর আমরা দেশের অভিভাবক নির্বাচন করি, কিন্তু দুঃখের ব্যাপার ঐ সময়টুকুকে তারা নিজেদের জন্য সূবর্ন সুযোগ মনে করে পাচতলা বাড়ীটাকে কিভাবে টেনে দশ্‌তলায় নিয়ে নেওয়া যায় আর পরবর্তি নির্বাচনে নিজেদের স্থান টাকে নিশ্চিত করার কাজে। একি সময়ে বিরোধি দল ব্যাস্ত থাকে সরকারের দাগাংকিত মুখে আলপনা আঁকার কাজে। সরাসরি সরকারের প্রসংগটা একারনেই আনলাম যে আমাদের সব স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রধান দায়িত্ত সরকারের-ই । ইতিহাস ঘেঁটে জেনেছি তখনকার সময় কাজ করেছেন শেখমুজিবুর রহমান, মাওলানা ভাসানি, জিয়াউর রহমান, এম.এ.জি. ওসমানী, ক্যাপ্টেন মন্সুর আলী প্রমুখ, কই তারা তো কাজ করেছেন দলমত নির্বিশেষে, রেস্কোর্সের ভাষণকে তো সমালোচনার তীরে বিদ্ধ করেন্‌নি কেউই, তাদের কর্মে শিখিয়েছেন যে তারা ভিন্ন ভিন্ন প্রান নয় বরং একি প্রানের ভিন্ন সত্তা । আর আজ আমরা খারাপ ছাত্র , শিখেছি ভিন্ন প্রতিশব্দ শিখেছি তার উল্টোটা যা তারা শিখিয়ে গেছেন। আমরা আজ দেখতে বাধ্য হচ্ছি আওয়ামিলীগ, বি.এন.পি দুটি ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দা, তাদের কাছে প্রশ্ন থাকবে কেন আপামর জনতাকে বাধ্য করছেন অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়তে? নতুবা বলতে হবে যোগ্যতার খাতায় ভুল করে আপনাদের নাম লিখা হয়েছে!

স্বাধীনতার সূর্য একটা, দয়াকরে এই সূর্যকে দুভাগ করবেন্‌না। ‘রাজনৈতিক এই বৈষম্য থেকে আমরা চিরতরে মুক্তি চাই’ এটি আমাদের নতুন স্বাধীনতার যুদ্ধের এক প্রধান ইশতেহার।

আমাদের দেশে কি সম্পদের অভাব আছে? তবুও আমরা দিনের পর দিন পররাষ্ট্র নির্ভর হয়ে যাচ্ছি। এটা কোন ভ্রান্ত ধারনা নয় আমাদের অর্থনীতির দিকে তাকালে তা সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে। নিজের দেশে উৎপাদিত শষ্য সাধারন জনতার নাগালের বাহিরে যেখানে কিছু কম মূল্যে আমরা অনায়াসেই পাচ্ছি পার্শবর্তি দেশের পন্য। খরচ বাচাতে বাজারের ব্যাগে নিজেদেরটা আমরা কখনোই ঢুকাব না এটাই স্বাভাবিক! এভাবেই আমাদের অর্থনিতির মরচে পড়া চাকা পররাষ্ট্রএর দিকে ধাবমান। এভাবে চলতে থাকলে আদৌ কি আমরা সয়ংসম্পূর্নতা অর্জন কর‍্তে পারব?

আজ আমরা ছাত্ররা দেশের মাটিতে পড়ালেখা শেষ করে বাক্স-পেটরা ঘুচিয়ে বিদেশ পাড়ি জমাই, নিজেদের অর্জিত সম্পদ কে নিরন্তর বুনে যাই অন্যের লোভনিয় বাগানে। তাহলে দেখা যাচ্ছে আমাদের মেধাও নিজেদের অজান্তে প্রাচার হয়ে যাচ্ছে পার্শবর্তি দেশগুলোতে। এর দায় কে নেবে, সরকার, ছাত্র-ছাত্রিরা, অভিভাবক নাকি কোন কালো শক্তি? সরকারের পক্ষ থেকে যদি উপযুক্ত সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হয়, প্রতিটা কাজকেই সমান ভাবে মূল্যায়ন করা হয় তাহলে যুবসমাজ বাহিরে দৃষ্টি ফেলবেনা দৃষ্টি ফেলবে বাড়ির পাশে পড়ে থাকা জমিটির দিকে, হোক সেটা কৃষিকাজ তাতে কারো কিছু যায় আসবেনা বরং বহির্বিশ্বের জন্য আমরা হব শিক্ষনিয় মডেল আজ যারা লুকানো ফাঁদ পেতে আছে আমাদের প্রতিটি সম্ভাবনার দুয়ারে দুয়ারে।

আজ আমরা ক্ষুদ্র সার্থের জন্য বৃহৎ সার্থকে গলা টিপে হত্যা করছি, তাই স্বাধীনতার পূর্ন রস আস্বাদনের জন্য আমাদের বেরিয়ে আস্‌তে হবে রাজনৈতিক বৈষম্য থেকে , সামাজিক বৈষম্য থেকে, বেরিয়ে আস্‌তে হবে অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে। একি সাথে যুগের সাথে তাল মিলাতে এগিয়ে যেতে হবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দিকে, আজ যা সময়ের দাবি। শুধু মুখের কথাতেই সীমাবদ্ধ থেকে নয় নিজ নিজ স্থান থেকে প্রত্যেক্‌কেই কাজ করতে হবে নিজের জন্য, নিজের দেশের জন্য।

ভাবতে হবে আমিই একমাত্র দেশ্মাতৃকার সৈনিক যে এখনো পর্যন্ত বেচে আছি আর আমার উপরই নির্ভর করছে আগামিকালের সূর্যদয়। নিজেদেরকে আলাদাভেবে নয় এক কাতারে দাঁড়িয়ে কাজ করে যেতে হবে বাংলাদেশকে সারাবিশ্ববাসির কাছে অনুকরণীয় মডেল হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য, ১৯৭১ এর উতসর্গ করা প্রতিটি রক্তকনার উপযুক্ত মুল্য দেয়ার জন্য, প্রতিটি আত্তত্যাগের পরিশুদ্ধির জন্য । তাহলে আবারো আমরা স্বপ্ন দেখব বাংলার আকাশে উড়ছে সাদা চিল, প্রতিটি মাঠে মাঠে ফলছে ফসল, প্রতিটি ফুলে মিশে থাকবে শিশুর হাতের কোমল ছোঁয়া আর তার প্রানবন্ত হাসিতে প্রতিবিম্ভিত হবে সাধিন বাংলাদেশের চিরউজ্জল সোনালি অভয়ব।


এ সম্পর্কিত আরো কিছু টুইট:

মাতৃভাষা বাংলায় ব্যবহার করুন আপনার কম্পিউটারঃ ডিজিটাল জোন
জেনে নিন বাংলা যুক্ত শব্দ লিখার পদ্ধতি
সকল বাংলা ওয়েব সাইট/ব্লগের পাশে টেকটুইটস।
মোবাইল ও কম্পিউটারে বাংলা লিখুন ফোনেটিক পদ্ধতিতে সাথে কিছু বাংলা টুলস
মোবাইল প্রেমীদের জন্য একটি দারূন সুখবর!! মিলিয়ে নিন কোন ফোন’টি আপনার চাই...।
কবি শফিকুল রচিত একটি গণসঙ্গীত
এ্যান্ড্রয়েড ফোন দিয়েই ছবিকে ফ্রেমে বাঁধুন, ছবি করুন আকর্ষণীয়!!

মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

Mehedi

বিজ্ঞানের এই জগৎটা একটা নিরন্তর পুনবর্ণর্নার, পুনঃআবিষ্কারের জগৎ । যিনি যত নিষ্ঠার সাথে বয়ান করে যাবেন, তাঁর তত বেশি আবেদন। আমরা যারা ক্ষুদ্রের কাছেও ক্ষুদ্র তাদের মজাটাও যে বয়ানে, যে বয়ান যত নিবিষ্ট, যত বাস্তব, তত তার জীবনের সমান্তরাল হয়ে ওঠা। বিজ্ঞান জীবনের বিকল্প নয়, জীবনের বিকল্প আসলে কিছু হতে পারেনা।

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/my-bangle/bright-space/17530

3 comments

  1. MNUWORLD

    সোনালী বাংলাদেশের অপেক্ষায়।

  2. Mehedi

    প্রতিটি আত্তাই পাক স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ। আমাদের হাসি হোক আজ একতার বন্ধনে চির আবদ্ধ ।

মন্তব্য করুন