«

»

অনুপম শুভ্র

বিষণ্নতার মূলে জিনের কারসাজি — যে কারনে মানুষ বিশণ্নতায় ভুগে

হাসিখুশি থাকতে পারাটা ভালো। এতে অনেক জটিলতা কেটে যায়। হাসিমুখে বসে বিবেচনা করলে অনেক জটিল সমস্যার গ্রন্থি পর্যন্ত খুলে যায়। মাথা গরম করে কিংবা মনভরা বিষাদ নিয়ে কাজ করলে অনেক সময় সহজ জিনিসটাও গোলমেলে ঠেকে। চিকিত্সকরা তাদের রোগীদের হাসিখুশি থাকতে বলেন। রোগের চিন্তায় মাথা বোঝাই না করে সুন্দর ও উপভোগ্য কিছু করতে বা ভাবতে বলেন। এতে রোগের অনেকটা উপশম ঘটে বলে মনে করেন তারা।
আজকাল আকছার হার্টের রোগ হচ্ছে। রক্তের চাপ বাড়ছে। সাংসারিক নানা ঝামেলায় মন সারাক্ষণ বিক্ষিপ্ত কিংবা বিষণ্ন থাকে। এতে মানুষের অকালমৃত্যু ত্বরান্বিত হয় বলে বিশ্বাস করেন মনোচিকিত্সকরা। চিকিত্সকদের এসব কথা শুনে এটা মনে হতে পারে, বিষণ্নতা নেহাতই মনের একটা বিশেষ অবস্থা এবং চাইলে এটাকে ঝেড়ে ফেলা যায়। তবে সম্প্রতি আমেরিকাপ্রবাসী এক বাঙালি মনোবিজ্ঞানী বিষণ্নতার মূলে একটা জিনের কারসাজি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, অন্যান্য রোগ যেমন জিনের কারণে হয়ে থাকে, তেমনি বিষণ্নতার মূলেও রয়েছে জিনঘটিত ব্যাপার-স্যাপার। সূত্র দ্য মেইল
নতুন এই গবেষণায় এটা নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এমন এক জিন রয়েছে, যা মানুষের মস্তিষ্কের সেরোটনিনে মিশে তার মানসিক অবস্থাকে জটিল করে তোলে। এর প্রভাবে মানুষ এমনকি তার মানসিক শৃঙ্খলা হারিয়ে ফেলতে পারে এবং নিজেকে শেষ করে দিতে পর্যন্ত প্রণোদিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিগান ইউনিভার্সিটির মনোবিদ্যার অধ্যাপক ড. সৃজন সেন আর্কাইভস অব দ্য জেনারেল সাইকিয়াট্রি সাময়িকীতে লিখেছেন, বাল্যকালে আপনি কোনো সমস্যায় পড়েছিলেন। সেটা যত ভয়ঙ্করই হোক, সময়ের ধুলো তার ওপর বিস্মৃতির প্রলেপ ফেলবেই। কিন্তু মস্তিষ্কের সেরোটনিনে ওই জিনের উপস্থিতি থাকলে ওই ভয়ঙ্কর স্মৃতি ভবিষ্যতেও মানুষের মনে তার পুরো বিরূপতা নিয়ে দেখা দিতে পারে। ওই স্মৃতি মানুষের মনে স্থিতিশীলতা নষ্ট করে দিতে পারে। ওদিকে একজন মানুষ সাংসারিক জটিলতা কিংবা শারীরিক অসুস্থতাকে খুব বড় করে দেখে—তার মনে যে কোনো ঝুট-ঝঞ্ঝাট সমাধানের অতীত বলেই প্রতিভাত হয়। এরই কারণে কখনও সে বিক্ষিপ্ততায় ভোগে কিংবা বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়।
মানুষের বিষণ্নতার কারণ হিসেবে আগেও অবশ্য জিন ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার কথা বলা হয়েছিল। সেটা ২০০৩ সালের কথা। সে সময় এটা নিয়ে তেমন আলোচনা না হলেও ড. সেনের এই গবেষণা আগের সে গবেষণাকেই নতুন এবং আরও শক্ত করে উপস্থাপিত করেছে।


মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

অনুপম শুভ্র

অনুপম শুভ্র

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/health-medicine/0shuboo/33128

মন্তব্য করুন