«

»

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতারনা, ২০১০-১১ সেশনের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রছাত্রীরা অবশ্যই দেখুন।

আমার মত গরিব ঘরের সন্তানরা প্রাইভেট ভার্সিটি তে পড়তে পারিনা। তাই ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হই। জানি এখানে আছে সেশন জট এর ঝামেলা। তবুও অনার্স তো পড়তে হবে। অনার্স প্রথম বর্ষের পরিক্ষা দিলাম ডিসেম্বর মাসে। ফল প্রকাশ করা হল জুলাই মাসে। দীর্ঘ ৭ মাস পর ফলাফল হাতে পেলাম। প্রথমে মনে হয়েছিল সোনার হরিণ। কিন্তু না, আমি যেরকম পরিক্ষা দিয়েছি, আমার ফলাফল তার ২% ধারে কাছেও না। বুঝতে পারলাম যে, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর শিক্ষকরা ইদানিং ” গাজা” খেতে শুরু করেছে। একমাত্র এইটার প্রভাবেই এইরকম ভাবে খাতায় নাম্বার দেয়া সম্ভব।

কিন্তু আমার সেই ভাবনাটাও ভুল ছিল। পড়ে জানতে পারলাম, প্রাইভেট ভার্সিটির দালাল রা তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ খাইয়ে এই ধরনের কাজ করিয়েছে। যাতে আমাদের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর উপর চরম অনিহা আসে এবং সবশেষে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি গুলাতে ভর্তি হই। এই হল ভেতরের কথা।

এবার আসি তারা আশলেই কি প্রতারনা আমাদের সাথে করেছে?

গ্রেডিং পদ্ধতি সমন্ধে আমাদের কনরুপ অবগত না করেই, নিজেদের ইচ্ছা মত ফলাফল এর আগে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করেছে।

কলেজ ওয়াইজ ফলাফল গুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন, প্রথম ১০ জন এর ফলাফল এক রকম। একইভাবে পরের ১০ জনের ফলাফল একইরকম।

অজানা নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি এর করনে ৮০% ছাত্রছাত্রীরই ফলাফল এসেছে নট প্রোমটেড। যার ফলে ১ম বর্ষের ছাত্রদের আবার ১ম বর্ষে থাকতে হবে। আবার ৬-৭ বছর!!!!!!!!!!

এত ধৈর্য রাখি কই…

এইসব কারন ছাড়াও, আরও অনেক কারন এর জন্য গত ৪ দিন যাবত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্রছাত্রীরা তাদের নিজ নিজ এলাকাতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। যেটাকে আমি সাগতম জানাই। কিন্তু এতে তেমন কোন আশানুরুপ ফল আমরা এখন পাইনি।

কথায় আছে না “দশের লাঠি, একের বোঝা”

এবার সবাই একসাথে নামবো। আপনারও আশবেন।

যেখানে আন্দোলন অনুষ্ঠিত হবে

সময়ঃ আগামি কাল মঙ্গলবার সকাল ১০.০০ টায়।

স্থানঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজিপুর, ঢাকা।

বাংলাদেশের প্রায় সব জেলা থেকেই ছাত্রছাত্রীরা আশবে। আপনিও এর একজন অংশীদার হউন। আপনার কলেজকেও অংশগ্রহণ করান।

আমাদের দাবী গুলো

১। খাতা পুনরায় মুল্লায়ন করে অতি শীঘ্রই প্রকাশ করতে হবে।

২। গ্রেডিং পদ্ধতি বাতিল করতে হবে।

৩। প্রোমটেড হওায়ার জন্য কনো পয়েন্ট নিরধারণ করা যাবে না।

৪। সেশন জট নিরশনে বর্ষ পদ্ধতি বাদ দিয়ে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করতে হবে।

৫। সব পরিক্ষার ফলাফল ৩-৪ মাসের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে।

অন্যায় অবিচার সহ্য করার দিন শেষ। আসুন সবাই একসাথে গর্জে উঠি ওই রক্তপিপাসুদের বিপরিতে।

সবাইকে ধন্যবাদ।


মন্তব্য দিনঃ

comments

About the author

Filemaker

Permanent link to this article: http://techtweets.com.bd/discussion/ahmed/45213

মন্তব্য করুন